1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কাম্বোডিয়ায় রক্তাক্ত বিক্ষোভ

কাম্বোডিয়ায় সরকার ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ তুঙ্গে উঠেছে৷ মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা৷ অন্যদিকে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করছে৷

লাঠিসোঁটা ও পেট্রোল বোমা নিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন৷ বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীও সর্বশক্তি প্রয়োগ করে৷ গুলিতে মারা গেছেন তিন জন৷ আহত হয়েছেন অনেকে৷ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী নম্পেনে৷

দ্বিগুণ বেতনের দাবি

গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের মাসিক বেতন দ্বিগুণ করে ১৬০ মার্কিন ডলার করতে হবে৷ এ কারণে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় বের হন, প্রতিবাদে ফেটে পড়েন৷ সরকার ২৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে৷ শ্রমিক ইউনিয়ন ও ভুক্তভোগীরা এটাকে নিতান্ত কম বলে মনে করেন৷

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্র এই দেশটি এ কারণে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ছে৷ পোশাক শিল্প বৈদেশিক মুদ্রার এক বড় উৎস৷ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই শাখায় কর্মরত৷ বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ব্র্যান্ড গ্যাপ, নাইকি এবং এইচঅ্যান্ডএম-এর জন্য পোশাক তৈরি করেন৷

Protest Textilarbeiter in Kambodscha

বাংলাদেশে শ্রমিক অসন্তোষের চিত্রটা খুব একটি ভিন্ন নয়, কী বলেন?

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে এই কারণে যে, বিষয়টি শুধু মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক শক্তির লড়াই ও বটে৷

শান্তিপূর্ণ মিছিলের আহ্বান

বিরোধী দলের প্রধান স্যাম রেইনসি শান্তিপূর্ণ মিছিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ তাঁর মতে প্রধানমন্ত্রী হুন সেন-এর সরকার অবৈধ৷ তিনি তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রতারণার অভিযোগ আনেন৷ পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘হুন সেনকে আমাদের দাবি দাওয়া শুনতে হবে৷ তিনি কাম্বোডিয়ার জনতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবেন না৷''

এই কথাগুলি পোশাক কর্মী টাচ-এর কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে৷ বছর দশেক ধরে তিনি কাজ করছেন অ্যামেরিকান কোম্পানি লেভি স্ট্রাউস-এর জন্য৷ মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তিনিও রাস্তায় নেমেছেন৷ তাঁর ও স্বামীর উপার্জনের টাকায় রাজধানীতে দুই ছেলে নিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর৷

টাচ দুটি লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন, ‘‘প্রথমত: তাঁদের ন্যূনতম মজুরি ১৬০ ডলার করতে হবে৷ দ্বিতীয়ত: প্রধান মন্ত্রী হুন সেনকে পদত্যাগ করতে হবে৷''

ঐক্যমতে পৌঁছানো যায়নি

অবশ্য সরকার ও শ্রমিক সমিতিগুলির মধ্যে কয়েকবার আলাপ আলোচনা হলেও ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি৷ সে পর্যন্ত গার্মেন্টস কারখানার অনেকগুলি বন্ধ থাকবে৷ এই পরিস্থিতিতে এটা সম্ভবও নয়৷ জানিয়েছে পোশাক উৎপাদানকারীদের সংগঠন জিএমএসি৷

সংগঠনটি বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয়টি শ্রমিক সমিতিকে এই ব্যাপারে দোষারোপ করে বলেছে তারা শ্রমিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং কারখানাগুলিকে ধ্বংস করছে৷ জিএমএসি অবশ্য শ্রম মন্ত্রণালয়েরও সমালোচনা করে বলেছে এটি শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না৷ ‘‘আমরা চাই মন্ত্রণালয় ও শ্রমিক সমিতিগুলি আমাদের সম্পদ রক্ষা করবে এবং কাজ করতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেবে৷'' এই সব দাবি পূরণ হলেই কেবল তারা সরকার ও শ্রমিক সমিতিগুলির সঙ্গে আলাপ আলোচনা আবার চালাবেন৷

নিজস্ব প্রতিবাদ বিক্ষোভ

সরকার ঘেঁষা শ্রমিক সমিতিগুলি জানিয়েছে, আগামীতে তারা নিজস্ব প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করবে৷ তাদের মতে পোশাক শ্রমিকদের সবাই এই লড়াই সমর্থন করেন না৷ তাদের ভাষায়, ‘‘বিনিয়োগকারীরা কিংবা কারখানার মালিকরা গার্মেন্টস শাখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অনাহারে থাকবেন না বরং শ্রমিকরাই হবেন ক্ষুধার শিকার৷''

বেসরকারি সংস্থা, কাম্বোডিয়ার মানবাধিকার কেন্দ্রের প্রসিডেন্ট ওউ ভিরাক বলেন, ‘‘অনেক কাম্বোডিয়ানই এখন দুর্নীতিপরায়ন সরকারের বিরুদ্ধে আর বেশিদিন মুখ বন্ধ করে রাখতে চাইছেন না৷ আমার মতে এটা ভালোই৷''

একই কাঠামোর দাবি

বিরোধী দলের উচিত হবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া৷ এতে শক্তিশালী অবস্থানে থেকে তারা দাবি আদায়ের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করতে পারবে৷ তবে তাদের দাবিগুলিও একটা কাঠামোর মধ্যে থাকতে হবে৷ বিরোধী দলের নেতা যদি শ্রমিকদের আহ্বান করেন, ন্যূনতম মজুরি ১৬০ ডলার করা না হলে অনির্দষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট চালিয়ে যেতে হবে, তাহলে তা বিনিয়োগকারীদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে পারে৷

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে এটাও বুঝতে হবে যে, তার জনপ্রিয়তা তেমন উঁচুতে নয়৷ তাঁর উচিত হবে ‘প্রস্থানের কৌশল' নিয়ে ভাবা এবং একজন যোগ্য উত্তরাধিকারী খোঁজা৷ এটা সফল হলে সরকারি দল সিপিপি সত্যিকারের কিছু সংস্কার সাধন করতে পারবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন