1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা আবারো শুরু করতে চান বাইডেন

সোমবার তাঁর মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন৷ উদ্দেশ্য একটাই - মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা৷ এ সফরে বাইডেন ইসরায়েল, প্যালেস্টাইন, মিশর ও জর্ডানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন৷

default

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব গ্রহণের পর, বাইডেনই হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ ব্যক্তি যিনি মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন৷ বলাই বাহুল্য, প্রেসিডেন্ট ওবামা ইসরায়েলের নিরাপত্তার ব্যাপারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পালন করাই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য৷

এদিকে, প্যালেস্টাইন এবং ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা গত প্রায় ১৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে৷ এমনকি, এই আলোচনা আবারো শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতাও কোনো কাজে আসেনি৷ তার ওপর, গাজায় সাম্প্রতিককালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলবিরোধী ফিলিস্তিনি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন' বা পিএলও ইসরায়েলের সঙ্গে কোনরকম আলাপচারিতায় আগ্রহী নয়৷ তাই ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট শান্তি আলোচনা শুরু করার শত চেষ্টা করার পরও ব্যর্থ হয়েছেন৷

তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এই সফর, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় একটি নতুন দিকের সন্ধান দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ এ ব্যাপারে প্রধান ফিলিস্তিনি আলোচক সায়েব এরাকাত বলেন, ‘‘শান্তি আলোচনার এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কিছুতেই ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নয় ইসরায়েলের৷ সেটা হলে আন্তর্জাতিক সমাজের সামনে আমরা মুখ দেখাতে পারবো না৷ কিন্তু ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বসতিস্থাপন এ অঞলের ভবিষ্যতকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে৷''

ওদিকে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফতাহ্ আন্দোলন ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই৷ ফতাহ্'র এক মুখপাত্র জানান, প্রথমে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ চলবে৷ ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনা হবে না৷ অর্থাৎ, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আব্বাস তাঁর পূর্বের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন৷ উল্লেখ্য, এযাবৎ নতুন আলাপ-আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে পশ্চিম জর্ডান এবং পূর্ব জেরুসালেমে ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানান আব্বাস৷ যা মেনে নিতে কিছুতেই রাজি নয় ইসরায়েল৷ তবে এ ব্যাপারে গত শনিবার ইসরায়েলি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিশেষ মার্কিন দূত জর্জ মিচেল৷ কথা বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু'র সঙ্গেও৷ নেতানিয়াহু'র কথায়, ‘‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি এবং আন্তর্জাতিক সমাজ এটা জানে যে, আমরা শান্তি আলোচনা শুরু করার পক্ষে৷ আর শুধু শুরুই নয়, এ আলোচনার শেষও দেখতে চাই আমরা৷ তাছাড়া, গত প্রায় ৩০ বছর ধরে জো বাইডেন-এর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই, তাঁর এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ৷''

অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম বিশ্ব, বিশেষ করে মিশর, সৌদি আরব এবং ইন্দোনেশিয়া সফরের ফলে প্রেসিডেন্ট ওবামা'কে বিশেষ বিশ্বাস করে না ইসরায়েল৷ সুতরাং, এবার যদি ইসরায়েল শান্তি আলোচনার ব্যাপারে নমনীয় হয়, তাহলে এটা বুঝতেই হবে যে ইসরায়েলের প্রতি পর্যাপ্ত সমর্থন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের৷

প্রতিবেদক : দেবারতি গুহ

সম্পাদনা : সাগর সরওয়ার

সংশ্লিষ্ট বিষয়