1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মস্তিষ্কের বর্জ্য বের করার প্রক্রিয়া

‘ব্রেইন ওয়াশ’ বা ‘মস্তিষ্ক ধোলাই’ এই কথাটা সাধারণত মানসিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়৷ তবে সত্যিকার অর্থেই আমাদের মস্তিষ্ক আবর্জনা বের করার কাজটি বেশ সুচারুরূপেই করে থাকে৷

default

গবেষকদের ধারণা, সম্পূর্ণভাবে মগজ ধোলাই হতে প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টার মতো লাগে

আমাদের শরীর আসলে এক জটিল কারখানার মতো কাজ করে থাকে৷ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে সর্বদা একটা ‘মেটাবলিজম' ঘটতে থাকে৷ এতে বেশ কিছু বর্জ্য তৈরি হয়৷ শরীরের লিম্ফোটিক সিস্টেম বা লসিকা নালী তখন সচেতন হয়ে ওঠে রোগ জীবাণু, বাইরে থেকে আসা ক্ষতিকর পদার্থ কিংবা টিউমারের সেল দূর করার কাজে৷

নিজস্ব ‘ক্লিনিং সার্ভিস'

তবে এই ধরনের নিজস্ব ‘ক্লিনিং সার্ভিস' বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছায় না৷ অথচ মানুষের এই অঙ্গটিতেই মেটাবলিজমের চাপ পড়ে সবচেয়ে বেশি৷ তবে মস্তিষ্ক প্রতি মিনিটেই অসংখ্য প্রোটিন বের করে দেয়, যা স্নায়ুকোষের ক্ষতি করতে পারে৷

আমাদের মস্তিষ্ক এইসব আবর্জনা নিয়ে কী করে, সেটাই বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক আন্তর্জাতিক গবেষক টিম৷ তাঁদের গবেষণার ফলাফল সাইন্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি৷ এতে জানা যায় আমাদের মস্তিষ্কের আরেক ধরনের সাফাই পরিষেবা রয়েছে৷

Symbolbild Idee Lösung Gehirn

সাধারণত ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে ধোলাইয়ের কাজ চলে

একে গ্লিম্ফোটিক সিস্টেম বলা হয়৷ এক্ষেত্রে গ্লিয়াল সেলের এক মুখ্য ভূমিকা রয়েছে৷ এটি ব্রেইন ওয়াটার বা তরল পদার্থ ও বর্জ্য চাপ প্রয়োগ করে থিংকিং অর্গান বা চিন্তার অঙ্গ থেকে বের করে দেয়৷

আট ঘণ্টার মতো লাগে

অবশ্য প্রক্রিয়াটা খুব দ্রুতগতিতে ঘটে না৷ গবেষকদের ধারণা, সম্পূর্ণভাবে মগজ ধোলাই হতে প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টার মতো লাগে৷ সাধারণত প্রক্রিয়াটা বিছানায় বিশ্রাম নেওয়া কালে ঘটে থাকে৷ কেননা যখন আমরা ঘুমাই তখন স্নায়ুকোষগুলির একটা থেকে আরেকটা ব্যবধান বেড়ে যায়৷ স্নায়ুর জলীয় পদার্থ বিনা বাধায় বয়ে যেতে পারে এবং বর্জ্য বের করে দিতে পারে৷ ঘুম না হলে বা খুব কম ঘুম হলে মস্তিষ্কের ‘পরিচ্ছন্ন পরিষেবা' তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না৷ সতর্ক করে বলেন গবেষকরা৷ এইভাবে বেশি দিন চললে আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে৷ এর ফলে আলৎসহাইমার বা পার্কিনসনের মতো অসুখ বিসুখও হতে পারে৷ এজন্য গবেষকরা ঠিক সময় বিছানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন৷ এতে করে আমাদের মস্তিষ্ক ‘স্নানে'-র জন্য যথেষ্ট সময় পায়৷ এই প্রক্রিয়াটা চলে আট ঘণ্টা৷ কিন্তু পরিবেশ বান্ধব৷ এইভাবেই মস্তিষ্কের দূষিত পানি ফিল্টার ও রিসাইকেল হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন