1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মতামত: ধর্ষণকাণ্ডে কাঠগড়ায় ভারত

ভারতের মতো দেশে এর চেয়ে খারাপ খবর আর হতে পারে না৷ কয়েকদিনের ব্যবধানে সেখানে তিনজন নারীকে যেভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হলো, তা অবর্ণনীয়৷ কিন্তু আমরা যদি মুখ না খুলি, সেটাও হবে অন্যায় – লিখেছেন ডয়চে ভেলের গ্রেহেম লুকাস৷

প্রতিটি নাগরিকের অধিকার এবং তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা যে কোনো দেশের গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান৷ নারীর অধিকার মানবাধিকার থেকে আলাদা কিছু নয়৷ অথচ যে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে গর্ব বোধ করে, যে দেশটির কাছে বিশ্বের মানুষের অনেক প্রত্যাশা, সেই ভারতে এই অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে চরম মাত্রায়৷

গত ২রা জুন উত্তর প্রদেশের পুলিশ ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে, যাঁকে কয়েকজন মিলে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়৷ কেবল তাই নয়, হত্যা করার আগে তাঁকে অ্যাসিড পানে বাধ্য করা হয় এবং তাঁর মুখ অ্যাসিডে ঝলসে দেয়া হয়৷

এর সপ্তাহখানেক আগে ওই এলাকা থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে ‘নিম্ন বর্ণের' দলিত সম্প্রদায়ের দুই কিশোরীকে হত্যা করা হয় নির্মমভাবে৷ গণধর্ষণের পর তাঁদের হত্যা করা হয় গাছে ঝুলিয়ে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ওই ঘটনার পর ভারতীয় পুলিশ ‘উচ্চ বর্ণের' যাদব সম্প্রদায়ের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে৷ আর ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ায় বরখাস্ত করা হয় দুই পুলিশ সদস্যকে৷ যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন৷ অল্প কয়েকজন সাংবাদিক মুখ্যমন্ত্রীরও সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন৷

২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দেশটিতে নারী নির্যাতনের সামগ্রিক চিত্রকে সামনে নিয়ে আসে৷ ওই ঘটনার পর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ভারত৷ নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের প্রতি ভারতের পিতৃতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে৷

গণদাবির মুখে ভারতের তখনকার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ধর্ষণের পর মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে৷ সন্দেহভাজন ধর্ষকদের বিচারের জন্য চালু করা হয় দ্রুত বিচার আদালত, নারীদের নিরাপত্তায় খোলা হয় পুলিশের একটি নতুন ইউনিট৷ কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভারতকে দেখিয়ে দিল – এই সংকট সমাজের কতটা গভীরে পৌঁছে গেছে৷

সরকার ধর্ষণ বন্ধে একটি আইনি কাঠামো দাঁড় করাতে পারে এবং আদালত সে অনুযায়ী অপরাধীর বিচার করে সাজা দিতে পারে৷ কিন্তু পরিস্থিতি যেখানে পৌঁছেছে, তাতে ভারতকে এর চেয়েও বেশি কিছু করতে হবে৷ ধর্ষণ সেখানে একটি সামাজিক সংকটের চেহারা নিয়েছে, কেউ কেউ একে বলছেন একটি ‘সামাজিক ব্যাধি'৷

ভারতে একজন নারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা যেমনই হোক, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর জীবন চলে স্বামী ও পরিবারের মর্জিতে৷ তাঁদের যেন সব সময় ‘অধস্তন' হয়েই থাকতে হবে৷ আর ভারতের সনাতনি গোঁড়া সমাজ কাঠামো এর পারিবারিক সংস্কৃতির মাধ্যমে, ধর্মের মাধ্যমে, ভারতীয় মিথলজির মাধ্যমে, এমনকি বলিউডের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নারীদের ওই ভূমিকায় থাকতে বাধ্য করে৷

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী মেনকা গান্ধী একটি ‘রেপ ক্রাইসিস সেল' গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন৷ নতুন সরকারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ৷ কিন্তু ভারতীয় সমাজকে এই ব্যাধি থেকে মুক্ত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এ জন্য প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে৷

আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে সমস্যার গোড়ায় যেতে হবে৷ জনগণকে বোঝাতে হবে যে, নিজেদের একুশ শতকের একটি সভ্য জাতি হিসাবে দাবি করতে হলে নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, সমাজে নারীর অবদানকে সবার আগে স্বীকৃতি দিতে হবে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়