1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত শহরের সহায়তায় ফেসবুকে উদ্যোগ

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত শহর ক্রিস্টচার্চের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে নিউজিল্যান্ডের ছাত্র-ছাত্রীরা৷ তবে পথে নয় বরং অন্তর্জালের সাহায্যে কাজ করছে তারা৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চালাচ্ছে তারা ত্রাণ সংগ্রহের কাজ৷

default

ক্রিস্টচার্চের ভূমিকম্প (ফাইল ছবি)

ধারণাটি প্রথম আসে ক্যান্টারবারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র স্যাম জনসনের মাথায়৷ নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটিতে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে, এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস৷ আর ঠিক তখনই এমন একটি উদ্যোগের কথা ভিড় করে জনসনের মাথায়৷ ২১ বছর বয়সি জনসন বলেন, ‘‘শনিবার রাতে আমি ফেসবুকে অনেকগুলো গ্রুপ দেখলাম৷ এগুলোর মধ্যে ছিল, ‘আমি ভূমিকম্প থেকে বেঁচে গেছি, চলো পার্টি দেই, চলো একটা টি-শার্ট কিনি, ক্রিস্টচার্চ ভূমিকম্প ২০১০' ইত্যাদি৷''

‘‘ঠিক তখনই আমি চিন্তা করলাম, বন্ধুরা মিলে আমরা নিশ্চয়ই আরো ইতিবাচক কিছু করতে পারি, সমাজের জন্য কিছু করতে পারি আমরা,'' বলেন জনসন৷ যেমন ভাবা, তেমন কাজ৷ এরপরই তিনি সৃষ্টি করেন ভূমিকম্প দুর্গতদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রুপ৷ আর সকলকে আহ্বান জানান, নিউজিল্যান্ডের ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ক্রিস্টচার্চ শহরের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার কাজে এগিয়ে আসার৷ তিনি বলেন, ‘‘এই আহ্বানে সাড়া মিলেছে বেশ৷ প্রথম দিনেই এই উদ্যোগে সাড়া দেন ৩০০ জন৷ আর এপর্যন্ত এই গ্রুপে যোগ দিয়েছে প্রায় এক হাজার নয়শ' জন৷''

মজার ব্যাপার হচ্ছে, শুধু অন্তর্জালে শব্দের জাল বুনে নয়, এই গ্রুপের সদস্যরা কোদাল, বেলচা, বালতির মতো ছোট ছোট যন্ত্রপাতি নিয়ে একদম মাঠে নেমে পড়েছেন৷ ২০ জনের সদস্যের একেকটি দল কাজে লেগে গেছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়৷ আর এই কাজে তারা সহযোগিতা নিয়েছে শহরের জরুরি সেবা দপ্তরের৷ জনসন বলেন, ‘‘আমরা যখন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করছিলাম, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখের জল দেখেছি৷ কারণ তাদের ফুল বাগান আর বাড়ির আশেপাশে জমে ছিল বেশ পুরু কাদার স্তূপ৷ তাদের নিজেদের পক্ষে এসব পরিষ্কার করাটা প্রায় অসম্ভব ছিল৷ তাই এই উপকার পেয়ে ধন্যবাদ দিয়েছে সবাই৷''

তাছাড়া এই কাদা-মাটি আর আবর্জনার স্তূপ সরানোর কাজে যে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই যোগ দিয়েছে - তা নয়, বরং পথে নেমে এসেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরাও৷ আর এমন নতুন উদ্যোগের জন্য প্রশংসাও জুটেছে বেশ৷ তাদের কাজে সমর্থন জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান এবং স্পেন ও যুক্তরাজ্য থেকে বার্তা পাঠিয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ৷ জনসন-এর কথায়, ‘‘সামাজিক যোগাযোগের প্রযুক্তিটি ছাড়া এমন কঠিন কর্ম সাধন কোনভাবেই সম্ভব ছিল না৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়