1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ভেবেচিন্তে খেতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক

কত রোগের ওষুধ বেরোয়, কিন্তু সর্দি-কাশি সামলাতে এখনও হিমশিম খান ডাক্তাররা৷ তার উপর মানুষ নিজেরাই নিজেদের উপর ডাক্তারি করে কখনো অ্যান্টিবায়োটিক খায়, কখনও তা বন্ধ করে দেয়৷ এমন খামখেয়ালিপনা আদৌ রোগ সারাতে সাহায্য করে না৷

সবারই নিশ্চয়ই এই অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ প্রথমে নাকে একটু সুড়সুড় করে৷ তারপর সর্দি ধরে৷ সবশেষে দেখা দেয় জ্বরজ্বর ভাব ৷ তখন অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিকের দিকে হাত বাড়ায়৷ কিন্তু নাক, কান, গলার বিশেষজ্ঞ ড. হান্স মিশায়েল শ্ট্রাল এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রথমে বুঝতে হবে, সংক্রমণটা ভাইরাস না ব্যাকটেরিয়ার৷ তিনি বললেন, ‘‘ভাইরাসের সংক্রমণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত ঘটে৷ ঝট করে সংক্রমণ ঘটলে বুঝতে হবে এটা ভাইরাস৷ কাঁপিয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা এলে শরীরের তাপও বেড়ে যায়৷ অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ধীরে ধীরে আসে৷

ঠাণ্ডা লাগাটা সাধারণত ভাইরাস থেকেই হয়৷ যার সর্দি হয়েছে তার কাছে গেলে বা তার সাথে হাত মেলালে সংক্রমণ ঘটে৷ অ্যান্টিবায়োটিক এক্ষেত্রে কাজে লাগেনা৷ অ্যান্টিবায়োটিক মানে জীবাণুর বিরুদ্ধেই লড়াই, অর্থাৎ যার প্রাণ আছে৷ ‘অ্যান্টি' মানে বিরুদ্ধে, ‘বায়ো' অর্থাৎ জীবন৷ এটা শুধু ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷

Indien Bangalore Narayana Hrudayalaya Krankenhaus

নিজের উপর ডাক্তারির অভ্যাস কার না নেই!

ড. শ্ট্রাল আরও বললেন, ‘‘অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারে বাধা দেয়, অর্থাৎ বাড়তেই দেয় না৷ অথবা সেগুলিকে একেবারে মেরে ফেলে৷ দুটি দুই ধরনের প্রক্রিয়া৷ তাই বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক এক সাথে খাওয়া উচিত নয়, এর ফল মারাত্মক হতে পারে৷''

নির্দিষ্ট সময়ের আগে অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেওয়াও বিপজ্জনক৷ অনেকে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে প্রথম প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকে৷ কিন্তু একটু ভালো বোধ করলেই আর খায় না৷ এটা বিরাট ভুল৷ ড. শ্ট্রাল মনে করেন, ‘‘অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকমতো প্রয়োগ করলে তার ফলও তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়৷ তখন রোগী মনে করে, ‘‘আমার তো ভালোই লাগছে, আর ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই৷'' কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, অ্যান্টিবায়োটিক কমপক্ষে পাঁচ দিন খেতে হবে৷ অথবা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে, কতদিন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া প্রয়োজন৷''

ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে নিয়মিত নাকের ফ্লাশিং আর টমেটো জুস পান করতে বলেন চিকিত্সকরা৷ ড. শ্ট্রাল বললেন, ‘‘দেখা গেছে, একেবারে সস্তার টমেটো জুসেও লাইকোপিন নামের লাল রং-এর এক ধরনের উপাদান থাকে৷ এটা সর্দি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়৷ তাই বিশেষ করে শীতকালে প্রতিদিন এক গ্লাস করে টমেটো জুস খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়৷''

তবে শরীরের প্রতিরোধ শক্তি জোরালো করতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত হাঁটাচলা ও টাটকা বাতাস৷ তবুও যদি ঠাণ্ডা লাগে, তাহলে গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যাবে৷ এতে সাইনাস ও নাকের ভেতরের পাতলা চামড়ার তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি বেড়ে যাবে৷ ফলে সংক্রমণ রুখতে ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ক্ষমতাও জোরালো হবে৷ এই ভাবে বছরের ঠাণ্ডা ঋতুটা পার করা সহজ হবে৷

আরবি/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়