মসজিদ, স্কুল, হাসপাতালে হামলা, নিহত ছয় শতাধিক | বিশ্ব | DW | 22.07.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মসজিদ, স্কুল, হাসপাতালে হামলা, নিহত ছয় শতাধিক

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত আছে৷ স্থলভাগ, আকাশপথ, নৌপথ সব দিক থেকেই চলছে বিরামহীন হামলা৷ হামলায় মৃতের সংখ্যা ছয় শতাধিক৷

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা দুপক্ষের সংঘর্ষে ফিলিস্তিনে অন্তত ৫৮৩ জন নিহত হয়েছে৷ ইসরায়েলের দাবি হামাসের হামলায় ২৭ ইসরায়েলি সেনা ও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে৷

স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রতি মুহূর্তে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল৷ বাদ যাচ্ছে না হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির কোনো স্থানই৷ সব সীমান্ত বন্ধ থাকায় একরকম ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ মানুষদের৷ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চার হাজার মানুষ আহত হয়েছে বলে জানান তিনি৷ মঙ্গলবার ভোরেও নিহত হয়েছে আরো ২৩ জন৷ অন্তত একলাখ মানুষ নিজেদের ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন৷ কিন্তু নিরাপদ আশ্রয় বলতে গাজায় কোনো স্থান নেই৷ ৬৯টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে বেশিরভাগ মানুষ৷ কিন্তু সর্বত্রই চলছে গোলা হামলা৷

গাজার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার রাতভর পাঁচটি মসজিদ, একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং হামাসের সাবেক সেনাপ্রধানের বাড়িসহ ১১৩টি স্থাপনা লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী৷ তবে সেসময় ঐসব স্থানে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি৷

কেরির বৈঠক

এদিকে গাজায় সাধারণ মানুষের উপর যখন এই নির্মম হামলা চলছে, তখন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি কায়রোতে বৈঠকে বসেছিলেন৷ জাতিসংঘ বলেছে, গাজায় যত মানুষ নিহত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ এবং এর মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে৷ বান কি মুন বলেন, ‘‘দুপক্ষেরই উচিত এই মুহূর্তে হামলা বন্ধ করা৷'' জন কেরি বলেছেন, ‘‘হামাসের সিদ্ধান্তের উপরই সবকিছু নির্ভর করছে৷ তারাই পারে এই নিরীহ মানুষগুলোকে মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা করতে৷'' সেই সাথে ওবামার মতো তিনিও বলেন, ‘‘ইসরায়েলের অধিকার আছে হামাসের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার৷'' গাজায় সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র চার কোটি সাত লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে বলে জানান তিনি৷

হামাস নেতা ও আব্বাসের বৈঠক

গাজা সীমান্তে প্রায় আট বছর আগে সীমান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরায়েল৷ হামাসের দাবি ইসরায়েলকে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে৷ হামাস নেতা খালেদ মেশাল এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সোমবার দোহায় বৈঠক করেছেন৷ দুপক্ষের অস্ত্রবিরতির জন্য হামাস ও আব্বাস একসাথে কাজ করবেন বলে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন আব্বাসের এক মুখপাত্র৷

অন্যদিকে, গাজায় হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া সোমবার বলেছেন, ‘‘গাজার ১৭ লাখ মানুষ হামাসের সাথে আছে এবং তারা চায় ইসরায়েল যাতে সীমান্ত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা আর পিছনে ফিরে তাকাবো না৷ তিলে তিলে মরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই৷ গাজার মানুষ তাদের রক্ত দিয়ে হলেও এই অবরোধ তুলে ক্ষান্ত হবে৷''

Gaza Israel Krieg Bodenoffensive Beschuss Terror in Gaza 21.7.

হামলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে গাজার এক শিশু

গাজার মানুষের এখন একমাত্র পালিয়ে যাওয়ার পথ রাফা সীমান্ত দিয়ে মিশরে প্রবেশ করা৷ কিন্তু গত বছর থেকেই সেই সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মিশর৷ অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা, মুসলিম হজ যাত্রী এবং বিদেশি পার্সপোর্ট আছে এমন ব্যক্তিদের কেবল প্রবেশের অনুমতি দিত তারা৷

অব্যাহত হামলা

মঙ্গলবার সকালে গাজার পূর্ব সীমান্তে ট্যাঙ্কের হামলায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে৷ ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর ছোড়া গোলার আঘাতে ১৯টি জেলে নৌকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়৷ গাজার এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘‘সোমবার রাতে একটি বাড়িতে গোলা হামলায় একই পরিবারের তিন নারী নিহত হন৷''

এপিবি/জেডএইচ (এপি, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়