1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মাওবাদী হামলা প্রতিরোধে সরকার কেন ব্যর্থ

ভারতের ছত্তিশগড়ের বস্তার এলাকায় জবরদস্ত মাওবাদী হামলায় ২৭ জন কংগ্রেস নেতা-কর্মীর গণহত্যা প্রমাণ করে দিল সরকারের প্রতিরোধ কাঠামো কত ভঙ্গুর৷ তাই সরকারি মহলে মাওবাদী দমনের কৌশল নীতি নতুন করে ঢেলে সাজাবার ভাবনা শুরু হয়েছে৷

বিজেপি-শাসিত ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বস্তার অঞ্চলে কংগ্রেসের পরিবর্তন যাত্রা এবং বিজেপির বিকাশ যাত্রা মাওবাদীদের নিশানা হতে পারে – এমন খবর ছিল গোয়েন্দাদের হাতে৷ খবর ছিল, ঐ এলাকার দরভা ও টোংপালে কংগ্রেস পার্টির কনভয়ের ওপর জবরদস্ত হামলার ছক কষছে মাওবাদীরা৷ বস্তারের বিভিন্ন এলাকায় জনমত সংগঠিত করছে তারা৷ এর প্রেক্ষিতে মাওবাদী উপদ্রুত এলাকায় শনিবারের গণহত্যা প্রতিরোধে সরকারের তরফে যে-রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল তা নেয়া হয়নি, এ কথা স্বীকার করেছেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷

কংগ্রেস কনভয়ের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে মাওবাদীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের হিটলিস্টের শীর্ষে থাকা ‘সালওয়া জুড়ুম' উপজাতি মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের হোতা কংগ্রেসের মহেন্দ্র কর্মাকে শাস্তি দিতেই ঐ হামলা৷ মাওবাদীদের মোকাবিলায় উপজাতিদের নিয়ে গঠন করা হয় ঐ মিলিশিয়া বাহিনী৷ সুপ্রিম কোর্ট তা রদ করার নির্দেশ দিলেও তা কার্যত রদ করা হয়নি৷ বরং পরোক্ষভাবে তা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এক সমাজবিজ্ঞানী৷

Supporters of the Congress party hold placards and shouted anti-Chhattisgarh government slogans during a protest against a recent Maoist attack on congress party workers, in the western Indian city of Ahmedabad May 27, 2013. Suspected Maoist rebels killed at least 19 people when they ambushed a convoy carrying regional leaders from India's ruling Congress party in dense forest in Chhattisgarh state on Saturday, officials said, one of the deadliest such attacks in recent years. REUTERS/Amit Dave (INDIA - Tags: CIVIL UNREST POLITICS)

ভারতের ছত্তিশগড়ের বস্তার এলাকায় জবরদস্ত মাওবাদী হামলায় ২৭ জন কংগ্রেস নেতা-কর্মীর গণহত্যা প্রমাণ করে দিল সরকারের প্রতিরোধ কাঠামো কত ভঙ্গুর

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাওবাদীদের শক্তি সম্পর্কে সরকারের সঠিক ধারণা নেই৷ ৭০-এর দশকে নক্সাল আন্দোলন আর আজকের মাওবাদী আন্দোলনের শক্তির মধ্যে ব্যবধান আকাশ-পাতাল৷ ২০০৪ সালে নক্সালদের তিনটি শাখা একত্রিত হবার পর এদের শক্তি বেড়ে গেছে বহুগুণ৷ এখন মাওবাদীরা ২৫ হাজার প্রশিক্ষিত, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত এক মাওবাদী গেরিলা বাহিনী৷ এদের পেছনে আছে সমর্থক বাহিনী৷ মজবুত হয়েছে এদের সংগঠন৷ এখন মাওবাদীদের স্রেফ আইনশৃঙ্খলা সমস্যা বলে মনে করা মারাত্মক ভুল৷ মাওবাদী সহিংসতার মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যকে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী এক স্ট্র্যাটিজি৷

কেউ কেউ মনে করেন রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হবে৷ নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা কম বলে কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী, সিআরপিএফ, নিজেদের এবং সাধারণ নাগরিকদের বাঁচাতে আত্মরক্ষামূলক কৌশল নিচ্ছে৷ সিআরপিএফ-এর ট্রেনিং পদ্ধতিতেও গলদ আছে৷ বিশেষ অঞ্চল-নির্ভর গেরিলা যুদ্ধ কৌশলে তাঁরা অপারগ৷ ‘গ্রিন হান্ট'-এর মতো বিশেষ মাওবাদী দমন অভিযান কার্যত তাই সফল হয়নি৷ আবার এটাও দেখা গেছে নাগাল্যান্ড ও মনিপুরের মত জঙ্গি উপদ্রুত রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি৷

পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী উপদ্রুত জঙ্গল মহল দেড়-দু'বছর শান্ত থাকার পর আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী ও কর্মীদের ওপর মাওবাদী হামলার আশঙ্কা আছে বলে গোয়েন্দা দপ্তর থেকে আভাস দেয়ার পর রীতিমত চিন্তিত রাজনৈতিক দলগুলি৷ সংসদীয় নির্বাচনে রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলি এড়ানো সম্ভব হলেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গল মহলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলি বাদ দেয়া সম্ভব নয়৷ সেটা মাথায় রেখে রাজ্য পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করছে এবং রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন