1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

মহান সুযোগ এবং ঝুঁকির দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্বকাপ ফুটবলের ১৯তম আসর৷ চূড়ান্ত পর্বের খেলাগুলো এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশে৷ এছাড়া ১৯৭৮ সালের পর দক্ষিণ গোলার্ধের শীতের মধ্যে এটিই হবে প্রথম বিশ্ব ফুটবলের আসর৷

default

প্রথম আয়োজক দেশ হিসেবে কমপক্ষে গ্রুপ পর্যায়ও পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না এমন ইতিহাস গড়তে দিতে নারাজ বাফানা বাফানারা৷ তবে খেলার মাঠে সাফল্যের চেয়ে সফলভাবে এই বিশাল আসর সম্পন্ন করার দিকেই বোধ হয় বেশি নজর দিতে হচ্ছে আয়োজক দেশের নেতৃবৃন্দকে৷ তাঁদের সামনে রয়েছে অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা বিষয়ে গভীর উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা৷ এদিকে, আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি গত বছরের মন্দা থেকে উত্তরণের জন্য এখনও জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ বর্তমানে সেখানে প্রতি চারজনে একজন কর্মহীন৷ এখনও বেশ চাপের মুখেই রয়েছে দেশটির আবাসন খাত৷ এমতাবস্থায় ফুটবলের বৃহত্তম আসরের আয়োজনকে একটা বড় সুযোগ এবং অন্যদিকে ঝুঁকি হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা৷

আফ্রিকার মাটিতে প্রথম এই বিশ্বকাপ আসর আয়োজনে ইতিমধ্যে দেশটির জাতীয় এবং আঞ্চলিক সরকারগুলো ব্যয় করেছে ৪০ বিলিয়ন রান্ড৷ অধিকাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে সেখানকার রাস্তা-ঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে৷ আর এই আসর আয়োজনের ফলে চলতি বছরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে ০.৫ শতাংশ, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের৷ আশা করা হচ্ছে, আর ক'দিন পরেই শুরু হওয়া ফুটবল আসরে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের প্রায় আড়াই লাখ ভক্ত টিকেট কাটবে গ্যালারিতে বসে নিজেদের দলকে উৎসাহ যোগানোর জন্য৷

Flash-Galerie WM Fans USA

সরকারের প্রত্যাশা, এই আসরের পরেও কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা লাখ লাখ পর্যটককে টেনে আনবে আফ্রিকার মাটিতে (ফাইল ফটো)

এছাড়া আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে আরো এক লাখ দর্শক উপস্থিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়৷

সরকারের প্রত্যাশা, এই আসরের পরেও কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা লাখ লাখ পর্যটককে টেনে আনবে আফ্রিকার মাটিতে৷ ফলে সেটিও সুদূর প্রসারী ভূমিকা রাখবে ঐ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে৷ কিন্তু এতো বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ফল যদি আশানুরূপ না হয় তবে দেশটির রাজনৈতিক ধসও হতে পারে ভয়াবহ৷ এছাড়া আশঙ্কার বিষয় হলো, এই আসরের সময় যদি কোন সন্ত্রাসী হামলা কিংবা পরিবহণ বিশৃঙ্খলা কিংবা উচ্চ মাপের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, তবে এই মহাআসর আয়োজনের লাভের হিসাব পুরোটাই পণ্ড হবে৷ আর তাতে ধ্বংস হবে দক্ষিণ আফ্রিকার মান-সম্মান৷

অবশ্য ১৯৯৫ সালের রাগবি বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১০ কোন দুর্ঘটনা বিহীন এবং সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশে বিদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাবমূর্তি বেড়ে যাবে কয়েকগুণ৷ সেই প্রত্যাশায় বুক বেঁধেই ১১ জুনের প্রতীক্ষায় এখন ফুটবলপ্রেমী দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ৷

প্রতিবেদন : হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা : অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়