1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মঞ্চে না থেকেও পাদপ্রদীপের আলোয় পুটিন

ব্রাসেলসে জি-সেভেন নেতৃবর্গের বৈঠক৷ নামটাই বলে দিচ্ছে, ১৬ বছর পর রাশিয়া আর বিশ্বের নেতৃস্থানীয় শিল্পোন্নত দেশগুলির এই সম্মেলনে উপস্থিত নয় – কারণ ইউক্রেন সংকটের দরুণ রাশিয়ার উপস্থিতি কাম্য নয়৷

জি-এইট থেকে কমিয়ে জি-সেভেন৷ রাশিয়া বাদ৷ ঐ বাদ পড়াটাই বস্তুত তার শাস্তি৷ আপাতত এর বেশি কিছু নয়৷ অর্থাৎ ব্যাপারটা যাকে বলা হয় কিনা একটা ‘ডেমনস্ট্রেশন', মানে প্রতীকী আচরণ৷ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনও ‘ডি-ডে'-র কমেমোরেশন উপলক্ষ্যে পশ্চিমে আসছেন৷ কিন্তু মঙ্গলবারে তিনি রাশিয়ায় বসেই ফরাসি মিডিয়াকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, যা-তে তিনি তাঁর নিজের, অর্থাৎ রাশিয়ার মনোভাব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে দিয়েছেন৷

‘‘আমরা এই সংকট ঘটাইনি,'' সাক্ষাৎকারে বলেছেন পুটিন৷ ‘‘আমরা রুশ জাতীয়তাবাদকে উসকানি দেবো না এবং আমাদের রুশ সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কোনো অভিপ্রায় নেই,'' ব্যঙ্গের সুরে বলেন পুটিন৷ ইউক্রেনে যা ঘটছে, তার পিছনে রাশিয়ার হাত আছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে পুটিন বলেন: ‘‘প্রমাণ দেখান৷ সারা বিশ্বের মনে আছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে ইরাকের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের প্রমাণ হিসেবে একটি টেস্ট টিউবে ওয়াশিং পাউডার পুরে বিশ্ব নিরাপত্তা পরিষদে প্রদর্শন করেছিলেন৷''

ব্রিটেন, ক্যানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা ব্রাসেলস থেকে জোরালো বক্তব্য রাখার প্রচেষ্টা করেছেন: ‘‘ইউক্রেনের সার্বভৌম বিষয়ে রুশ ফেডারেশনের অ-গ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ইউক্রেন সরকার ও ইউক্রেনের জনগণের পাশে আছি৷'' জে-সেভেন নেতারা যোগ করেন: ‘‘রাশিয়ার অবৈধভাবে ক্রিমিয়া দখল এবং পূর্ব ইউক্রেনের স্থিতি হানির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে৷''

অপরদিকে পুটিন তাঁর ইউরোপীয় এবং মার্কিনি ‘‘বন্ধুদের'' বিরুদ্ধে ইউক্রেনে একটি ‘‘সংবিধান বিরোধী সশস্ত্র অভ্যুত্থান''-কে সমর্থন করার অভিযোগ এনেছেন৷ তবে পুটিনের কণ্ঠেও আপোষের সুর শোনা গেছে: দৃশ্যত তাঁর ইউক্রেনের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কোর সঙ্গে মিলিত হতে কোনো আপত্তি নেই৷ প্যারিস ও নরমান্ডিতে তাঁর আসন্ন সফরে তিনি নাকি সকলের সঙ্গেই কথা বলতে প্রস্তুত৷ আপাতত তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন; শুক্রবার মিলিত হবেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে৷

মোট কথা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্তরোত্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি বজায় রাখা হচ্ছে৷ এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট৷ অপরদিকে একাধিক ইউরোপীয় নেতা পুটিনের সঙ্গে একক বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন – কেননা রাশিয়ার সঙ্গে আরেক পর্যায় ঠান্ডা লড়াই কিংবা তুষার যুগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইউরোপের ক্ষতিই বেশি৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন