1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মন্ত্রী তারানা হালিমের ‘শাস্তি’ চাই

কোনো অপরাধী অপরাধ স্বীকার করেনা৷ খুনি বলে, খুন করিনি৷ চোর বলে, চুরি যে করেছি প্রমাণ আছে? সরকারের কোনো মন্ত্রীকে কোনোদিন শুনিনি মহা অন্যায়, মহাভুলের জন্যও ক্ষমা চাইতে৷ তারানা হালিম চেয়েছেন৷ আমি তাঁর শাস্তি চাই৷

মহা অন্যায় করেছেন বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম৷ ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ৷ এমন অপরাধে তাঁর শাস্তি হলে জাতিসংঘের কোনো বিবৃতি আসবে না, মানবাধিকার সংস্থাগুলোও মানবতার বাণী নিয়ে হাজির হবে বলে মনে হয়না৷ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসীরাও তারানার পাশে না দাঁড়ানোর বাহানা খুঁজবেন বলেই মনে হচ্ছে৷ সুতরাং প্রতিমন্ত্রী হলেও আমি তারানা হালিমের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে ঘোরতর অপরাধটির জন্য নিন্দা জানাচ্ছি৷ জোর গলায় তাঁর শাস্তি দাবি করছি৷

গত দু-তিন বছর ধরে অন্যায় করেই চলেছেন তারানা হালিম৷ (বিতর্কিত) দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে শপথ নিলেন ২০১৪ সালের মার্চে৷

তিন মাসের মধ্যেই হয়ে গেলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী৷ এটা কোনো কথা হলো? কত জনের মুখের খাবার কেড়ে নিলেন তা কি জানেন তারানা ? একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারানা হালিম কি বোঝেন না, আজ আওয়ামী লীগ, জাসদ বা সরকারি জোটের অন্য দলগুলোর যেসব নেতা হাসিমুখে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের অনেকেরই হাসিটা অভিনয়? ‘মুখের খাবার' মন্ত্রিত্বের সুযোগটা কেড়ে নেয়ায় অনেকেই হয়তো গত জুলাই থেকেই তাঁর মুখের হাসি কেড়ে নেয়ার সুযোগ খুঁজছেন – এটা তারানা হালিম জানেন না? এসব না বোঝা বা না জানা এবং নারী হয়ে মন্ত্রী হওয়াও নিশ্চয়ই ‘অপরাধ'৷

মন্ত্রী হয়ে কী করলেন তারানা হালিম? একরকম যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলেন অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার বিরুদ্ধে৷ কত সরকারি এবং বেসরকারি রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এই খাত থেকে মাসে কত রোজগার করেন তা আমরা জানিনা৷ কিন্তু অনেকে যে চুপিসারে অবৈধ আয়ের ভাগবাটোয়ারায় শরিক তা তো দেশের দুগ্ধপোষ্য শিশুও জানে৷ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই তারানা হালিম জানালেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় জড়িত বলে প্রমাণিত হলে তাঁদের নিশ্চয়ই চাকরি যাবে৷ অসৎ লোকদের পেটে লাথি মারতে চেয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী৷ এটা ভারী অন্যায়৷

সরকারি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের সেবা ও অনিয়ম নিয়ে ওঠা সব অভিযোগ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করতে চেয়েছেন মাত্র কয়েকদিন আগে৷ ২৯ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে গত প্রায় ১১ বছরে জাতিকে শুধু ক্ষতিই ‘উপহার' দিয়েছে টেলিটক৷ কিন্তু এত বছরে একজন মন্ত্রীও কি মহার্ঘ্য এই উপহার বন্ধের জন্য কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন? নেননি৷ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সেই দিনের মেয়ে' তারানা হালিম কেন এমন জনহিতকর ব্যবস্থা নিতে যাবেন? এটা মহা অন্যায় নয় তো কী!

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই এক সময়ের সুঅভিনেত্রী তারানা হালিম বড় বেশি ‘অপরাধপ্রবণ৷' স্কুলজীবনে অভিনয়ে হাতে খড়ি যাঁর ‘পিঁপড়া' চরিত্র দিয়ে জাতীয় রাজনীতির পাঠশালায় এসেই মেধা, রুচিশীলতা, স্পষ্টবাদিতা, ইতিহাসসচেতনতায় দেশের রাজনীতির বহু গণ্যমান্য হাতি-ঘোড়াকে তিনি লজ্জা দিয়েছেন৷ হেফাজত-এ ইসলামের নেতা আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র নারীদের বিষয়ে অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য এবং নারীকে আবার অন্তঃপুরবাসিনী করার ঘোষণার কড়া প্রতিবাদ করেছেন তারানা হালিম৷ সরকার যেখানে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি' কায়দায় হেফাজতকে নিশ্চিন্ত, নিরাপদ রাখছে, সেখানে তিনি ধর্মের প্রকৃত সত্য তুলে ধরে প্রকাশ্যে যৌক্তিক বিরোধিতা করলেন হেফাজতের? বেশির ভাগ জামায়াত, বিএনপি এবং অনেক আওয়ামী লীগ নেতারই তো তাতে ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা৷ শুধু ফায়দা তোলার রাজনীতি যাঁরা করেন, তাঁদের কোমল মনে আঘাত দিয়েও খুব, খু-উ-ব, খু-উ-উ-উ-ব বড় অপরাধ করেছেন তারানা হালিম৷

তবে সবচেয়ে বড় অপরাধটি করেছেন সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের চরম উৎকণ্ঠা, উত্তেজনার মুহূর্তে ফেসবুক-ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের কয়েকটি মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে

কিন্তু নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধে বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হলেও ফেসবুক আসলে সবার জন্য বন্ধ রাখা যায়নি৷ অনেকেই বিকল্প পথে তা ব্যবহার করেছেন৷ কেউ কেউ আবার সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিকল্প পথে ফেসবুক ব্যবহারের উপায় শিখিয়েও দিয়েছেন প্রশিক্ষকের মতো৷ সুতরাং তারানা হালিম তো ব্যর্থ হতে বাধ্য৷

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফেসবুক ব্যবহার করে বিটিআরসি, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং তারানা হালিমকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছেন অনেকে৷ যারা ফেসবুকে খোশগল্প করতে পারছেন না, তাঁরা ভীষণ মর্মাহত হয়েছেন৷ মডেলরা জানিয়েছেন, তাঁদের মন খারাপ

ফেসবুক বন্ধ রাখার আর্থিক ক্ষতির দিকটিও তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমের একাং৷ অবশেষে তারানা হালিম নিজেই অপরাধটা বুঝতে পেরেছেন৷

তিনি বুঝতে পেরেছেন বাংলাদেশ আর বেলজিয়াম বা ফ্রান্স এক নয়৷ বেলজিয়াম আর ফ্রান্সের মতো দেশে নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর যে কোনো ব্যবস্থা নিলে জনগণ তা মেনে নেয়৷ বেলজিয়ামে কোনো হামলা হতে পারে – এই আশঙ্কাতেই বন্ধ করে দেয়া যায় স্কুল-কলেজ, বন্ধ রাখা যায় মেট্রো রেল, কিছু অফিস-আদালত-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে৷ এত কিছু বন্ধ করার পরও একজন সন্ত্রাসী ধরা না পড়ায়, কিংবা একটা গুলির শব্দও না শোনায় কেউ টুঁ শব্দটিও করে না৷ তাঁরা জানে, একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে অন্যদের যদি বড় কোনো ত্যাগও স্বীকার করতে হয়, তা করা প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক এবং মানবিক দায়িত্ব৷

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও অনেক কষ্ট সহ্য করে মুখ বুঁজে৷ কিন্তু অন্যরা পারেন না৷ তাই রামুর বৌদ্ধ মন্দির, ঘর-বাড়িতে হামলার কথা ভুলে গিয়ে তাঁরা ফেসবুক বন্ধ থাকায় মন খারাপের কথা জানাতে পারেন৷ সাঈদীর চন্দ্রবিজয়ের গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার অতীতকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘ফেসবুক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা' কত অযৌক্তিক এবং হাস্যকর তা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে৷

সবার তৎপরতা সফল৷ নিজের ‘অপরাধ' স্বীকার করেছেন তারানা হালিম৷ যে দেশে খুনিও জোর গলায় বলে ‘খুন করিনি, আমি পৃথিবীর সেরা শান্তিপ্রিয় মানুষ', যে দেশে কোটি কোটি টাকা নয়-ছয় করা মানুষ নিজেকে সৎ ব্যবসায়ী, সৎ রাজনীতিবিদ দাবি করে যায় – সেই দেশে একজন রাজনীতিবিদ, একজন মন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন৷ চিঠিতে তারানা হালিম লিখেছেন, ‘‘দেশের মানুষের জীবনরক্ষার চেষ্টা করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী৷''

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘আমরা বড় বেশি কঠিন, কঠোর হয়ে গেছি – তাই মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টাকারীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়৷ ধন্যবাদ সকলকে যারা মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রচেষ্টাকে ব্যঙ্গ করেন, তিরস্কার করেন৷ এ জন্যই হয়ত মানুষের জায়গায় আসছে রোবট৷ রোবট হবার পথ থেকে খুব দূরে কি আমরা?''

সবাইকে রোবটের সঙ্গে তুলনা করেই ক্ষমার অযোগ্য সবচেয়ে বড় অপরাধটি করেছেন তারানা হালিম৷ রোবট সব অবস্থাতেই ‘নিয়ম' মেনে চলে৷ আমরা অনেকে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থেও সামান্য ত্যাগ স্বীকারের নিয়ম মানতে পারিনা৷ এমন মানুষকে রোবট বলা রোবটের জন্যই ‘মানহানিকর'৷ পৃথিবীর সব প্রকৃত রোবটের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ‘শাস্তি' চাই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়