1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করতে সাইবার ছুরি

টিউমার দূর করতে লাগে ব্রেন সার্জারি৷ আবার রেডিও সার্জারি-ও করা যায়৷ সেটা হল সাইবার ছুরি দিয়ে বিনা ব্যথার, কম সময়ের অস্ত্রোপচার, যেমন করা হয় বার্লিনের শারিটে হাসপাতালে৷

বার্লিনের ‘শারিটে' হাসপাতালে ডাক্তাররা হাই-টেক সাইবার-নাইফ বা সাইবার ছুরি ব্যবহার করছেন ২০১১ সাল থেকে৷ পাঁচশো'র বেশি রোগীর উপর এ ভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে৷

নিউরোসার্জন ড. মার্কুস কুফেল্ড বলেন, ‘‘রোগীর পক্ষে রেডিও সার্জারি-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এই যে, সব কিছু ঠিকমতো চললে আমরা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে টিউমারটা ধ্বংস করে ফেলতে পারি৷''

মাথাটা ঠিক জায়গায় ধরা থাকে শুধু একটা হালকা, কাস্টম-মেড প্লাস্টিকের মুখোশ পরিয়ে৷ সাইবার-নাইফ-এর রশ্মি যাতে অন্য কোথাও না পড়ে, সোজা টিউমারে গিয়ে লাগে, সেজন্য আগে থেকে এক্স-রে করে নেওয়া হয়৷ টিউমারটা ঠিক কোথায়, সেটা নির্দিষ্ট করার জন্য ঐ তথ্যের প্রয়োজন৷

শারিটে হাসপাতালের ব্রেন সার্জন ও রেডিওলজিস্টরা একত্রে সিদ্ধান্ত নেন, কোন রোগীর ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হবে৷ রেডিওলজি-র রোবট শুধু ছোট, স্পষ্ট আকারের টিউমার বিনষ্ট করতে পারে৷ তবুও, প্রথাগত নিউরোসার্জারি যখন আর কাজ করে না, তখন রেডিও সার্জারি সাহায্য করতে পারে৷

ব্রেন সার্জারি আর সাইবার-নাইফ

নিউরোসার্জন প্রফেসর পেটার ভাইকোৎসি বলেন, ‘‘সাধারণ ব্রেন সার্জারি আর সাইবার-নাইফের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, ও দু'টো পরস্পরের পরিপূরক প্রক্রিয়া৷ মাথার খুলির তলার দিকে যে সব টিউমার থাকে, সে সব ক্ষেত্রে সাইবার-নাইফ-ই ভালো, কেননা সাইবার-নাইফ নিখুঁতভাবে সেই সব জায়গায় পৌঁছতে পারে, যেখানে আমরা সার্জনরা কাছাকাছি টিস্যুর বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলব৷''

ইরিস গাইগার-এর ব্রেন টিউমার আছে৷ তিনি প্রযুক্তিতে বিশ্বাসী৷ হাই-টেক ট্রিটমেন্ট করালে তিনি উত্তরোত্তর ব্রেন সার্জারি ও তার গুরুতর সাইড-এফেক্ট থেকে রেহাই পাবেন৷ রেডিও সার্জারির অপারেশনে কোনো ব্যথা নেই, রোগীর পুরোটা সময় জ্ঞান থাকে৷ রশ্মি দিয়ে শুধুমাত্র টিউমারটা বিনষ্ট করা হয়, সুস্থ ব্রেন টিস্যুর কোনো ক্ষতি হয় না৷

সাইবার-নাইফ সেন্টার-এর প্রধান ড. মার্কুস কুফেল্ড বললেন, ‘‘প্রত্যেকটি একক রশ্মির খুব বেশি রেডিয়েশন নেই, কাজেই সুস্থ টিস্যুকে খুব বেশি রেডিওঅ্যাক্টিভিটি সহ্য করতে হয় না৷ ম্যাগনিফাইং লেন্স-এর মতো, রশ্মিগুলোকে টিউমারের ওপর ফোকাস করা হয়, যার ফলে টিউমারটা বড় মাপের, কার্যকরি রেডিয়েশন পায়৷''

এখন একটা রোবট যখন সার্জনের কাজ হাতে নেয়, তখন সেই রোবট বিভিন্ন দিক থেকে প্রায় দু'শো ফোটন রশ্মি ছোঁড়ে৷ টিউমার যদি রিল্যাপ্স করে, তাহলে এই অপেক্ষাকৃত মোলায়েম ট্রিটমেন্ট রিপিট করা যেতে পারে৷

নতুন জীবন

ইরিস গাইগার বলেন, ‘‘বিগত কয়েক বছরে আমি যেন আমার জীবন থেকে আরো অনেক বেশি পেয়েছি৷ আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছিল, জীবনটা কতো ছোট৷ এই প্রযুক্তি ছাড়া আমার বাঁচার কোনো সম্ভাবনা ছিল না৷ সাইবার-নাইফ দিয়ে অপারেশন না করলে, আজ আমি বেঁচে থাকতাম না৷''

ইরিস গাইগার-কে নতুন জীবনের মেয়াদ দিয়েছে সাইবার-নাইফ৷ মেটাস্টাসিস-গুলো যদি আবার আসে, তাহলে রেডিও সার্জারি আবার তাঁর জীবন বাঁচাতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়