1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ, সংলাপের সম্ভাবনাও

বাংলাদেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন ও সংলাপের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে৷ ধারণা করা হচ্ছিল, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সব দলের অংশগ্রহণে আরেকটি নির্বাচনের হবে৷ সরকার ও বিএনপির মধ্যে শুরু হবে সংলাপ৷ সে সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে৷

প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা এবং মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, পাঁচ বছরের আগে নির্বাচন এবং বিএনপির সঙ্গে সংলাপ কোনোটাই হবে না৷ এর আগে একাধিক মন্ত্রী বার বার বলেছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকার পাঁচ বছরে জন্য ক্ষমতায় এসেছে৷ এমনকি জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও মনে করেন যে, তাঁরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ এছাড়া নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যখন নির্বাচন হবে তখন আলোচনা হবে৷ তিনি আলোচনার জন্য জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার জন্য বলেছেন বিএনপিকে৷

এদিকে নির্বাচনের পর বিদেশি কূটনীতিকরা আলোচনা এবং সমঝোতার কথা বললেও, বিএনপিকে সহিংসতা ছাড়ার কথাও বলেছেন তাঁরা৷ কিন্তু তার পরেও, নতুন সরকার যে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা আপাতত বাস্তবতা পায়নি৷ ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন৷ এমনকি কোনো ধরণের অর্থনৈতিক অসহযোগিতার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না, যা নতুন সরকারকে স্বাভাবিকভাবেই উজ্জীবিত করেছে৷ তাই তারাও কূটনৈতিক তত্‍পরতা জোরদার করেছে৷ আর ভারত, রাশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ সরকারের সরাসরি পক্ষেই আছে৷

ওদিকে বিএনপি তার আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করেছে৷ তারা জামায়াতের সঙ্গে এক ধরণের দূরত্ব বজায় রাখছে৷ সহিংসতার সুযোগ আছে এমন ধরণের সরকারবিরোধী কর্মসূচি থেকে আপাতত বিরত আছে দলটি৷ তারা আগামী ছয় মাস এভাবেই চলবে বলে জানা গেছে৷ বিএনপির চেয়ারপার্সন বর্তমান সরকারকে অবৈধ বললেও, তিনি সংলাপ-সমঝোতা এবং নতুন নির্বাচনের দাবি তুলছেন এই সরকারের কাছেই৷



জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ জানিপপ-এর চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে৷ নির্বাচনের আগের অবস্থা আর নেই৷ সরকার এখন তার অবস্থান শক্ত করেছে৷ তাই তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না৷ তাঁর মতে, যদি মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়ও তা ২০১৬ সালের আগে হবে না৷ তাছাড়া, সেই নির্বাচন যে বিএনপির চাপের কারণে হবে, তাও নয়৷ সেটাও হবে বর্তমান সরকারের কৌশলের কারণে৷

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, তারা আগেই একটি একপাক্ষিক নির্বাচনের আশঙ্কা করেছিলেন এবং তাই হয়েছে৷ বিএনপি নির্বাচনের আগে আন্দোলনের যে কৌশল নিয়েছিল, তা দেশে-বিদেশে শেষ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয়নি৷ ভবিষ্যতেও সহিংস আন্দোলন দিয়ে কিছু করা যাবে না৷ বিএনপি কিছু করতে চাইলে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনে যেতে হবে৷ তবে তাও সফল হতে কতদিন লাগবে, তা নিয়ে সন্দিহান তিনি৷ তিনি মনে করেন, সংলাপ হলেও তা হবে একাদশ সংসদ নির্বাচন কোন ধরণের সরকার ব্যবস্থার অধীনে হবে – শুধুমাত্র তা নিয়ে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, বিএনপির জন্য সংলাপ প্রয়োজন৷ সংলাপ হলে বিএনপি তার সহিংস আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি জায়গা পাবে৷ তবে সরকারের মধ্যে ‘সবকিছু জয় করে ফেলেছি' ধরণের যে মনোভাব কাজ করছে, তাতে তারা সংলাপ নিয়ে টালাবাহানা করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ ড. মজুমদার মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও সন্দিহান৷ তবে তিনি মনে করেন, সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়