মসজিদে আজানের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের প্রস্তাব | বিশ্ব | DW | 16.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ঘানা

মসজিদে আজানের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের প্রস্তাব

শব্দদূষণ কমাতে ঘানার রাজধানী আক্রার মসজিদগুলোকে লাউডস্পিকার ব্যবহার করে আজান না দিয়ে মোবাইলে এসএমএস কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দিয়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের ডাকতে বলা হয়েছে৷ মুসলমানরা এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন৷

দেশটির পরিবেশমন্ত্রী কোয়াবেনা ফ্রিম্পং-বোয়েটেং ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘টেক্সট কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে কেন নামাজের সময়সূচি জানানো যাবে না? ইমাম সবাইকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠাতে পারেন৷ আমি মনে করি, এর ফলে শব্দ কমবে৷ এটি হয়ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, কিন্তু এই বিষয়ে আমরা ভাবতে পারি৷’’

রাজধানীতে অনেক মুসলমান মোবাইল ব্যবহারের বিষয়টি মানতে পারছেন না৷ শেখ উসান আহমেদ নামে ফাদামা সম্প্রদায়ের এক ইমাম শব্দ দূষণের পরিমাণ যে কমতে পারে সে ব্যাপারে একমত৷ তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক জটিলতার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘ইমামকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন দেয়া হয় না৷ এই কাজ করতে তিনি কোথায় টাকা পাবেন? যা করা সম্ভব, তা পালন করার চেষ্টা করি আমরা৷ সুতরাং টেক্সট বা অন্য উপায় বার্তা পাঠানো সমস্যা না৷ কিন্তু এর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না৷’’

ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলা অন্য মুসলমান ব্যক্তিরাও সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ নোরা এনসিয়াহ বলছেন, ‘‘সকালবেলায় মেগাফোন ব্যবহার করে নামাজের জন্য মুসলমানদের ডাকার বিষয়টিকে আমি সমস্যা বলে মনে করি না, কারণ, খ্রিষ্টানদের গির্জাও মেগাফোন ব্যবহার করে৷’’

আক্রার আরেক বাসিন্দা কেভিন প্র্যাটও পরিবেশমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ ‘‘সবাই সামাজিক মাধ্যমে নেই৷ এছাড়া সবাই তাঁর (মন্ত্রী) মতো শিক্ষিত নন,’’ বলেন তিনি৷

এদিকে, বিষয়টি ভবিষ্যতে আইনের আওতায় আনা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে ঘানার সরকার৷ মসজিদ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানোরও পরিকল্পনা করছে দেশটি৷

উল্লেখ্য, খ্রিষ্টানপ্রধান ঘানার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মুসলমান৷

এর আগে রাজধানী কিগালিতে লাউডস্পিকার ব্যবহারে মসজিদগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রুয়ান্ডা৷ এছাড়া ভবন নির্মাণ নীতিমালা না মানা ও শব্দ দূষণের অভিযোগে খ্রিষ্টানপ্রধান সেই দেশে কয়েকশ' গির্জাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ উল্লেখ্য, রুয়ান্ডায় মুসলমানের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ৷

আইজ্যাক কালেদজি/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন