1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

মাইন অপসারণে বাংলাদেশ-মিয়ানমার একমত

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যার যার সীমান্ত এলাকা থেকে পুঁতে রাখা স্থলমাইন ও আইআইডি (ইমপ্রোভাইস্ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)  অপসারণে সম্মত হয়েছে৷ বলা হয়ে থাকে, বিদ্রোহীরাই নো-ম্যান্স ল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে এ সব পুঁতে রেখেছে৷

Jemen Regierungstruppen erobern Hafenstadt Mocha am Roten Meer (Getty Images/AFP/S. Al-Obeidi)

ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের দৃশ্য

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সাতদিনের সীমান্ত বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিসুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে শূন্য লাইনের আশেপাশে পুঁতে রাখা মাইন ও আইইডি অপসারণে সম্মত হয়েছে৷ এতদিন এসব মাইন বিস্ফোরণে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘মাইন ও বিস্ফোরক পুঁতে রাখার কারণে বাংলাদেশের সীমান্তের কিছু জায়গায় আমরা এখনও যেতে পারি না৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী বা অন্য কোনো গ্রুপ এসব মাইন বা বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছে৷ বিজিবি এখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সম্মতি নিয়ে ঐ মাইন ও বিস্ফোরক সরানোর চেষ্টা করছে৷''

সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের চিফ অফ পুলিশ জেনারেল স্টাফ (মিয়ানমার পুলিশ ফোর্স) মেয়োসেও উইন উপস্থিত ছিলেন৷ জানাগেছে, মাইনের পাশাপাশি সীমান্তে হাতে তৈরি বোমা এবং গ্রেনেডও পুঁতে রাখা হয়েছিল৷ বিভিন্ন সময় এই সব মাইন ও বিস্ফোরক উদ্ধারও করা হয়৷ এখন বিদ্রোহীদের কথা বলা হলেও, গত কয়েক বছরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এ সব মাইন পুঁতে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ তবে গ্রেনেড বিষ্ফোরক বিদ্রোহীরা লুকিয়ে রাখার জন্য পুঁতেছে বলেই জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো৷

অডিও শুনুন 04:30

‘শুধু মানুষ নয়, বন্য হাতিসহ আরো অনেক প্রাণী মাইন বিষ্ফোরণে মারা যায়’

২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৪৯ নম্বর পিলারের নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে ১২টি স্থলমাইন উদ্ধার করে বিজিবি৷ গতবছরের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ-ভারত-মায়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন আহত হন৷ রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়নের জারুল্যাছড়ি পয়েন্টে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে৷ ২০১৪ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে মাইন স্থাপনের প্রতিবাদ এবং বন্ধের দাবি করা হয়৷ একাধিক সূত্র জানায়, গত পাঁচবছরে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে অনন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন৷ নিহত হয়েছে হাতিসহ বন্যপ্রাণীও৷

বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ২৭১ কিমি. সীমান্ত রয়েছে৷ এর মধ্যে ২০৮ কিমি. স্থল সীমান্ত এবং ৬৪ কিমি. নৌ সীমান্ত৷ কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক এবং দৈনিক রূপালী সৈকতের সম্পাদক ফজলুল কাদের চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘১৯৯১ সাল থেকে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় ব্যাপকভাবে মাইন পোতা হয়৷ আমরা তখন প্রায়ই মাইন বিস্ফোরণে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার খবর পেতাম৷ এঁদের অধিকাংশই ছিল কাঠুরিয়া৷ শুধু মানুষ নয়, বন্য হাতিসহ আরো অনেক প্রাণী মাইন বিষ্ফোরণে মারা যায়৷''

তাঁর কথায়, ‘‘মাইন পুঁতে রাখার জন্য এখন বিদ্রোহীদের দায়ী করা হলেও, তার যৌক্তিকতা দুর্বল৷ কারণ বিদ্রোহী, চোরাচালানকারী বা অবৈধ ব্যবসায়ীরা সীমান্তে মাইন পুঁতলে তাদেরই সমস্যা৷ কারণ এতে তাদের যাতায়াতে অসুবিধা হয় বা ঝুঁকি বেড়ে যায়৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এ সব মাইন পোঁতা হয়েছে নো-ম্যন্স ল্যান্ডে সীমানা পিলারের আশেপাশে৷ নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে ঘুমঘুম সীমান্ত এলকা সবচেয়ে বিপজ্জনক৷ ঐ সব এলকার সীমান্তে যাঁরা থাকেন তাঁদের মধ্যে মাইন আতঙ্ক একটি বড় আতঙ্ক৷''

তবে তিনি জানান, ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে আগের চেয়ে এখন মৃত্যুর হার কমেছে৷ বিস্ফোরণও আগের মতো হয় না, যেটা হতো এখন থেকে ১০-১৫ বছর আগে৷

ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ল্যান্ড মাইন্স বা আইসিবিএলএম-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছে৷ এঁরা মূলত কাঠুরিয়া বা বনজীবী৷ আহত হয়েছে আরো ৮৭ জন৷

জানা গেছে, সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন ভূমিক্ষয়সহ নানা কারণে সরে গিয়ে কৃষিভূমি বা লোকালয়েও চলে যায়৷ এ রকম বেশ কিছু মাইন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিভিন্ন সময় অপসারণ করেছে৷

প্রতিবেদনটি নিয়ে আপনার মন্তব্য জানান, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়