1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মধ্য প্রাচ্যে আধুনিক ক্রীতদাসী

ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য, কাজের জন্য, আফ্রিকা এবং এশিয়া থেকে হাজার হাজার মানুষ ইউরোপে পাড়ি জমায়৷ অনেক মেয়েরই লক্ষ্য মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরবে৷

default

এশিয়া ও আফ্রিকার মহিলারাই মধ্য প্রাচ্যে আধুনিক ক্রীতদাসে পরিণত হচ্ছে

সৌদি আরব ছাড়াও অন্যান্য আরব দেশে কাজের জন্য মেয়েরা যেতে ইচ্ছুক, প্রস্তুত৷ কিন্তু সবকিছুই কী খুব সহজে হয়ে যায় ? দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে কে না চায় ? মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রায় ১৫ লক্ষ মেয়ে বাসা-বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করছে৷ সেখানে তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে হাজারো সমস্যার৷ অনেক ধরণের নির্যাতন চালানো হয় এসব মেয়েদের ওপর৷ আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার মেয়ে ফাতমা আতমানের ভাষ্য, ‘‘আমি আমার প্রতিদিনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলাম৷ আমি টের পাইনি যে আমার মালিক চারতলা পর্যন্ত আমার পিছু পিছু এসেছে৷ আমি চারতলার বারান্দায় ধোয়া কাপড় নেড়ে দিচ্ছিলাম৷ আমি বুঝিনি যে কেউ আমার পিছু নিতে পারে, আমি তাঁকে দেখিওনি৷ বুঝতে পারছেন ? আমাকে ধাক্কা দেয়া হয়েছিল, তা আমি টের পেয়েছি৷ এর কিছুক্ষণ পরেই আমি নিজেকে একেবারে নীচে আবিষ্কার করি৷ তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল, আমাকে ধাক্কা দেওয়ার পর আমার মালিক ওপর থেকে চিৎকার করছিল, ‘মরে যাও, মরে যাও'৷ শুধু আল্লার কৃপায় আমি বেঁচে গিয়েছি৷ কারণ আমি নীচে সুইমিং পুলের মধ্যে গিয়ে পড়ি৷''

২৬ বছর বয়সি ফাতমা আতমান এই অভিজ্ঞতা কোনদিনই ভুলবে না৷ সেই ধাক্কার ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে ফাতমার৷ সে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে৷ বাকি জীবন তাকে কাটাতে হবে ক্লিনিকে৷ আজ ফাতমার পাশে এসে দাড়িয়েছে তার পরিবার৷ প্রায় দেড় বছর আগে সে কেনিয়া থেকে কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিল৷ পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য৷ সেটা ফাতমা পারেনি বরং এখন প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকা-পয়সাও তাঁর কাছে নেই৷ পরিবারকে আর সাহায্য করতে পারছে না বলে ফাতমা সারাক্ষণই এক ধরণের হীনম্মন্যতায় ভোগে৷ফাতমা জানাল, ‘‘আমি বেশিরভাগ সময়েই ঘুমাতে পারিনা৷ আমি কেনিয়াতে ফিরে আসার পর একেবারে ছোট একটি শিশুর মত হয়ে গেছি৷ আমার নিজেকে এখন একটি বাড়তি ঝামেলা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না৷ আমার দরিদ্র পরিবার, সেখানে আমি সমস্যা বাড়াচ্ছি৷ একারণে আমার খুবই কষ্ট হয়, দুঃখ হয়৷''

Verschleierte Frauen stehen um ein Taxi in Riyad Saudi Arabien

পর্দার আড়ালে লুকিয়ে কার মুখ ?

অথচ প্রথমে ফাতমা ভেবেছিল সৌদি আরবে সে স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করবে৷ বিদেশে কাজের সুযোগ-সুবিধা করে দেয় এরকম একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাতমা৷ সংস্থাটি জানতো ফাতমা কোথায় যাচ্ছে, কোথায় কাজ করবে কিন্তু ফাতমাকে সংস্থাটি কিছুই জানায়নি৷ সৌদি আরবে নামার পরই এয়ারপোর্ট থেকে সংস্থার একজন এসে ফাতমাকে নিয়ে যায়৷ প্রথমেই ফাতমার পাসপোর্ট তারা নিয়ে নেয়৷ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেই বাড়িতে যেখানে ফাতমা গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করে৷ বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই ফাতমা বুঝতে পারে তাকে দিয়ে কোন ধরণের কাজ আদায় করা হবে৷ প্রথমে তাকে দিনে ১৮ ঘন্টা কাজ করতে হত৷ ঘুমানোর জন্য যথেষ্ট সময় ফাতমা পেত না৷ এরপর ফাতমার ওপর শুরু হয় অত্যাচার৷ শারারিক নির্যাতন শুরু করে মালিক এবং তার ছেলে শুরু করে যৌন অত্যাচার৷ ফাতমা বলল, ‘‘যারা দরিদ্র তাদের আসলে কোন ধরণের অধিকারই নেই৷ আমাকে অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল৷ মানসিকভাবে আমার মালিক আমাকে চিরকালের জন্য পঙ্গু করে দিয়েছে৷ আমি এসব কিছুতেই ভুলতে পারবো না৷ আমার ওপর যে সব অত্যাচার করা হয়েছে তা আমি কোনদিনই ভুলবো না৷ আমার মালিক আমাকে অনুভূতিহীন এক জড় পদার্থ বানিয়ে ফেলেছে৷''

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সৌদি আরবে এধরণের মেয়েদের সাহায্যে কাজ করে যাচ্ছে৷ তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবে প্রায় পনের লক্ষ মেয়ে বাড়িতে কাজ করছে৷ তাদের মধ্যে অন্তত ৯ লক্ষ মেয়ে নিয়মিত বিভিন্ন ধরণের অত্যাচারের মুখে পড়ছে৷ রিয়াদ সরকারের ওপর হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ চাপ দিচ্ছে এসব কর্মীদের মানবাধিকার রক্ষায় নতুন আইন প্রণয়নের জন্য৷ সংস্থার পক্ষ থেকে ক্রিস্টফ উইলকে জানান,‘‘ বাসা-বাড়িতে কাজের মেয়েদের ওপর অত্যাচারের এই সমস্যা শুধু সৌদি আরবেই সীমিত নয়৷ বরং বিশ্বের অনেক দেশেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে৷ তবে মধ্য-প্রাচ্যের দেশেই এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি৷ তার মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত এবং আরব আমিরাত এগিয়ে৷ সৌদি আরবে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি, এর মূল কারণ হল এই দেশটিতে কাজের মেয়েদের মানবাধিকার রক্ষায় কোন আইন নেই৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়