1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মধ্যপ্রাচ্যে আবারো ‘ম্যার্স’ আতঙ্ক

মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম, সংক্ষেপে ‘ম্যার্স’ ভাইরাসের সংক্রমণে সৌদি আরবে মৃতের সংখ্যা ১০০-র ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পর, এবার নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে৷ বেশ কয়েকটি দেশ এ ভাইরাসে আক্রান্ত৷

Coronavirus

করোনা ভাইরাস

২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ধরা পড়ার পর, শুধুমাত্র সৌদি আরবেই অন্তত ৩২৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন৷ মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশেও ম্যার্সের সংক্রমণ ধরা পড়েছে৷

বলা বাহুল্য, এ রোগের কোনো প্রতিষেধক এ পর্যন্ত তৈরি করা যায়নি৷ তাই আতঙ্ক বেড়েই চলেছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা অবশ্য দাবি করেছেন যে, ম্যার্সের টিকা তৈরির কাজে অনেকটা এগিয়েছেন তাঁরা৷

ম্যার্স করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে টানা কয়েকদিন ধরে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে৷ কখনো কখনো অকেজো হয়ে যেতে পারে কিডনি৷ সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মানে তিনটি বিশেষায়িত হাসপাতালে এ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছ কর্তৃপক্ষ৷

কেবল জেদ্দা শহরে গত এক মাসে ম্যার্স সংক্রমণের হার বেড়েছে ৪৭ শতাংশ৷ এছাড়া সেখানে নতুন করে যাঁরা এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যকর্মী৷ তাছাড়া, এ রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশেরও বেশি৷ তাই অন্য শহর থেকে যাঁরাই জেদ্দা আসছেন, তাঁদের মুখে দেখা যাচ্ছে সাদা ‘পেপার মাস্ক'৷ ওদিকে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় পদত্যাগ করতে হয়েছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে৷

জেদ্দার একটি হাসপাতালের সাবেক নার্স লামিয়া গাজ্জাজ বলেন, ‘‘আমার বন্ধু, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, আমি যাঁদের চিনি – সকলেই আসলে অন্ধকারে আছি৷ সবার মধ্যে অনেক ‘কনফিউশন'৷ অনেকেই তাঁদের বাচ্চাকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না৷ অনেকে প্রয়োজন থাকার পরও হাসপাতালে যেতে ভয় পাচ্ছে৷''

রাওলা নামে ৩৫ বছর বয়সি এক তরুণী বলেন যে, তার পরিচিত মহলেও ম্যার্স আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷

‘‘আমার এক বন্ধুর চাচা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরপরই মারা গেছেন৷ কিন্তু ভয়ে আমি তাঁকে শেষবার দেখতেও যাইনি, যদি আমার মধ্যেও সংক্রমণ ঘটে...৷''

ম্যার্স সংক্রমণের আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসা বিভিন্ন মন্তব্য ও গুজব৷ বলা হচ্ছে – সরকার ম্যার্সে আক্রন্ত রোগীর যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ৷ সংক্রমণ ঠেকাতে সব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নাকি নেয়া হয়নি৷ সরকার অনেক বিষয় আড়াল করছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ৷

ম্যার্স ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে৷ ঠিক কীভাবে এ রোগ ছড়াচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা বলতে না পারলেও উটের মাধ্যমে এটা মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছন বিশেষজ্ঞরা৷

মূলত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতেই ম্যার্সের প্রকোপ বেশি৷ এছাড়া শরীরের সংস্পর্শ, হাঁচি বা কাশির মাধ্যমেও এ রোগ মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷

ম্যার্সের জন্য দায়ী ভাইরাস এসেছে সার্স ভাইরাসের গোত্র থেকে, যে রোগে ২০০২ সালের পর থেকে অন্তত ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে৷ তবে ম্যার্স তুলনামূলকভাবে কম সংক্রামক বলেই এখন পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে৷

জেকে/ডিজি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন