1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মহাকাশের চোখ

মহাকাশে দু'টি কৃত্রিম উপগ্রহ, টেরা এসএআর-এক্স আর ট্যান্ডেম এক্স, ডিএনএ-র ডাবল হেলিক্সের মতো পরস্পরের চারপাশে ঘুরপাক খেয়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে চলেছে আর পৃথিবীর ত্রিমাত্রিক ছবি তুলছে৷

মহাশূন্য থেকে যেন কোনো চোখ পৃথিবীর ওপর নজর রাখছে অথচ আমরা তা জানতে পারছি না৷ টেরা এসএআর-এক্স একটি জার্মান রাডার স্যাটেলাইট৷ সাধারণ অপটিকাল স্যাটেলাইট যা পারে না, এই রাডার স্যাটেলাইট তা পারে৷

জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টার ডিএলআর-এর মাইক্রোওয়েভস অ্যান্ড রাডার ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর আলবের্তো মোরেইরা বলেন, ‘‘আবহাওয়া বা আলো যেমনই হোক না কেন, রাডার স্যাটেলাইট ভূপৃষ্ঠের হাই-রেজোলিউশান ছবি তুলতে পারে৷''

রাডার স্যাটেলাইট ভূপৃষ্ঠের দিকে ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক তরঙ্গ পাঠায় ও তার প্রতিফলন ছোট ছোট সেকশানে ধরে রাখে৷ সেই তথ্য একত্রিত করলে ভূপৃষ্ঠের একটা প্রোফাইল পাওয়া যায়৷ টেরা এসএআর-এক্স ভূগোলক প্রদক্ষিণ করে আর জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টার ডিএলআর-এ তথ্য পাঠায়৷ টেরা এসএআর-এক্স ও তার জোড়োয়া ট্যান্ডেম এক্স, দু'টি রাডার স্যাটেলাইটকেই এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ দু'টো রাডার স্যাটেলাইট ব্যবহার করে আরো বেশি তথ্য ও খুঁটিনাটি পাওয়া যায়৷

রাডার ডাটা থেকে যে ইমেজ ডিসপ্লে করা যায়, তা ভূপৃষ্টের প্রতিটি মিটার জমির সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি৷ মুখ্য রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইনগুলো পর্যন্ত স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়৷ প্রফেসর আলবের্তো মোরেইরা বলেন, ‘‘ট্যান্ডেম এক্স দিয়ে আমরা ভূপৃষ্ঠের যে ছবি পাচ্ছি, তা এর আগের সব কিছুর চেয়ে ৩০ গুণ বিশদ৷''

স্যাটেলাইটগুলোর রাডার প্রণালী প্রায় দশ মিটার উঁচু এই পরীক্ষাগারে টেস্ট করে দেখা হয়েছে৷ ল্যাবটির সর্বত্র অ্যাবজর্বার ফিট করে রাখা হয়েছে৷ এই সব অ্যাবজর্বার ঝড়তি-পড়তি মাইক্রোওয়েভগুলোকে শুষে নেয়, যার ফলে মাপজোকে ব্যাঘাত ঘটে না৷

প্রফেসর আলবের্তো মোরেইরা জানালেন, ‘‘ট্যান্ডেম এক্স যুক্ত হবার পরে দু'টি স্যাটেলাইটের ফর্মেশন ফ্লাইট বা পাশাপাশি ওড়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ দু'টি স্যাটেলাইট সেকেন্ডে সাড়ে সাত হাজার মিটার গতিতে পরস্পরের থেকে মাত্র ১২০ মিটার দূরত্বে উড়ে চলেছে – সেটাই তো একটা চ্যালেঞ্জ৷ ট্যান্ডেম এক্স-কে আকাশে তোলা থেকে শুরু করে, দু'টি স্যাটেলাইটের ঘড়িগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে মেলানো৷''

দু'টি স্যাটেলাইট থাকার সুবিধে হল, পাহাড় কিংবা বাড়িঘরের তথাকথিত ‘রেডিও শ্যাডো' পড়ে না – অর্থাৎ সব কোণ থেকেই বেতার সংকেত পাওয়া যায়৷ অপরদিকে দু'টি কক্ষপথে সমান্তরাল উড়াল অসম্ভব৷ কাজেই দুই স্যাটেলাইটের কক্ষপথ পরস্পরের সঙ্গে মেলে না, সেগুলো অপ্রতিসম৷ ট্যান্ডেম এক্স প্রকল্পের প্রধান ড. মানফ্রেড জিঙ্ক বলেন, ‘‘শেষমেষ দু'টি স্যাটেলাইটের গতিপথ যেন মানব ডিএনএ-র সেই ডাবল হেলিক্সের মতো; প্রথম স্যাটেলাইটটা দ্বিতীয় স্যটেলাইটের চারপাশে ইস্ক্রুপের মতো ঘুরপাক খায়৷''

স্যাটেলাইটদের এই ট্যান্ডেম উড়ালের ফলে পৃথিবীর একটি ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা সম্ভব হয়৷ বিভিন্ন রেজোলিউশানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন গ্রিড – কিন্তু কেন...?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক