1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মহানগরীর নীচে জলাধার

জার্মানির স্টুটগার্ট শহর, যেখানে মার্সিডিজ বেঞ্জ কোম্পানির অফিস৷ সেই ব্যস্তসমস্ত মহানগরীর মাটির তলায় কোটি কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানীয় জলের এক অফুরন্ত আধার রয়েছে, এ কথা ভাবতে পারেন?

যেন ব্রাজিলে অ্যামাজোন নদীর অববাহিকায় কোনো গহীন অরণ্য – অথচ এই জার্মানিতেই! স্টুটগার্টের মতো একটি বড় শহরের নীচে পশ্চিম ইউরোপের বৃহত্তম পানীয় জলের আধার লুকনো রয়েছে৷ শুধু যেখানে ফোয়ারাগুলো আছে, সেখান থেকে ঝরে এই অমৃল্য সম্পদ৷

১৯টি ঝরনা থেকে প্রতিদিন ২ কোটি ২০ লাখ লিটারের বেশি পানি পাওয়া যায়৷ ভূতত্ত্ববিদ রাল্ফ লাট্যার্নজার এই পানি সম্পদের সুরক্ষাকে তাঁর জীবনের লক্ষ্য করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এখানকার বিশেষত্ব হলো এই বিপুল পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি, যা গত পাঁচ লাখ বছর ধরে এখানে বয়ে চলেছে৷ আমরা এই পানিকে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করি, তবে এই পানির নাকি নানা ধরনের রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা আছে৷''

স্বাস্থ্যকর

ঝরনার পানিতে এমন অনেক খনিজ ও রাসায়নিক পদার্থ আছে, যা এই পানিকে বিশেষভাবে স্বাস্থ্যকর করেছে৷ নলের মাধ্যমে সেই ভূগর্ভস্থ পানি বিভিন্ন ফোয়ারা ও সুইমিং পুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে – সম্পূর্ণ প্রকৃতিদত্ত পানি, যা-তে কোনো ধরনের কৃত্রিম রাসায়নিক যোগ করা হয়নি৷ হাজার হাজার বছর ধরে এভাবে এই পানি রোগ লাঘব বা নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে৷

ভূতত্ত্ববিদ রাল্ফ লাট্যার্নজার বললেন, ‘‘প্রস্তরযুগের মানুষ ও তার অনেক পরে রোমানরা এই সব ঝরনার কাছে তাদের বসতি স্থাপন করেছে ও ঝরনার জলে স্নান করেছে৷ আজ পর্যন্ত এটা এক অফুরন্ত সম্পদ৷ ''স্টুটগার্টের ঝরনাগুলো রোগ নিরাময়ের উৎস হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃত৷ রসায়নবিদরা নিয়মিতভাবে পানির নমুনা নিয়ে তা পরীক্ষা করে দেখেন, পানিতে অপরিষ্কার কিছু আছে কিনা৷ বৃষ্টির সঙ্গে যে পানি ২০ বছর আগে মাটিতে পড়েছে, তা আজ কলের মুখ দিয়ে বের হচ্ছে৷ রাল্ফ লাট্যার্নজার জানালেন, ‘‘নিয়মিতভাবে এই পানির নবায়ন হয়৷ তা সত্ত্বেও তা সুরক্ষা করা আবশ্যক, কেননা আগামী প্রজন্মের মানুষদেরও বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন পড়বে৷''

জলের নাম জীবন৷ এখানে সেই পানি নিজে থেকেই মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে, পৃথিবীর সর্বত্র যা হয় না৷ তাই তাকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক