1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভয় আর আশঙ্কার সিটি নির্বাচন

মঙ্গলবার ঢাকা ও চট্টগামে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন৷ তার আগে শুরু হয়েছে ‘অপরাধী ও মামলার আসামি’ গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান৷ বিএনপির অভিযোগ, তাদের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা যাতে কেন্দ্রে না যেতে পারে, সেজন্যই এ অভিযান৷

default

ফাইল ছবি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম অবশ্য ডয়চে ভেলেকে বলেন যে, আইনে নির্বাচনের দিন বা তার আগে-পরে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো আইনগত বাধা নেই৷

পুলিশের অভিযানে এরই মধ্যে ঢাকায় গত দু'দিনে কমপক্ষে অর্ধশত মানুষ আটক হয়েছেন৷ ঢাকা দক্ষিণের বিএনপি সমর্থিত পলাতক মেয়র প্রার্থী মীর্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস অভিযোগ করেন, ‘‘আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে৷ যাঁদের পাচ্ছে তাদের আটক করা হচ্ছে৷''

পুলিশ এর মধ্যে কয়েকজনকে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগেও আটক করেছে৷ যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইমলাম জানান, ‘‘মিরপুরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন লাখ টাকাসহ৷ সে ঢাকা উত্তরের বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের জন্য ভোট কিনছিল৷''

Bangladesch Politische Gewalt Polizisten in Dhaka

‘আইনে নির্বাচনের দিন বা তার আগে-পরে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো আইনগত বাধা নেই’

তবে বিএনপির চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস উইং-এর কর্মকর্তা সাইরুল কবির খান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এটা নতুন ষড়যন্ত্র৷ কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার অভিযানের সঙ্গে এখন বিএনপি প্রার্থীদের হেনস্তা করতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সময় গ্রেপ্তারে নতুন নাটক করছে পুলিশ৷''

ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে শাসক দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল৷ ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাঈদ খোকন, বিএনপির প্রার্থী মামলায় পলাতক মীর্জা আব্বাস৷ আর চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিএনপির প্রার্থী মনজুর আলম৷ মীর্জা আব্বাস ছাড়া বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা সকলেই প্রকাশ্যেই আছেন৷ তবে তিন সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী একাধিক মামলার আসামি হওয়ায়, তাঁরা এখনো আত্মগোপনেই আছেন৷

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আহমেদ আযম খান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে এসেছে পুলিশ৷ আর এখন সেই সব মামলায় হয়রানি করছে৷ নতুন মামলাও দিচ্ছে৷ কিন্তু মঙ্গলবার ভোটের দিন বিএনপি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন৷ ভোটকেন্দ্র কাউকে দখল করতে দেয়া হবে না৷''

তাঁর কথায়, ‘‘যতই ভয় দেখানো হোক, নীরবে বিএনপির প্রার্থীদের ভোট দেবেন ভোটাররা৷ সরকার এটা বুঝতে পেরেছে৷ তাই ভোটররা যাতে ভোটকেন্দ্রে না যান, সেই চেষ্টা করছে তারা৷''

ডিএমপি-র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়েছি যে, মঙ্গলবার আত্মগোপনে থাকা অনেক প্রার্থী, মানে যাঁরা মামলার আসামি, তাঁরা বের হয়ে আসতে পারেন৷ তাই আমরা সেভাবেই প্রস্তুত আছি৷ তাঁদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই গ্রেপ্তার করা হবে৷''

নির্বাচনে এবার শেষ পর্যন্ত মাঠে সেনাবাহিনী থাকছে না৷ তারা ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স' হিসেবে থাকবে৷ প্রয়োজন হলে তাদের ডাকা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ তবে সব মিলিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ৮০ হাজার সদস্য মাঠে থাকছে৷

তিন সিটিতে মোট ২,৭০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২,১৮০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ এবার মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ মোট এক হাজার ১৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন৷ মেয়র প্রার্থী মোট ৪৮ জন৷

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে৷ ভোটকেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত৷ আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনো কার্পণ্য করিনি৷''

শনিবার রাত ১২টার পর থেকে মোটরসাইকেল এবং সোমবার রাত ১২টা থেকে যানবাহন চলাচলে আরোপ করা হয়েছে নির্বাচনের জন্য৷ তবে প্রার্থী প্রশাসন ও অনুমোদিত ব্যক্তি এবং জাতীয় হাইওয়েতে এই নিষেধাজ্ঞা নেই৷ নির্বাচনের জন্য বুধবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ এদিকে বহিরাগতদের ঢাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে আগেই৷ কোনো কেন্দ্রে কোনো বহিরাগত পাওয়া গেলে পুলিশে দেয়া হবে বলেও কমিশন জানিয়েছে৷

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বছর পূর্তিতে এ বছর প্রতিবাদ সমাবেশ না করতে পেরে ৬ই জানুয়ারি থেকে টানা হরতাল অবরোধের কর্মসূচি পালন করে আসছিল বিএনপি৷ কিন্তু গতমাসে সিটি নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর, বিএনপি আন্দোলন ছেড়ে নির্বাচনমুখী হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়