1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার ২৬ তম বার্ষিকী

ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার ২৬ বছর পরও গ্যাস পীড়িতরা পেলনা ন্যায়বিচার৷ বর্ধিত ক্ষতিপূরণের সরকারি আশ্বাস কাজে পরিণত হয়নি আজও৷ গ্যাস দুর্ঘটনায় নিহতদের সন্তান সন্ততিরা পঙ্গু জীবন যাপন করছে৷ তাই আবার আন্দোলনের পথে নেমেছে মানুষ৷

default

১৯৮৪ সালে ভোপালে গ্যাস দূর্ঘটনা, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷

ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের ২৬ বছর পরেও বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে৷ এবছরের জুন মাসে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা মামলার রায়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় দোষীদের শাস্তি না হওয়ায় পীড়িতরা সবাই ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায়, জনরোষ দেখা দেয়৷ তা দেখে সরকার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়াতে এক কমিটি গঠন করেন৷ তারপরেও পেরিয়ে গেছে ৬মাস৷ কোন কিছুই হয়নি৷ এমন কী বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ কারখানা চত্বরেই পড়ে আছে৷ সরানো হয়নি৷ ইতিমধ্যে হাত বদল হয়েছে ইউনিয়ন কার্বাইডের৷ মালিকানা কিনেছে মার্কিন সংস্থা ডাও কেমিক্যালস৷ তারা সাফ জানিয়েছে আগের কোম্পানির কোন দায়ভার তারা নিতে বাধ্য নয়৷ ফলে ঐ অভিশপ্ত কারখানার আশপাশ এলাকার ভূগর্ভস্থ বিষাক্ত জল খেতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষদের৷

Flash-Galerie Mutter Teresa

আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন মাদার তেরেসা

সরকার নির্বিকার, উদাসীন, এই অনুযোগ অনেকের৷ তাই বাধ্য হয়ে আবার পথে নেমেছে পীড়িতরা এবং তাদের আন্দোলনে সামিল হয়েছে এনজিওগুলি৷ আওয়াজ উঠেছে যতদিন তারা ন্যায় বিচার না পাচ্ছে ততদিন এই লড়াই চলবে৷ তা সত্ত্বেও সরকারের ঘুম কী ভাঙবে ? ভাঙলে কবে ? প্রশ্নটা সেখানেই৷

১৯৮৪-এর ডিসেম্বরে বহুজাতিক সংস্থা ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানার ভয়ঙ্করতম শিল্প দুর্ঘটনায় বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়নেট গ্যাস লীক করে সরকারি মতে মারা যায় ১৫ হাজার, বেসরকারি হিসেবে ২৫ হাজার৷ তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম নানা দুরারোগ্য ব্যাধির শিকার৷ জড় বুদ্ধি, মানসিক বৈকল্য, শারীরিক পঙ্গুত্বের জীবন কাটাচ্ছে তারা৷ সাত বছরের মেয়ে খুশি৷ মাবাবা মারা গেছে কারখানার বিষাক্ত গ্যাসে৷ আজ সে হাঁটতে পারেনা৷ রোজ তাকে নিয়ে যেতে হয় চিঙ্গারি ট্রাস্ট পুনর্বাসন কেন্দ্রে৷ দৈহিক প্রতিবন্ধী হলেও স্মৃতিশক্তি তাঁর প্রখর৷ সে পুনর্বাসন কেন্দ্রে কম্পিউটর শিখছে৷ ওর ইচ্ছা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বলেন খুশির ইনস্ট্রাক্টর তারিখ আহমেদ৷

আন্দোলনে সামিল জনৈক এনজিও কর্মী সতীনাথ সারাঙ্গি জানান, যাঁরা নিহত ও অসুস্থ তাঁদের মাত্র ৯ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পেয়েছে৷ ৯১ শতাংশ পাননি৷ ইউনিয়ন কার্বাইডের প্রধান ওয়ারেন এন্ডারসন সরকারি আনুকুল্যে ভারত ছেড়ে পালিয়ে গেলেন৷ তাঁকে ফিরিয়ে আনা তো দুর অস্ত৷ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পীড়িতদের পুনর্বাসনটুকু পর্যন্ত করে দিলেন না কোন সরকার৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক