1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মধুচন্দ্রিমার মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি

দক্ষিণ আফ্রিকায় মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার শিকার হলেন এক ব্রিটিশ ভারতীয় দম্পতি৷ অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে পুরুষটিকে ছেড়ে দিল দুষ্কৃতীরা, পরে পাওয়া গেল সদ্য বিবাহিতার মৃতদেহ৷

default

অপহরণকারীদের হাতে নিহত হন সদ্য বিবাহিতা অ্যানি (ফাইল ফটো)

শিরেন আর অ্যানি দেওয়ানি৷ ঠিক দু'সপ্তাহ আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের ইংল্যন্ডের ব্রিস্টলে৷ তরুণ এই ব্রিটিশ ভারতীয় দম্পতি মধুচন্দ্রিমা যাপন করতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়৷ কিন্তু ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হল এই দম্পতির৷ বন্দুকের মুখে গুগুলেথু নামের কেপ টাউন থেকে সামান্য দূরের এক শহরে রাত এগারোটায় তাঁদের ট্যাক্সি থামিয়ে অপহরণ করা হয় দু'জনকে৷ কিছু পরে শিরেনকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয় হারারের কাছে হাইওয়েতে৷ আর পরের দিন পাওয়া যায় অ্যানির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ৷ কেপ টাউন পুলিশের মুখপাত্র কর্নেল আন্দ্রে টাউট এই খবর জানিয়েছেন৷

২৮ বছরের অ্যানি আর ৩১ বছরের শিরেনের পরিবার এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ, মূক৷ যোগাযোগ রেখে চলেছেন তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাসের সঙ্গে৷ হারারেতে, যেখানে শিরেন দেওয়ানিকে মাঝরাতে হাইওয়েতে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা, সেখানে এই যুবকের মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত৷ তিনি ভালো করে কথা বলতে পারছেন না এখনও৷ তাঁর চিকিৎসা চলছে নার্সিং হোমে৷ বলেছে পুলিশ৷ মাত্র গত শুক্রবারেই এই দম্পতি মধুচন্দ্রিমা যাপন করতে জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে নেমেছিল৷ তারপর তারা গুগুলেথুর ওয়াইন চাষ দেখতে যান৷ সেখান থেকে ফেরার পথে রাত এগারোটায় ঘটে যায় এই কাণ্ড৷

দক্ষিণ আফ্রিকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতেও বহু অভিযোগ উঠেছে৷ বিদেশি পর্যটকদের অপহরণ বা তাদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে সেদেশে৷ অপহরণকারীদের হাতে নিহত অ্যানির মৃতদেহের ময়নাতদন্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ তারপরেই স্পষ্ট বোঝা যাবে, ঠিক কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল এই হতভাগ্য নববধূর৷

তদন্ত চলছে পুরো ঘটনা নিয়েও৷ দুষ্কৃতীদের ধরার জন্য ঘটনাস্থলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জেরা করেছে পুলিশ৷ হয়তো অচিরেই দুষ্কৃতীরা ধরা পড়বে এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার৷

তা হয়তো পড়বে৷ কিন্তু এই সদ্য বিবাহিত দম্পতি এবং তাদের পরিবারের জীবনে যে ঘনকালো ছায়া পড়ল, তা বোধহয় আর কোনদিনই মুছবে না৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক