1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভীতি পর্যবেক্ষণে পরিবর্তন আনে

মাকড়সা দেখলে ভয় পান? অর্থাৎ আট পায়ের প্রাণী দেখলেই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়৷ কারণ, আপনার মনে কোণে লুকিয়া থাকা ভয় বা ভীতি আপনার পর্যবেক্ষণকে প্রভাবিত করে৷ জার্মান গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে৷

আট পায়ের ছোট্ট একটা প্রাণী মাকড়সা, কিন্তু তা দেখলেই কেউ কেউ ভীষণ ভয় পেয়ে যান৷ মাকড়সার ভয়কে বলা হয় ‘অ্যারাকনোফোবিয়া' আর যারা মাকড়সা দেখে ভয় পান, তাঁদের বলা হয় ‘অ্যারাকনোফোবস'৷ সম্প্রতি জার্মান গবেষকরা একটি পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, যাঁদের এ ধরণের ভীতি নেই তাঁদের মাকড়সার মতো প্রাণীর ছবি দেখালে সেরকম কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না৷ অন্যদিকে অ্যারাকনোফোবিয়া যাঁদের আছে, মাকড়সার ছবিটি তাঁদের মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে৷ আর সেটাই তাঁদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে – জার্মানির মানহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনবিজ্ঞানীরা গবেষণায় এ তথ্যই খুঁজে পেয়েছেন৷

মনবিজ্ঞানীরা মূলত দুটি দল নিয়ে এই গবেষণা করেছিলেন৷ যেখানে এক দলে মাকড় ফোবিয়ায় আক্রান্ত এবং অন্যদলে ফোবিয়ায় আক্রান্ত নয় এমন মানুষ ছিলেন৷ দুই দলের প্রতিনিধিদেরই একসঙ্গে দুটি করে ছবি দেখানো হয়৷ এর জন্য গবেষকরা আয়নাযুক্ত একটি বিশেষ ধরণের স্টেরিওস্কোপ ব্যবহার করেন৷ এই যেমন, এক চোখে আলোকিত কোনো ত্রিকোণ আকৃতির ছবি, তো অন্য চোখে ফুল৷ তারপর ৮ সেকেন্ড পরেই এক চোখে সামনে আঁধারে ঢাকা ত্রিভুজ, আর অন্য চোখটায় একটা মাকড়সা৷

এভাবে প্রত্যেক আট সেকেন্ড অন্তর অন্তর ছবিগুলি পাল্টাতে থাকেন গবেষকরা৷ বলা বাহুল্য, এক সঙ্গে দুটি জিনিস দেখা চোখের জন্য যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি একটা সময় পরে এটা প্রায় অসম্ভব৷ অর্থাৎ, দুই চোখের প্রতিযোগিতায় মস্তিষ্ক শেষ পর্যন্ত একটি ছবিকেই বেছে নেয়৷ মানহাইমের ঐ মনবিজ্ঞানীদের কথায়, ‘‘পরীক্ষায় এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে যাঁদের মাকড়সাভীতি রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকেই শেষ পর্যন্ত মাকড়সাকে চিহ্নিত করে, কিন্তু অন্য দলের অনেকেই মাকড়সা নয়, অপর ছবি দুটির মধ্যে একটি দেখেছেন বলে জানায়৷

গবেষক জর্জ আলপার্স জানান, প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা ভিন্ন৷ এ কারণে যাঁদের কোনো বিষয়ে ভীতি রয়েছে, তাঁদের পর্যবেক্ষণ ঐ ভীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়৷

‘অ্যাসোসিয়েশন অফ জার্মান সাইকোথ্যারাপিস্ট'-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান ডিটার বেস্ট বলেন, ‘‘এর জন্য মস্তিষ্কের নিউরাল সার্কিট দায়ী৷ কেননা অ্যামিগডালা, যা সাধারণত ভীতির অনুভূতি পাঠায়, তার সঙ্গে মস্তিষ্কের এমন একটা কর্টেক্স যুক্ত, যেটা দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে৷ ফলত এই দুটি মিলে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে থাকে, এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞদের৷

উক্ত গবেষণাটি অ্যারাকনোফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষের মাকড়ভীতি দূর করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সাইকোথ্যারাপিস্টরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন