1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

ভয় যখন মহা অস্ত্র!

এক প্রতিবেদনে ক্রসফায়ার সংক্রান্ত এক মন্তব্য প্রকাশ করে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকা৷ সাভারের এমপি ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, ‘‘পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি, আরো ১৪ জনের লিস্ট করেছি৷ এখন সব ঠান্ডা৷''

যদিও পুলিশের সংবিধান মনে মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার কথা, কোনো এমপির দেয়া তালিকা অনুযায়ী মানুষ হত্যা করার কথা নয়, তবুও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন এমপি-র এমন মন্তব্য বেশ গুরুত্ব বহন করে৷ মানবজমিনে এনামুরের এই মন্তব্য প্রকাশের পর তাঁর নির্বাচনি এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে৷ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা, তাঁর বিরোধীরা ভয়ে আরো গুটিয়ে গেছেন, কেউ কেউ খোঁজ নিচ্ছেন তালিকায় তার নামে আছে কিনা৷ পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের তা জানা যায়, এনামুরের মন্তব্যের পর তাঁর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে করা দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন পড়লে৷ অনেকে সাংবাদিকদের কাছে দেনদরবার করেছেন এনামুরের তালিকায় তার নিজের বা অন্য কার নাম আছে জানতে৷ 

অথচ রানা প্লাজা ধসের পর এই এনামুরের হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়েছিলেন অসংখ্য শ্রমিক৷ সেসময় জনগণের কাছের মানুষ হিসেবে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে পরিচয়

পেয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দলের এই সাংসদ৷ তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভালো কাজের এক উপমা৷ অথচ এখন জানা যাচ্ছে সেই এনামুরও নাকি ক্রসফায়ারের নামে বিরোধীদের হত্যা করে এলাকা ঠান্ডা রাখেন! নিজের মুখে স্বীকার করেছেন সেকথা৷ অর্থাৎ তাঁর শক্তি জনতা নয়, ভয়৷

বাংলাদেশে ক্রসফায়ার নিয়ে সমালোচনা হয়েছে অনেক৷ বিশেষ করে ব়্যাবের ক্রসফায়ার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত আলোচনা হয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীকে হতে হয়েছে একটু কৌশলী৷ তাদের অপেক্ষাকৃত নতুন কৌশল গুম করে দেয়া৷ সাদা পোশাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় টার্গেটকে৷ এরপর এমনভাবে হত্যা করা হয় যাতে মরদেহ খুঁজে পাওয়া না যায়, কিংবা মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় কোন এক গোপন আস্তানায়৷ একসময় ছেড়ে দেয়া হয়৷ 

কিছুদিন আগে সুইডেনের এক সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত এক খবরও প্রকাশ হয়েছিল৷ ব়্যাবের কর্মকর্তা পরিচয়ে একজনের অডিও বক্তব্য প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি যেখানে সেই কর্মকর্তা ক্রসফায়ার, গুম কীভাবে করতে হয় তার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন৷ এসব খবর সত্যিই ভীতি তৈরি করে৷

আরাফাতুল ইসলাম

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

বাংলাদেশের অবস্থা এখন এমন যে, ভয়ের সংস্কৃতি তৈরিতে সবমহলই সক্রিয়৷ গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকজন ধর্মান্ধতার সমালোচক, নাস্তিক ব্লগার, প্রকাশককে হত্যা করেছে উগ্র ইসলামপন্থিরা৷ একেকজনকে হত্যার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে হত্যার কারণও জানিয়েছে৷ ফলে ব্লগারদের মাধ্যমে ইন্টারনেটে মুক্তভাবে মত প্রকাশের যে চর্চা তৈরি হয়েছিল, সেটায় অনেকটাই ভাটা পড়েছে৷ বলা যায়, উগ্র ইসলামপন্থিরা কয়েকজনকে হত্যা করে বাকি অনেককে ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ' বেছে নিতে বাধ্য করতে পেরেছে৷ এখন যারা এক আধটু ধর্মের সমালোচনা করে লিখছেন, তাদের অধিকাংশই থাকেন বিদেশে৷

উগ্র ইসলামপন্থি আর নিরাপত্তা বাহিনী – উভয় পক্ষই সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে চাচ্ছে৷ তাদের কাজের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী ক্রসফায়ারের নামে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কিংবা গুমের কথা স্বীকার করে না৷ তবে দেশি, বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন গুমের ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শীদের বয়ান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়া অন্য কারো পক্ষে কাউকে এভাবে তুলে নেয়া সম্ভব নয়৷  

প্রশ্ন হচ্ছে, যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায়, তখন ভয়ই কি দেশ পরিচালনার মোক্ষম অস্ত্র হয়ে ওঠে?

লিখুন মন্তব্যের ঘরে, জানান আপনার মতামত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন