1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মগজের গ্রিড সেল হলো আমাদের জিপিএস

মানুষ যখন পথ খোঁজে, তখন তাকে ‘আলো' দেখায় মস্তিষ্কের এক কোষ সমষ্টি, যাদের নাম ‘গ্রিড সেল'৷ ইঁদুরদের মধ্যে এই গ্রিড সেল প্রথম আবিষ্কার করেন নরওয়ের এক বিজ্ঞানী ও তাঁর স্ত্রী – এডভার্ড ও মাই-ব্রিট মোজার৷

মানুষ যখন পথ খোঁজে, তখন তাকে ‘আলো' দেখায় মস্তিষ্কের এক কোষ সমষ্টি, যাদের নাম ‘গ্রিড সেল'৷ ইঁদুরদের মধ্যে এই গ্রিড সেল প্রথম আবিষ্কার করেন নরওয়ের এক বিজ্ঞানী ও তাঁর স্ত্রী – এডভার্ড ও মাই-ব্রিট মোজার৷

মানুষ যখন পথ খোঁজে, তখন তার মস্তিষ্কে কী ঘটে? মস্তিষ্ক বোঝে কী করে, মস্তিষ্কের অধিকারী আপাতত ঠিক কোথায় আছেন? মনস্তত্ববিদ তথা স্নায়ুবিজ্ঞানী এডভার্ড মোজার সারা জীবন ধরে এ নিয়ে গবেষণা করছেন৷ নরওয়ের বাসিন্দা মোজার ও তাঁর স্ত্রীর গবেষণার বিষয় হলো: মস্তিষ্ক যখন পথ খোঁজে, তখন তাকে কী করতে হয়৷ ২০১৪ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এডভার্ড মোজার বলেন:

‘‘কাজটা বেশ জটিল, কেননা পারিপার্শ্বিকের সব দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথটি খোঁজার জন্য তো বটেই, আবার এ-ও দেখতে হবে, পথে এমন কোনো বস্তু পড়ছে কিনা, যার জন্য অন্য পথে যেতে হতে পারে৷ অর্থাৎ জটিল সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে; এমন বহু জিনিস তুলনা করে দেখতে হবে, যেগুলো ঠিক এই মুহূর্তে হাতের কাছে কিংবা চোখের সামনে নেই৷''

Porträt - Körber Preis 2014 May-Britt und Edvard I. Moser

বিজ্ঞানী ও তাঁর স্ত্রী – এডভার্ড ও মাই-ব্রিট মোজার৷

মোজার দম্পতি গবেষণা করে বার করেছেন যে, একটি ইঁদুর যখন বিস্কুটের টুকরো খোঁজে, তখন তার মগজে পারিপার্শ্বিকের একটা মানচিত্র তৈরি হয়৷ এডভার্ড ও তাঁর স্ত্রী মাই-ব্রিট মোজার বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা প্রমাণ করতে পেরেছেন৷ এ বিষয়ে মাই-ব্রিট বলেন: ‘‘এই ইঁদুরগুলো যদি না থাকত আর তারা যদি আমাদের সাথে সহযোগিতা না করত, তাহলে আমরা কোনো তথ্য পেতাম না৷ সেই কারণেই ইঁদুরগুলোর সঙ্গে খেলা ও তাদের খুশি রাখাটা এত গুরুত্বপূ্র্ণ৷ ওরা খুশি না হলে, ওরা ভালো না থাকলে, ওরা আমাদের কার্যকরি তথ্য দিতে পারবে না৷''

মস্তিষ্কের জিপিএস

মস্তিষ্কে সূক্ষ্ম বিদ্যুতের তার ঢুকিয়ে মোজার দম্পতি ঠিক সেই কোষগুলো খুঁজে পান, যেগুলো সঠিকভাবে নির্দেশ করে, ইঁদুরটি আপাতত কোথায় রয়েছে৷ কোষগুলো যখন কাজ করে, তখন একটা আওয়াজ শোনা যায়৷ কোষগুলোর নেটওয়ার্ক ঠিক জিপিএস-এর মতো কাজ করে৷ মোজার বললেন: ‘‘জিপিএস যেমন একটা গাড়ির অবস্থিতির খেয়াল রাখে, ঠিক সেইভাবে এই কোষগুলো খেয়াল রাখে, মানুষ কিংবা প্রাণীটি কোনদিকে যাচ্ছে, তা সেটা রাস্তাই হোক আর একটা গাছই হোক কিংবা বাড়িই হোক৷ কাজেই দূরত্ব এবং দিক, এ দু'টোই হলো আসল কথা৷''

নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরা আবিষ্কার করেছেন যে, ইঁদুরের মগজের সংশ্লিষ্ট কোষগুলি পারিপার্শ্বিককে এক ধরনের গ্রিড হিসেবে ধরে রাখে – সেজন্য মোজার দম্পতি তাদের নাম দিয়েছেন ‘গ্রিড সেল'৷ কোষগুলি একটি মানসিক মানচিত্র তৈরি করে, যা অনুযায়ী ইঁদুরটি চলাফেরা করে৷ মোজাররা এ যাবৎ তাঁদের আবিষ্কৃত গ্রিড সেলগুলিকে শুধু শুনতে পেতেন৷ মিউনিখের নিউরো বায়োলজিস্ট টোবিয়াস বনহ্যোফার আর এক ধাপ এগিয়েছেন৷

মার্টিনসরিড-এর ম্যাক্স-প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর নিউরোবায়োলজি-র টোবিয়াস বনহ্যোফার বলেন: ‘‘মোজাররা স্বভাবতই স্পেসিয়াল পার্সেপশন এবং তথাকথিত গ্রিড সেলের ক্ষেত্রে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী – এবং সেজন্য তাঁরা নোবেল পুরস্কারও পেয়েছেন৷ আমরা যেটা যোগ করতে পারি, সেটা হলো ছবি: আমরা কোষগুলোকে দৃষ্টিগোচর করে তুলতে পারি৷''

আলৎসহাইমার হলে প্রথমেই যায় গ্রিড সেল

একটা কালো বাকসো কিংবা বাঁকাচোরা স্ক্রিন – তার মধ্যেই ইঁদুরদের রাস্তা খুঁজে নিতে হবে৷ টোবিয়াস বনহ্যোফারের বিশেষ প্রক্রিয়ায় গ্রিড সেলগুলো ঠিক যখন সক্রিয় হয়, তখনই তারা জোনাকির মতো আলো ছড়ায়৷ আলৎসহাইমার রোগীর ক্ষেত্রে এই সেলগুলি গোড়াতেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, বলে গবেষকদের ধারণা – কেননা ডিমেন্সিয়ার রোগী সবার আগে নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা হারিয়ে ফেলেন৷ কাজেই বিজ্ঞানীরা জানতে চান, গ্রিড সেলগুলি ঠিক কিভাবে কাজ করে এবং কখন তারা কাজ করা বন্ধ করে৷

মস্তিষ্কের জিপিএস আবিষ্কার শুধু একটা সূচনা, বলছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এডভার্ড মোজার৷ সমগ্র মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে, সেটা তাঁর কাছে আরো বড় আশ্চর্য৷ কাজেই আগামীতে তাঁর কাজের কোনো কমতি নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক