1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ভিয়েনার এইডস সম্মেলন

সম্মেলনে একটি কথা বেশ জোর দিয়েই বলা হয় এবং তা হল – মাদকাসক্ত মানুষদের মধ্যে এইডসের সংখ্যা বাড়ছে৷ এর মূল কারণ হল একই সুঁই-এর পুনর্ব্যবহার৷

default

মাদকাসক্ত মানুষদের মধ্যে এইডসের সংখ্যা বাড়ছে

গত সপ্তাহে প্রায় ২০ হাজার চিকিৎসক, গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং কর্মী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এইডস সম্মেলনে সমবেত হয়েছিলেন৷ যে বিষয়টি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হল – ব্যবহৃত সুঁই-এর পুনর্ব্যবহার৷ এর মধ্যে দিয়ে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত৷ অথচ এদিকে নজরই দেওয়া হচ্ছে না৷ আসলেই কী তাই ?

এইডস প্রতিরোধে মেয়েদের জন্য সম্প্রতি উদ্ভাবিত হয়েছে এক ধরণের জেল৷ এই জেল ব্যবহারের ফলে এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনের পরও কোন মেয়ে এইডসে আক্রান্ত হবে না৷ এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রামণ থেকে রক্ষা পাবে সঙ্গিনী৷ এই সাফল্যের পাশাপাশি ভিয়েনার এই সম্মেলনে বেশ জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে মদ্যপানে আসক্ত মানুষদের মধ্যে এইডস রোগ বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি৷ এই বিষয়টির দিকে পশ্চিম বিশ্ব নজর দিলেও পূর্ব ইউরোপ এবং এশিয়ায় এনিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই৷ অথচ শরীরে মাদক ঢোকানোর সময় একই সুঁই বারবার ব্যবহার করে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ৷

উন্নত দেশে সচেতনতা বেশি

ভিয়েনায় রয়েছে ব্যবহৃত সুঁই ফেলে দেওয়ার জন্য বিশেষ একটি জায়গা৷ সেখানে সুঁইগুলো পরিষ্কার করা হয়৷ ধুয়ে আবার তা ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়৷ হেরোয়েন ছাড়াও আরো অন্য ধরণের মাদক আছে যা ব্যবহার করতে সুঁই প্রয়োজন৷ কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তি কিন্তু ব্যবহৃত সুঁইতে হাত দেবে না৷ ২০ বছর বয়স্ক স্টেফান জানাল, কেন এই সাবধানতা৷ স্টেফান বলল, ‘‘সুঁই বদলে ফেলা আমার জন্য খুবই জরুরি৷ এজন্য আমি এখানে নিয়মিত আসি৷ এছাড়া আমি আমার অন্য বন্ধুদের কাছ থেকে তাদের ব্যবহৃত সুঁই নিতে পারি৷ কিন্তু তা আমার জন্য হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক৷''

Flash-Galerie AIDS Projekte

মাদকাসক্ত মানুষ, যৌন কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের মধ্যেও এইচআইভি ছড়িয়ে পড়েছে

আসলেই তাই৷ এই সাবধানতার কারণেই ভিয়েনায় রয়েছে সুঁই বদল করার থেরাপি৷ একে হার্ম রিডাকশনও বলা হচ্ছে৷ আর ঠিক এভাবেই অস্ট্রিয়ার মত উন্নত দেশে এইচআইভির বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছে৷ গত ২০ বছর ধরেই অস্ট্রিয়ায় এই রোগের বিস্তার ঘটেনি৷ কিন্তু যে দেশগুলো এত উন্নত নয় সে দেশগুলোর কী অবস্থা ? ইউরোপের বাইরের দেশগুলোতে দেখা যাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র৷

ডন ডেস জার্লে বললেন,‘‘এই মুহূর্তে আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলে যত এইডসের রোগী রয়েছে তার এক তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রেই এইডস রোগীর ব্যবহৃত সুঁই-এর মাধ্যেমেই ভাইরাস সংক্রামিত হয়েছে৷ মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা একে অপরকে সুঁই এগিয়ে দেয়, মাদকের ঘোরে সেটাই বারবার ব্যবহার করা হয়৷ আর এভাবেই মাদকাসক্ত মানুষ, যৌন কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের মধ্যেও এইচআইভি ছড়িয়ে পড়েছে৷''

ডঃ ডন ডেস জার্লে নিউ ইয়র্কের ব্যারন এডমন্ড দ্য রথশিল্ড কেমিক্যাল ডিপেন্ডেন্সি ইন্সটিটিউটে কাজ করছেন৷ একই সঙ্গে তিনি ভিয়েনা ঘোষণাপত্রের সহপ্রণেতা৷ এই ঘোষণাপত্র এইডস সম্মেলনেই ঘোষিত হয়৷ সেখানে বিভিন্ন সরকারকে মাদক বিক্রি নিয়ে নানা ধরণের নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে৷ এক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়৷ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্যও মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ঘোষণাপত্রে৷

মাদকনির্ভরতা এক ধরনের অসুখ

এনিয়া সারাং জানান, ‘‘একদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বাস করে যে, মাদকের ওপর নির্ভরশীলতা হচ্ছে এক ধরণের অসুখ৷ অন্যদিকে প্রশ্ন করা হয়েছে মাদকব্যবহারকারীর নৈতিক দায়-দায়িত্বকে৷ আমাদের প্রশ্ন, কারা মাদক ব্যবহার করে ? তারা কী সবাই অপরাধী নাকি তারা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি, যাদের সুস্থ থাকার জন্য একটি বিশেষ মাদকের প্রয়োজন৷''

এনিয়া সারাং মস্কোর আন্দ্রে রিলকভ ফাউন্ডেশন ফর হেল্থ এ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিসের সভানেত্রী ৷ রাশিয়া সহ পূর্ব ইউরোপের বেশ কিছু দেশে এইচআইভির দ্রুত বিস্তার ঘটছে৷ আশংকা করা হচ্ছে রাশিয়ায় প্রায় দেড় কোটি মাদকাসক্ত মানুষের মধ্যে অন্তত ৩৭ শতাংশই এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত৷ রাশিয়ার আশপাশের দেশেও একই চিত্র৷ এর জন্য অবশ্য সে সব দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের কড়া আইনকে দায়ী করা হয়৷ এইচআইভি ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন যে সব বিশেষজ্ঞ, তারা জানিয়েছেন, এই কঠোর নিয়মকানুনের জন্য ভাইরাসটি আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে৷

এনিয়া আরো জানালেন, ‘‘ যে সব জনস্বাসাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে সেখানে মানুষ যেতে ভয় পায়৷ তারা হাসপাতালেও যায় না কারণ যদি কোনভাবে পুলিশ খবর পেয়ে যায় তাহলে তো সঙ্গে সঙ্গেই কারাবন্দি হতে হবে৷ ঠিক এ রকম পরিস্থিতিতে ঝুঁকিও বেড়ে যায় অনেক বেশি৷ যেখানে ঝুঁকি থাকে, ভয় থাকে, সেখানে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বা বিস্তার রোধে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা সম্ভব নয়৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়