মসজিদে হামলার অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস | বিশ্ব | DW | 17.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

মসজিদে হামলার অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস

হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদ চত্বরে ২০০৭ সালের বিস্ফোরণ কাণ্ডে হিন্দু সন্ত্রাসী সংগঠনের জড়িত থাকার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে জাতীয় তদন্ত সংস্থার আদালত৷ ফলে বেকসুর খালাস পেয়েছেন স্বামী অসীমানন্দসহ পাঁচজন৷

রায়ের পরই ইস্তফা দেন আদালতের বিচারক৷ তাঁর ইস্তফা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন৷

পুরানো হায়দ্রবাদ শহরের চারমিনারের কাছে ঐতিহাসিক মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রায়ে মূল অভিযুক্ত স্বামী অসীমানন্দসহ পাঁচজনকে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে নির্দোষ বলে খালাস করে দেন জাতীয় তদন্তকারী আদালত৷ অভিযুক্ত পাঁচজনই কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য৷ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মামলা চলার পর গতকাল সোমবার রায় ঘোষণা হয়৷ রায় ঘোষণার পরই নাটকীয়ভাবে ইস্তফা দেন বিচারক কে.রবীন্দর রেড্ডি৷ তাঁর ইস্তফার প্রেক্ষিতে এই রায় নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক৷ অভিযোগ উঠেছে, এই রায়ের পেছনে সম্ভবত কোনো চাপ ছিল৷ জাতীয় তদন্ত সংস্থাকে অপব্যবহার করা হয়েছে বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ৷ আসাম মাইনরিটি সেলের জেনারেল সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘কিছু তো একটা হয়েছেই৷ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বিচারককে কোনো-না-কোনোভাবে হুমকি দিয়ে বাধ্য করা হয়েছে৷ চাপ দেওয়া হয়েছে এই ধরনের রায় দিতে৷ পেশাগত নৈতিকতায় বিচারক সেটা মেনে নিতে পারেননি৷ প্রতিবাদ হিসেবে ইস্তফা দিয়েছেন৷'' 

অডিও শুনুন 04:04
এখন লাইভ
04:04 মিনিট

‘পেশাগত নৈতিকতায় বিচারক সেটা মেনে নিতে পারেননি, প্রতিবাদ হিসেবে ইস্তফা দিয়েছেন’

এই রায় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে চলে তীব্র চাপানউতোর৷ ঐ বিস্ফোরণকাণ্ডের পরই সাবেক কংগ্রেস জোট সরকার  হিন্দু সন্ত্রাসবাদ তত্ত্ব তুলে ধরেন৷ অভিযোগ ছিল, বিস্ফোরণের নেপথ্যে হাত ছিল বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী আরএসএস-এর৷ কিন্তু এই রায়ে হিন্দু সন্ত্রাস তত্ত্ব ধোপে টিকলো না৷ মুখ পুড়লো কংগ্রেসের৷ কারণ, এনআইকে কাজে লাগিয়েছে সাবেক কংগ্রেস সরকার, এমনটাই অনেকে মনে করছেন৷ বিজেপির তরফে বলা হয়, এই রায়ের পর গেরুয়া সন্ত্রাস নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধী যা বলে এসেছেন, তার জন্য তাঁদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত৷

এই রায় পক্ষপাতমূলক বলে মন্তব্য করেন নিখিল ভারত মজলিসি-ই- ইত্তেহাদুল মুসলিমিন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আসাদুদ্দিন ওয়েইসি৷ তিনি মনে করেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার হয়নি৷ সামগ্রিকভাবে ভারতের মুসলিম সমাজ মর্মাহত৷ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা গোলাম নবী আজাদ মনে করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলির ওপর দেশের মানুষ আস্থা হারাচ্ছে৷

২০০৭ সালের ১৮ই মে হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদ কেঁপে উঠেছিল বিস্ফোরণে৷ নিহত হয় নামাজ পড়তে আসা নয় জন, আহত হয় বহু৷ ঐ ঘটনার পর মসজিদের বাইরে মারমুখী জনতার বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ গুলি চালায়৷ তাতেও একাধিক ব্যক্তি হতাহত হয়৷ ঐ বিস্ফোরণে নাম জড়ায় উগ্র হিন্দুত্বত্বাদী আরএসএস সংগঠনের৷ প্রাথমিক তদন্তে হায়দ্রাবাদ পুলিশ এক উগ্রপন্থি মুসলিম গোষ্ঠী হরকতুল জেহাদের কাজ বলে সন্দেহ করে৷ তারপর তদন্তভার চলে যায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই-এর হাতে৷ তারা সন্দেহ করে এর পেছনে হিন্দু সন্ত্রাসবাদীদের হাত আছে৷ সেখান থেকে ২০১১ সালে জাতীয় তদন্ত এজেন্সি এনআইএ তদন্তে নামে৷

আসাম মাইনরিটি সেলের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম এই রায় প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে আরো বলেন, ‘‘আগে আমরা দেখেছি, ভারতের আইন ব্যবস্থা কত শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছিল৷ আজকের দিনে আমরা বিজেপিশাসিত ভারতে দেখছি, দেশের গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে৷ এই দেখুন, সুপ্রিম কোর্টের চার জন বিচারক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কিভাবে প্রতিবাদে নামলেন৷ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে৷ তিন তালাক, মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণকাণ্ড, বিচারকের পদত্যাগ ইত্যাদি দেখে একটা জিনিস স্পষ্ট যে, দেশের আইন বা বিচার ব্যবস্থার ওপর বিজেপি সরকারের একটা চাপ রয়েছে৷ এটা ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে আদৌ শুভ লক্ষণ নয়৷ আরও দেখছি, মোদীর সরকারে একটা হিটলারি শাসন কায়েম করার প্রবণতা৷ মুসলিম সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যদি এই কাজ না করে থাকে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি যদি না করে থাকে,তাহলে কে এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী? ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির উচিত তাদের খুঁজে বের করা৷''

কে এই অসীমানন্দ?

তার আসল নাম নব কুমার সরকার৷ স্বঘোষিত সন্যাসী এবং আরএসএস-এর প্রচারক৷ বোটানিতে এম-এ৷ আদি নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়৷ থাকতেন হরিদ্বারের আশ্রমে৷ সেখান থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল ২০১০ সালে৷ আজমীর দরগা, মালেগাঁও এবং সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের সন্দেহ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও