1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ভীষণ জরুরি ‘ক্যাঙ্গারু কেয়ার’

সদ্যজাত শিশু যদি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকে তবে ‘ক্যাঙ্গারু কেয়ার’ নেয়া খুব জরুরি৷ অর্থাৎ, শিশুকে কাপড়ের নীচে দিয়ে বুকের সঙ্গে লাগিয়ে রাখা, যাতে শিশু উষ্ণ আর শান্ত থাকে৷

কলম্বিয়ায় গত ৩০ বছর ধরে এভাবেই জরুরি অবস্থার শিশুদের চিকিৎসা করা হয়, যা পরবর্তীতে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে৷ এটা শুরু হয়েছিল ইনকিউবেটরের সীমাবদ্ধতার কারণে৷ ‘ক্যাঙ্গারু কেয়ার'-এর অর্থ ত্বকের সাথে ত্বকের সংস্পর্শ৷ এর ফলে শিশু মায়ের দেহের তাপেই গরম থাকে, আর স্তন পান করানোতে কোনো রকম সমস্যা হয় না৷ সাধারণত ‘প্রি-মেচিওর' শিশুদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা খুব উপকারে আসে৷ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে এখন স্বাভাবিক নবজাতকদের ক্ষেত্রেও এই অভ্যাস বেশ প্রচলিত৷

কলম্বিয়ার বোগোটায় সান ইগনাসিও হাসপাতালে সম্প্রতি প্রি-মেচিওর এক শিশু এসেছিল৷ তার বাবা আলগেসিরাস জানান, জন্মের পর থেকে শিশুটি বাঁচবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা ছিল তাঁদের৷ কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শে কেবল তাঁর স্ত্রী নন, তিনিও প্রতি দিন ৫ ঘণ্টা শিশুটিকে নিজের বুকের সাথে আঁকড়ে রাখতেন৷ যার ফলে ২৭ সপ্তাহ পর এখন শিশুটি আশঙ্কামুক্ত৷

এই ক্যাঙ্গারু কেয়ার ১৯৭৮ সালে প্রথম শুরু করেছিলেন কলম্বিয়ার চিকিৎসক নাথালি চারপাক৷ তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে একজন নবজাতক একটানা ১৯ মিনিটের বেশি ঘুমাতে পারে না৷ ফলে সেখানে শিশুদের রাখা অমানবিক৷ ইনকিউবেটর এড়াতে হলে ঘরের পরিবেশ কিছুটা বদলাতে হবে বলে জানান তিনি৷ কেননা এখানে পরিবেশ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ৷ কম উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে এবং শব্দ ৬০ ডেসিবেল এর বেশি হবে না৷ নির্দিষ্ট কিছু নিয়মও মেনে চলতে হয়, যেমন কীভাবে শিশুটিকে বুকের সাথে রাখতে হবে, কীভাবে খাওয়াতে হবে৷

অন্তত ৩০টি দেশে তারা ক্যাঙ্গারু কেয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন বলে জানান চারপাক৷ এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তারা প্রশিক্ষণ দেন৷ তবে যুক্তরাষ্ট্র,স্পেন ও সুইডেনও বাদ যায়নি৷ এ পদ্ধতি ব্যবহার করে গত ২০ বছরে ব্রাজিলে জন্মের সাথে সাথে শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ৷

এপিবি/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন