ভুয়া জাতীয় পরিচয়-পত্র: নিরাপত্তা এবং আর্থিক খাতে উদ্বেগ | বিশ্ব | DW | 21.04.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভুয়া জাতীয় পরিচয়-পত্র: নিরাপত্তা এবং আর্থিক খাতে উদ্বেগ

বাংলাদেশে ভুয়া জাতীয় পরিচয়-পত্র নিরাপত্তা এবং আর্থিক খাতসহ নানা খাতে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এই ভুয়া জাতীয় পরিচয়-পত্র তৈরিতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় সারা দেশে৷ তারা প্রতিটি পরিচয়-পত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করে৷

ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল দু'দিন আগে টঙ্গী এলাকা থেকে ৫৩ হাজার ভুয়া জাতীয় পরিচয়-পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডসহ তিনজনকে তাদের কারাখানা থেকে আটক করে৷ তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, প্রিন্টার, কাগজ এবং ৩৬ হাজার ছবিও উদ্ধার করা হয়৷ তারা প্রায় দুই বছর ধরে এই জাতীয় পরিচয়-পত্র তৈরি করে প্রতিটি ৩০ টাকা করে বিক্রি করে আসছিল৷ গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ তারা পুলিশেকে জানিয়েছে যে, প্রধানত মোবাইল ফোনের সিম বিক্রেতারা তাদের কাছ থেকে পাইকারি হিসেকে এ সব পরিচয়-পত্র কেনেন৷

Tunesien Libyen Flüchtlinge aus Bangladesch an der Grenze Reisepass

পাসপোর্টসহ নানা কাজে জাতীয় পরিচয়-পত্র বাধ্যতামূলক


বাংলাদেশে এখন মোবাইল ফোনের সিম, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পাসপোর্টসহ নানা কাজে জাতীয় পরিচয়-পত্র বাধ্যতামূলক৷ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ৭০ লাখ সিম ভুয়া পরিচয়-পত্র ব্যবহার করে কেনা হয়েছে৷ আদালত গত মাসে এ সব সিম বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়৷ ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এই সব সিম ব্যবহার করে অপরাধীরা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে৷ ভুয়া জাতীয় পরিচয়-পত্র ব্যবহার করে সিম নেয়ার কারণে তাদের চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব৷'' তিনি জানান, ‘‘চাঁদাবাজি ও হুমকিসহ নানা অপরাধে এ সব সিম ব্যবহার করা হয়৷''

যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, ‘‘ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে তারা এখন প্রাথমিক শনাক্তকরণের জন্য জাতীয় পরিচয়-পত্রকে গুরুত্ব দেন৷ সেক্ষেত্রে পরিচয়-পত্র ভুয়া হলে তা আর্থিক খাতের জন্য উদ্বেগ জনক৷'' পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বলে জানা গেছে৷ তাঁরা জানান, জাতীয় পরিচয়-পত্র জাল না আসল তা পরীক্ষা করার সহজ কোনো ব্যবস্থা নেই৷

জাতীয় পরিচয়-পত্র প্রকল্পের পরিচালক মোহসীন আলী জানান, ‘‘এটা জাল করা কঠিন কোনো কাজ নয়৷ কারণ এতে তেমন কোনো নিরপত্তা ফিচার নেই, যা নকল করা যায় না৷'' আটক অপরাধীরা জানিয়েছেন যে, পরিচয়-পত্রের জন্য ছবি তারা সংগ্রহ করেন বিভিন্ন ফটো স্টুডিও থেকে টাকার বিনিময়ে৷ এছাড়া বাকি যা প্রয়োজন তা বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়৷

পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ‘‘তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন৷ ঢাকার কদমতলা এলাকা থেকেও কয়েক হাজার জাল পরিচয়-পত্র উদ্ধার করা হয়েছে৷'' অন্যদিকে ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তদন্তের জন্য দুটি সংসদীয় উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়