1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মরণে সাহায্য করা কি আইন করে বেঁধে দেওয়া চলে?

ইউথেনেসিয়া, মার্সি কিলিং কিংবা অ্যাসিস্টেড সুইসাইড: বিষয়টি নিয়ে জার্মান সংসদে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ বোঝা যাচ্ছে, জীবনে বা সমাজে সব কিছু আইন করে বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয় – এই হল ক্রিস্টফ স্ট্রাক-এর অভিমত৷

গত বছরের হেমন্তেই সংসদ সভাপতি নরবার্ট লামার্ট বলেছিলেন, ‘স্ট্যার্বেহিল্ফে' বা ‘অ্যাসিস্টেড সুইসাইড' সংক্রান্ত নিয়মাবলীর পুনর্বিন্যাস হবে সংসদের চলতি কর্মকালের ‘সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী আইন প্রণয়ন গত প্রকল্প'৷ সংসদে বিতর্কের প্রথম দিন সমাপ্ত হবার পর লামার্টের মন্তব্যের সত্যতা উপলব্ধি করা গেছে৷

লামার্ট বুন্ডেসটাগ-কে চেনেন৷ ব্যাংক পরিত্রাণ অথবা সামাজিক ভাতা কমানো-বাড়ানো নিয়ে উঁচু গলায় তর্কাতর্কি করা চলে; কিন্তু জীবনের চূড়ান্ত প্রশ্নগুলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দুঁদে রাজনীতিকদেরও গলা নেমে আসে৷ কোনোরকম সন্দেহ থেকে গেলে সাংসদরা নিজেরাই অস্বস্তি বোধ করেন৷ গত নভেম্বরে একটি চারঘণ্টাব্যাপী প্রাথমিক বিতর্ক থেকেই তা বোঝা গিয়েছিল৷

Symbolbild Sterbehilfe Euthanasie

‘নিয়মিত পরিষেবা হিসেবে মরণসাহায্য প্রদান করা হৃদয়হীনতার কাজ’

এবার সাংসদদের সামনে চারটি বিভিন্ন প্রস্তাব রাখা রয়েছে৷ প্রস্তাবগুলি রক্ষণশীল থেকে উদার: আত্মহত্যায় সাহায্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে আত্মহত্যায় সাহায্যের খোলা অনুমতি দেওয়া পর্যন্ত৷ বলতে কি, ইউরোপের অপরাপর দেশের আইন দেখলে ঐ একই বৈচিত্র্য পাওয়া যাবে৷ অপরদিকে বুন্ডেস্টাগে পরিবেশিত চারটি প্রস্তাবের প্রতিটির বিরুদ্ধে কিছু না কিছু আপত্তিও তোলা যেতে পারে৷ বৃহস্পতিবারের বিতর্ক থেকে বোঝা গেছে, বিধায়করা তাঁদের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা ও কল্পনাশক্তির প্রত্যন্ত সীমায় পৌঁছে গেছেন: বিশেষ করে যখন বিষয়টি চিকিৎসক ও রোগী, মরণাপন্ন ও তাঁর পরিবারের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি ধরে নাড়া দিচ্ছে৷

মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু জার্মানিতেও সবসময় সম্ভব নয়

চিকিৎসক, রোগী কিংবা নীতিবিদ্যার পণ্ডিত – জার্মানিতে আজও অনেকের মতে ইউথেনেসিয়া সংক্রান্ত বর্তমান আইন বেশ ভালোই৷ সে আইন খোলাখুলি ‘অ্যাসিস্টেড সুইসাইড'-এর সপক্ষে না হলেও, লিখিতভাবে তার বিরোধিতাও করেনি৷ তথাকথিত ‘মরণ সাহায্যকারীরা' উদয় হবার পর থেকেই নতুন আইনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে – অর্থাৎ যে সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবর্গ নিয়মিতভাবে মরণাপন্নদের আত্মহত্যা করতে সাহায্য করে থাকেন, তাদের জন্যই এই নতুন নীতিমালার ডাক৷

Strack Christoph Kommentarbild App

ক্রিস্টফ স্ট্রাক, ডয়চে ভেলে

রাজনীতিকরাও চিরকাল জানতেন এবং জানেন যে, জার্মানিতেও সবসময় মনুষ্যোচিত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে মরা সম্ভব নয়৷ কিন্তু আত্মহত্যার যন্ত্রের প্রস্তাবও যখন বাজারে এসে পড়েছে, এবং সংবাদমাধ্যমে তার খবর নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে, তখন উপলব্ধি করা যায় যে, এ হল আমাদের সমাজের এক ধরনের বিভ্রান্তি: আমরা জীবনের জয়গান গাই বটে, কিন্তু মরণের সামনে আমাদের মুখ বন্ধ হয়ে যায়৷

চিন্তাশীল বিতর্ক

নিয়মিত পরিষেবা হিসেবে মরণসাহায্য প্রদান করা হৃদয়হীনতার কাজ, বলেন বামদলের কাট্রিন ফোগলার৷ তিনি নিজেই মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস-এর রোগী, গত ১৮ বছর ধরে৷ এই রোগ নিয়ে জীবনধারণের নানা বিপত্তির কথা বলেন তিনি – এমন কি, কয়েক ধাপ সিঁড়ি পার হয়ে অফিসে ঢোকাটাই যখন সমস্যাকর হয়ে দাঁড়ায়৷ এ সব এমনই প্রতিবন্ধক, যার জন্য সমাজ তথা রাজনীতি দায়ী৷ অথচ রোগী, বিশেষভাবে অসুস্থ মানুষজন কিংবা মরণাপন্ন মানুষদের সাহায্যের জন্য সরকারের অর্থবরাদ্দ ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়ে আসছে৷ এই বৃহস্পতিবারেই জার্মান সংসদ হাসপাতালগুলোর বাজেট, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং প্রতিবন্ধীদের সুযোগসুবিধা নিয়েও আলোচনা করে – যা থেকে বোঝা যায় যে, জীবনের মূল্য আছে, তা আমরা যতোই চোখ বুজে থাকার চেষ্টা করি না কেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়