1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মহানায়ক উত্তম কুমারের ত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার৷ উত্তম কুমারের আসল নাম অরুণ কুমার চ্যাটার্জি৷ জন্ম কলকাতায়৷ ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর৷ ১৯৮০ সালের আজকের দিনে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে চির বিদায় নেন এই মহানায়ক৷

default

সত্যজিত রায়: উত্তমের মতো কোন নায়ক আসেনি, আর আসবেও না

৫৪ বছর বয়সি এ অভিনেতার মহাপ্রয়াণের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনও তাঁকে অতিক্রম করতে পারেননি কোন অভিনেতা৷ অনতিক্রম্য এক মহানায়ক হয়ে আজও অক্ষয় হয়ে আছেন তিনি৷ আজ ত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে পরম শ্রদ্ধা আর ভালবাসা জানাই তাঁর প্রতি৷ উত্তম সম্পর্কে সত্যজিত রায়ের স্বগতোক্তি, ‘‘উত্তমের চলে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের আলোকবর্তিকার মৃত্যু৷ তাঁর মতো অন্য কোন নায়ক আসেনি আর আসবেও না কোনদিন৷''

কলকাতার সাউথ সুবারবন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন উত্তম৷ ভর্তি হন গোয়েফা কলেজে৷ কলকাতার পোর্টে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি৷ তবে তাঁর অভিনয় পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে এই আজকের দিনটি পর্যন্ত মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে দর্শককে৷ দুই বাংলার কোটি কোটি ভক্ত তাঁকে খুব ভালবেসে হৃদয় আসনে স্থান দিয়েছেন৷ সযত্নে লালন করে চলেছেন যুগের পর যুগ ধরে৷

উত্তম কুমারের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল ‘দৃষ্টিদান'৷ এর আগে উত্তম কুমার ‘মায়াডোর' ছবিতে কাজ করেছিলেন কিন্তু সেটি মুক্তিলাভ করেনি৷ ‘বসু পরিবার' ছবিতে তিনি প্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ এরপর ‘সাড়ে চুয়াত্তর' মুক্তি পেলে তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেন৷ ‘সাড়ে চুয়াত্তর' ছবিতে তিনি প্রথম অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন৷ এই ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবথেকে জনপ্রিয় এবং সফল উত্তম-সুচিত্রা জুটির সূত্রপাত হয়৷

উত্তমকুমার এবং সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রে পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে অনেকগুলি ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রে একসাথে অভিনয় করেন৷ এগুলির মধ্যে প্রধান হল হারানো সুর, পথে হল দেরী, সপ্তপদী, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, জীবন তৃষ্ণা এবং সাগরিকা৷ ১৯৫৭ সালে অজয় কর নির্মিত 'হারানো সুর' ছবিটি পুরো ভারতের দর্শকদের মনে নদীর ঢেউয়ের মতো দোলা দেয়৷ অর্জন করে রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অব মেরিট পুরস্কার৷ মজার বিষয় হচ্ছে, ছবির প্রযোজক ছিলেন উত্তম নিজেই৷

পাড়ার অভিনেতা থেকে অরিন্দমের নায়ক হওয়ার গল্প নিয়ে ছবিতে উত্তম অভিনয় করতে গিয়ে খুঁজে পেয়েছিলেন নিজেকে৷ তবে উত্তম কুমার নিজেকে সুঅভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করেন 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে৷ ১৯৬৭ সালে 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' ও 'চিড়িয়াখানা' ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন৷ 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' ছবিতে উত্তম কুমার তাঁর পরিচিত ইমেজ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন৷ সফলও হন৷ উত্তমের সেই ভুবন ভোলানো হাসি, প্রেমিকসুলভ আচার-আচরণ বা ব্যবহারের বাইরেও যে থাকতে পারে অভিনয় এবং অভিনয়ে নানা ধরণ, মূলত সেটাই তিনি দেখিয়েছিলেন৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

সংশ্লিষ্ট বিষয়