1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মহাসেনের দুর্বল আঘাত, তবে ঠিক নেই গতিপথ

ঘূর্ণিঝড় মহাসেন চরম আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বাংলাদেশ৷ বেশ দুর্বল হয়েই মহাসেন বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে৷ তবে এতেও উপকূলীয় জেলাগুলোতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷

পূর্বাভাস ছিল মহাসেন আঘাত হানবে কক্সবাজারে৷ কিন্তু ঘটলো উল্টো ঘটনা৷ বৃহস্পতিবার ভোর ৭টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে বরগুনার খেপুপাড়ার মেঘনা মোহনা থেকে৷ তখন ঝড়ের গতিবেগও ছিল ঘণ্টায় ১০০ কি.মি.৷ সেই আঘাতে বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা ও পিরোজপুরের মতো উপকূলীয় এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ ভোলার চরফ্যাশান উপজেলার মোজাম্মেল হোসেন জানান যে, তাঁরা আতঙ্কে সারা রাত ঘুমাননি৷ তার ওপর সকালে শুরু হয় প্রবল বাতাস এবং বৃষ্টি৷ তিনি জানান, তাঁদের এলাকার গাছপালা, কাঁচা ঘরবাড়ি ঝড়ের তাণ্ডবে টিকতে পারেনি৷ ক্ষতি হয়েছে ফসলেরও৷

এছাড়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সোহেল আহমেদ জানান যে, পানির তোড়েও অনেক ঘড়বাড়ি ভেসে গেছে৷ কোনো কোনো এলাকা ভেরি বাঁধ ভেঙে পানির নীচে তলিয়ে গেছে৷ আর মোবাইল ফোনের টাওয়ার এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায়, অনেক এলাকা যোগাযোগ ও বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছে৷

পটুয়াখালীর সাংবাদিক জাহিদ হোসেন পিন্স জানান, পটুয়াখালী, ভোলা এবং বরগুনায় ১১ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ তাঁরা ঘর ও গাছ চাপা পড়ে মারা যান৷ তিনি জানান, এই জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগেই আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়৷

এদিকে সবচেয়ে আতঙ্কের জনপদ কক্সবাজার বলতে গেলে নিরপদই আছে৷ দুপুরের দিকে দুর্বল মহাসেন নোয়াখালি হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড অতিক্রম করে৷ কক্সবাজারে দুপুরের পর দেখা যায় ঝলমলে রোদ৷ তবে ওইসব এলাকায় জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে৷

ওদিকে রাজধানী ঢাকায় রাত থেকেই প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন অচল হয়ে পড়ে৷ শুধু নিম্নাঞ্চল নয়, রাজধানীর প্রধান সড়কও পানির নীচে চলে যায়৷ স্বাভাবিকভাবেই এত নগরবাসীকে পড়তে হয় চরম বিড়ম্বনায়৷

বিকেলে দুর্বল মহাসেন বাংলাদেশ অতিক্রম করে মিয়ানমারে চলে যায়৷ দেশের সমুদ্র, নৌ ও বিমানবন্দর আবার স্বাভাবিক হয়ে এসেছে৷ নামিয়ে ফেলা হয়েছে বিপদ সংকেত৷

মহাসেনের গতিপথ নিয়ে ঢাকার আবহাওয়া দপ্তর যে ভুল তথ্য দিয়েছিল, তা এখন আর তারা স্বীকার করতে চাইছে না৷ ঢাকা অফিসের আবহাওয়াবিদ এবং পরিচালক মো. শাহ আলম ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন যে, তারা বলেছিলেন মহাসেনের গতিপথ হবে বরগুনা পটুয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের দিকে৷ আর সেরকমটাই হয়েছে৷ সংবাদ মাধ্যম ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে কক্সবাজারে আঘাত করবে বলে জানিয়েছিল৷ তবে একুশে টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক আরিফ রেজা মাহমুদ বলেন, তারা আবহাওয়া দপ্তরের পাঠানো বুলেটিন অনুযায়ী খবর প্রচার করেছেন৷ শাহ আলম বলেন, প্রবল বৃষ্টির কারণে উপকূলে আঘাতের আগেই মহাসেনের তীব্রতা কমে দুর্বল হয়ে যায়৷ তাই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক কম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন