1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

মন্ত্রীর নির্দেশে ধর্মঘট, মন্ত্রীর নির্দেশেই প্রত্যাহার!

বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘটের অবসান হলেও নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ ঢাকায় তার সরকারি বাসায় তার সভাপতিত্বেই এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে৷

নৌ-মন্ত্রীই আবার যাত্রীদের ২৪ ঘণ্টার জিম্মি দশায় রেখে বুধবার বিকেলে পরিবহন শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে৷ মন্ত্রী হলেও শাহজাহান খান একই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি৷

২০১১ সালে  ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর নিহত হন৷ ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি জামির হোসেন নামের এক পরিবহন শ্রমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত৷ এছাড়া সাভারে এক নারীকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে ২৭ ফেব্রুয়ারি মীর হোসেন মীরু নামে আরেক চালককে ফাঁসির আদেশ দেন সিএমএম আদালত৷

- Minister Shahjahan Khan Bangladesch - Landesweiter Streik der Bus- und LKW Fahrer (bdnews24.com)

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান

জামির হোসেনকে কারাদণ্ড দেয়ার পরদিন থেকেই তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেন৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলনার ১০ জেলার পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেন৷ পরদিন দুপুরের পর তারা ধর্মঘট শিথিল করার ঘোষণা দিলেও ওই দিন আরেক চালককে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় রাতে ঢাকায় নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় মালিক শ্রমিকদের বৈঠকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালে পরিবহন ধর্মঘটের কর্মসূচি দেয়া হয়৷ মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বেই বৈঠক হয় বলে জানা গেছে৷

এ নিয়ে শাজাহান খানের সঙ্গে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি৷ তবে ওই বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা খুলনার ধর্মঘট শিথিলের জন্য বৈঠকে বসেছিলাম, তবে তখনই একজন চালকের মৃত্যুদণ্ডের খবর আসায় সেখানে উপস্থিত শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান৷ তারা কর্ম বিরতির ঘোষণা দেন৷ এতে নৌ-মন্ত্রী বা আমার কোনো হাত নেই৷’’ তিনি প্রশ্ন রাখেন চালকরা গাড়ি না চালালে তাদের কী করার আছে?

অডিও শুনুন 02:47

‘এতে নৌমন্ত্রী বা আমার কোনো হাত নেই’

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদেশে হঠাৎ ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে৷ ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন৷ আর নৌ-মন্ত্রী ধর্মঘটের সমর্থনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘শ্রমিকরা মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে গাড়ি না চালালে তাদের তো জোর করা যায় না৷ তারা স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছে৷’’

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পরিবহন শ্রমিকদের৷ তারা পুলিশ বক্স এবং রেকার জ্বালিয়ে দেয়৷ এমনকি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালায়৷ আর এতে টনক নড়ে সরকারের৷ আর সরকারের মন্ত্রীই পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে এই খবরে ব্যাপক সমালোচনা হয় সারাদেশে৷ তাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপে বাধ্য হয়ে দুপুরের পর নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন৷ তবে এখানেও তিনি কৌশল অবলম্বন করেন৷ তিনি দাবি করেন, ‘‘এটা ধর্মঘট নয়, মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি ছিল, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা করেছে৷’’

তবে চাপ আরো ছিল৷ বুধবার সকালেও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘটকে অবৈধ ঘোষণার দাবিকে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ৷ দুপুরে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের সময় আদালত রুলও দিয়েছেন৷ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট৷ বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন৷

অডিও শুনুন 02:25

‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বেআইনি’

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বেআইনি৷ এটা কোনোভাবেই হতে পারে না৷ এর এই অবৈধ ধর্মঘটের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে৷’’ তিনি জানান, ‘‘তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও রিটের রুলের উপর শুনানি হবে৷ আর যাতে কেউ অযৌক্তিক ধর্মঘট করতে না পারে সে ব্যাপারে আদালত নির্দেশনা দেবেন বলে আশা করি৷ আর যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা আদালতে গেলে ক্ষতিপূরণ পাবেন৷’’

বুধবার ধর্মঘট শুরুর পর সরকারের একাধিক মন্ত্রী ধর্মঘটকে অবৈধ এবং অযৌক্তিক বললেও নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান ছিলেন অনঢ়৷ তিনি ধর্মঘটের পক্ষে তার সাফাই অব্যাহত রেখেছিলেন৷ তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চাপে এবং হাইকোর্টে রিট হওয়ায় তিনি রণে ভঙ্গ দেন৷

মশিউর রহমান রাঙা অবশ্য দাবি করেন এটাকে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ধর্মঘট বলা যাবে না৷ তার মতে, এটা শ্রমিকদের কর্মবিরতি ছিল৷ তারা মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মত শাস্তি মাথায় নিয়ে গাড়ি চালাতে চান না৷’’

তিনি আরো বলেছেন, ‘‘আমরা সরকারে থেকে, সরকারের মন্ত্রী হয়ে ধর্মঘট-এর কর্মসূচি দেই কীভাবে! দিতে পারি না৷ নৌ-মন্ত্রী এই ধর্মঘট ডাকেননি৷ শ্রমিকরা এখন কাজে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷’’

প্রিয় পাঠক, এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও