1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ভিয়েতনামে ভাল্লুক বাঁচাও আন্দোলন

ভিয়েতনামের বনেজঙ্গলে বুনো ভাল্লুক আর খুব নেই৷ শহরে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে, ভাল্লুকদের পিত্তাশয়ে নল ঢুকিয়ে রস বার করা হচ্ছে অ্যাফ্রোডিজিয়াক হিসেবে৷ ভিয়েতনামের তরুণ প্রজন্ম এই প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চায়৷

বাঘের হাড় থেকে নাকি ওষুধ তৈরি হয়৷ তেমনই ভাল্লুকের পিত্তাশয় থেকে পাচক রস বার করা হয় কামোদ্দীপক হিসেবে৷ অথবা রেস্তোরাঁয় অতিথিদের মনোরঞ্জন করা হয় বাঁদর পুষে৷

হ্যানয়ের একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে অন্তত ১৬০টি জীবজন্তু দেখতে পাওয়া যাবে৷ তাদের অনেকে এতোদিন ধরে এখানে রয়েছে যে, তাদের পক্ষে আর মুক্ত প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়৷

‘এডুকেশন ফর নেচার ভিয়েতনাম' এনজিও-র থাও নিন বলেন, ‘‘ভিয়েতনামে বন্যপ্রাণীদের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার প্রথাটা বহুদিনের৷ সেটা শুধু ওষুধ কিংবা খাদ্য হিসেবে নয়, বরং নিজের সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টাও বটে: যদি তাদের কাছে এমন একটা কিছু থাকে, যা অন্যদের নেই৷''

বন্যপ্রাণীদের মাংস খাওয়া অথবা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করাটা ভিয়েতনামে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ৷ কিন্তু সেই নিষেধ এতোদিনের পুরনো প্রথাকে বন্ধ করতে পারেনি৷ বহু জীবজন্তুই আজকাল আসে ব্রিডিং ফার্ম, অর্থাৎ পশুপালনের খামার থেকে৷ যেমন এই সুরায় জারানো সাপ৷ কিন্তু বড় বড় রেস্তোরাঁয় আজও বন্যপ্রাণীদের মাংস খেতে পাওয়া যায়৷ হ্যানয়-তে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকে ইমপ্রেস করতে হলে সে ধরনের রেস্তোরাঁয় নিয়ে আসতে হয়, জানালেন থাও নিন৷ তিনি বলেন, ‘‘প্যাঙ্গোলিন, সঁজারু, কচ্ছপ, এ সবই বেআইনি৷ স্থানীয় কর্মকর্তাদের ব্যাপারটা জানানো দরকার৷ আমরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য ওদের ওপর চাপ দিই, ওদের সঙ্গে সহযোগিতা করি৷ কর্তৃপক্ষকে রেস্তোরাঁর মেনু থেকে সব বিপন্ন প্রজাতিকে বাদ দিতে হয়৷''

বিশেষ করে একটি প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চান এই পশুপ্রেমীরা: ভাল্লুকগুলোকে ঠিকমতো অসাড় না করে তাদের পিত্তাশয় থেকে পাচক রস বার করার প্রথাটা তাদের কাছে মর্মান্তিক এবং মারাত্মক৷ সেইই রস খেলে কিংবা মাখলে নাকি ছোটখাটো কাটাছেঁড়া থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত সারানো যায়৷ থাও নিন জানালেন, ‘‘ভাল্লুকের পিত্তাশয়ে নল ঢোকানো দেখতে বহু মানুষ এসে ভিড় করে৷ তাদের মনে হয়, এটা পুরোপুরি স্বাভাবিক৷ তারা দুঃখ পায় না, জীবটার জন্য দুঃখও বোধ করে না৷ আমি নিজে এটা ভীষণ অপছন্দ করি৷ আমি এ সব দেখতে চাই না৷''

হ্যানয়ের উপকণ্ঠে একটি রাস্তার ধারে একটার পর একটা ভাল্লুকের খামার৷ ভাল্লুক পোষায় কোনো দোষ নেই, কিন্তু তাদের পিত্ত থেকে পাচক রস সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ৷ কিন্তু তার খোঁজই বা রাখবে কে, আর নিয়ন্ত্রণই বা করবে কে? যেখানে এই পরিমাণ ভাল্লুক পোষা হয়, সেখানে তার পিত্তির রসের চাহিদাও সে রকম হবে৷ পুরনো প্রথা বদলাতে যে সময় লাগে, তাও জানেন থাও নিন৷ সেই কারণেই তিনি প্রতি মাসে এখানে আসেন৷ লোকজনকে বোঝান বীভৎস সব ছবি দেখিয়ে; কখনো-সখনো ভয় দেখিয়ে; কখনো বা বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেখিয়ে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজে একবার পরখ করে দেখেছি, এক বোতল রসও কিনেছিলাম৷ ও সব ফাঁকি, ওতে কোনো কাজই হয় না৷ অন্তত আমি যে ধরনের জিনিস কিনেছি, তা দিয়ে নয়৷''

ভিয়েতনামের বনে-জঙ্গলে আর মাত্র ১০০টি বুনো ভাল্লুক জীবিত৷ অন্যান্য অনেক প্রাণী ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছে৷ একটি বাজারকে থাও নিন তাঁদের বিশেষ সাফল্য বলে গণ্য করেন৷ থাও ও তাঁর দলবল এখানে মাসের পর মাস হানা দিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের ত্যক্ত করেছেন, প্রতিটি বন্যপ্রাণীর খবর দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে৷ ফলে এই বাজারে আজ শুধু খামারে পোষা জীবজন্তু বিক্রি হয়৷ থাও নিন বললেন, ‘‘আমি তরুণ প্রজন্মে বিশ্বাস করি৷ তারা নিজেদের প্রেস্টিজ বাড়ানোর জন্য বুনো জীবজন্তুর মাংস খায় না, কিংবা বুনো জীবজন্তুকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে না৷''

পরিবর্তন একদিনে আসে না৷ কিন্তু এই তরুণ ভিয়েতনামিরা হয়তো সেই অচলায়তন ভাঙতে পারবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক