1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মহাকাশে অতিকায় নক্ষত্রের সন্ধান

সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশে এক বিশাল নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন, যেটি সূর্যের চেয়ে এক কোটি গুণ উজ্জ্বল, ভরও ২৬৫ গুণ বেশি৷ মহাকাশ বিজ্ঞানের এতদিনের হিসাবকে বেশ খানিকটা পাল্টে দিল এই নক্ষত্র৷

default

মহাকাশে এক বিশাল নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

ব্রিটেনের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল ক্রাউথারের নেতৃত্বে ইউরোপীয়ান সাদার্ন অবজারভেটরি সংস্থার একদল বিজ্ঞানী সন্ধান পান এই অতিকায় নক্ষত্রের৷ এর আগেও চিলির আটাকামা মরুভূমিতে স্থাপিত অতি বিশাল টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশের বেশ কিছু অচেনা বস্তুর সন্ধান পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ এবারের অতিকায় নক্ষত্রের অস্তিত্ব সম্পর্কেও জানতে পারলেন তাঁরা এই মহাকাশ অনুসন্ধান কেন্দ্রটি থেকে৷ অধ্যাপক পল ক্রাউথার-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী সূর্যের চেয়ে এই নক্ষত্র ৭ গুণ গরম, এর আলোকরশ্মি সূর্যরশ্মির চেয়ে ১ কোটি গুণ উজ্জ্বল এবং ওজনও সূর্যের চেয়ে ২৬৫ গুণ বেশি৷

সূর্য ও নক্ষত্র সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের এতদিনকার ধারণা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুলেছে সদ্য আবিষ্কৃত নক্ষত্রটি, আপাতত যার নাম রাখা হয়েছে R136a1৷ মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আগে হিসাব নিকাশ করে দেখেছিলেন, একটি নক্ষত্রের ভর সূর্যের চেয়ে খুব বেশি হলে ১৫০ গুণ হতে পারে৷ নক্ষত্রের ভর এর চেয়ে বেশি হলে তা সুপার নোভায় পরিণত হয়৷ সুপার নোভা অবস্থায় নক্ষত্ররা তীব্র আলো বিকিরণ করতে করতে এক সময় ক্ষয়ে যায়৷ অবশেষে পরিণত হয় ব্ল্যাক হোলে৷ অনুসন্ধানে অংশ নেয়া শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী রিচার্ড পার্কার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এতদিন পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস ছিল, নক্ষত্রের ওজন খুব বেশি হলে সূর্যের ওজনের চেয়ে ১৫০ গুণ হতে পারে এবং সূর্যকে অবশ্যই খুব ছোট নক্ষত্র বলা যায় না৷ আমাদের আবিষ্কারের মাধ্যমে এই সংখ্যাটা এখন দ্বিগুণ হল, যার ফলে বহু নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে৷''

নতুন নক্ষত্র নিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানী মহলে জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে এখন৷ অনেকে মনে করছেন, হয়তো পাশাপাশি অবস্থানরত দুই নক্ষত্রকে এত দূর থেকে একটি বলে ধারণা করা হয়েছে৷

সৌভাগ্যবশত দানব নক্ষত্রটি আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সিতে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার আলোকবর্ষ৷ মহাবিশ্বের অনেক নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের সূর্যকে মনে হবে নিতান্তই মধ্যম আকারের এক নক্ষত্র৷ বিজ্ঞানী পল বলেন, এই অতিদানব নক্ষত্রকে যদি আমাদের সৌরজগতে রাখা হয়, তাহলে তার ঔজ্জ্বল্যের কাছে সূর্যকে চাঁদের মতই নিস্তেজ মনে হবে৷

অধ্যাপক পল ও তাঁর সহকর্মীরা খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করে জানান যে, এই নক্ষত্রের ভেতরে এক ধরনের ঝোড়ো অবস্থা চলছে৷ যার ফলে এটিকে সূর্যের মত গোলাকার দেখায় না৷ এই বিজ্ঞানীর মতে, এই নক্ষত্রের কক্ষপথে কোনো গ্রহের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা খুব কম৷ কেননা এই ধরনের বিশাল নক্ষত্র অন্য বড় নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে, ফলে এর কক্ষ পথে কোনো গ্রহ থাকলেও সেখানে অন্য নক্ষত্রের আলোর কারণে রাত হতে পারত না৷

R 136a1 ছাড়াও আরো কয়েকটি বিশাল নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন জ্যেতির্বিজ্ঞানীরা, যেগুলির ভরও সূর্যের চেয়ে ১৫০ গুণ বেশি৷ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সৃষ্টির সময় অতিকায় নক্ষত্রগুলি আরো বড় ছিল৷ ক্রমাগত তেজরশ্মি বিকিরণ করতে করতে অনেকটাই ওজন হারিয়েছে তারা৷ বিজ্ঞানী ক্রাউথার ঠাট্টাচ্ছলে বলেন, মানুষের সঙ্গে তুলনা করলে বলা যায় এই ধরনের নক্ষত্র স্থূলাকার নিয়েই জন্ম গ্রহণ করে৷ বড় হওয়ার চেয়ে তারা ছোট হতে থাকে৷ R136a1 নক্ষত্রটি এক মিলিয়ন বছরে ভর হারিয়েছে প্রায় ৫০৷ ধারণা করা হয় জন্মের সময় এর ওজন ছিল ৩২০-এর মত৷

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অতিকায় নক্ষত্রগুলি ৩০ লক্ষ বছর বেঁচে থাকতে পারে৷ অন্যদিকে সূর্যের মত ছোট নক্ষত্রগুলি আরো দীর্ঘদিন টিকে থাকে৷ বিশাল নক্ষত্রের তুলনায় ১০০০ গুণের বেশি আয়ু তাদের৷ আমাদের সূর্য ৪,৫ বিলিয়ন বছর ধরে আলো বিকিরণ করে যাচ্ছে৷ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, আরো ৫ বিলিয়ন বছর টিকে থাকবে এই নক্ষত্র৷ পরে অন্যান্য ছোট নক্ষত্রের মতই ফুলে ফেঁপে উঠে বিস্ফোরিত হবে৷ ধ্বংস হবে সৌরজগতের সব গ্রহ উপগ্রহ৷ অবশিষ্ট থাকবে ক্ষুদ্র এক নক্ষত্র, যাকে ‘হোয়াইট ডোয়ার্ফ' বা শ্বেত বামন বলা হয়৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

ইন্টারনেট লিংক