1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভোটার নিজেও হারতে চাননা: কলিমুল্লাহ

বাংলাদেশে ভোট ব্যাংকে পরিবর্তন আসছে৷ প্রধান দুই দল তাদের নিজস্ব ভোট ব্যাংক বলে যাদের ভাবছেন তাদের সবাই দলীয় আনুগত্যে ভোট দেবেন এমন ভাবেন না বিশ্লেষকরা৷ কারণ সাধারণ ভোটার নিজেও জিততে চায়৷ সে চায় তার ভোটটি যেন নষ্ট না হয়৷

ফরিদপুরের পরই গাজীপুরকে বলা হত আওয়ামী লীগের দুর্গ৷ আর গাজীপুরে বিভিন্ন নির্বাচনের হিসাব থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় ভোট ৫০ থেকে ৫৫ ভাগ হিসাব করা হত৷ কিন্তু গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট ব্যাংকের হিসাব উল্টে গেছে৷ আওয়ামী লীগ প্রার্থী এই নির্বাচনে শতকরা ৪১ ভাগ ভোট পেয়েছেন৷ আর বিএনপি'র প্রার্থী পেয়েছেন ৫৭ ভাগ৷ অন্য ৫ জন প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছেন ২ ভাগ৷

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটাকেই বলে ভোটারের মনস্তত্ত্ব৷ গাজীপুরের আগে দেশের ৪ সিটি কর্পোরেশন বরিশাল, খুলনা, রাজশাহি এবং সিলেটের নির্বাচন হয়েছে৷ সেই নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন৷ তার তা ভোটারদের ভিতর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করেছে৷''

গাজীপুরে সরকারি দল তাদের ভোট ব্যাংকের পুরো ভোট ঘরে তুলতে পারেনি বলে মনে করেন ড. কলিমুল্লাহ৷ তিনি বলেন, ‘‘গাজিপুরসহ ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলে এটাও স্পষ্ট যে দলীয় ভোটারের সংখ্যা কমছে৷ সাধারণত ধরে নেয়া হয় বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নির্দিষ্ট ভোট মোট ৭০ ভাগ৷ আর ৩০ ভাগ ভোটার তাদের মতামত বদলায়৷ আর তারাই মূলত নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ধারণ করেন৷''

এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মনে করেন, ৫টি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই নির্দলীয় ভোটার ৩০ ভাগ ছাড়িয়ে যাচ্ছে৷ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর সংখ্যা শতকরা ৩৫ ভাগ হতে পারে৷

জয় পরাজয় নির্ধারণকারী এই ভোটারদের আগামী নির্বাচনে কি কি বিষয় প্রভাবিত করবে? এর জবাবে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ‘‘প্রথমত এই ভোটাররা নিজেরাও হারতে চাননা৷ তারা সব সময় জয়ের ধারায় থাকতে চান৷ তাদের মধ্যে এই মানসিকতা কাজ করে যে তাদের ভোটটি যেন নষ্ট না হয়৷ সুতরাং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের নির্বাচনগুলোর ফলাফল তারা বিবেচনায় নেবেন৷ এর পর অর্থ এবং ধর্মীয় ইস্যু কাজ করবে৷ ভোটারদের একটি অংশ ‘নগদ নারায়ণে' বিশ্বাসী৷ সেকারণেই গাজীপুর নির্বাচনে একটি ভোট ৫,০০০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘এখন প্রধান দুই দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ সরকার বলছে তারা জন অসন্তোষ কামানোর ব্যবস্থা নেবে৷ তবে তারা কি ব্যবস্থা নেবে আর তা কতটুকু কাজে আসবে সময়ই বলে দেবে৷ আর বিএনপি ইতিমধ্যেই জয়ের ধারায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে৷ সুতরাং আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটারের মনস্তত্ত্ব আর নির্দলীয় ভোটার শেষ পর্যন্ত কোন দিকের পালে হাওয়া দেবে তা আঁচ করা গেলেও এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যায়না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়