1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

‘ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি মিডিয়ার আরো সহনশীল হওয়া প্রয়োজন’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পোল্যান্ডের মতো দেশে সাংবাদিকদের উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে, বাড়ছে প্রকাশ্য সংলাপের সঙ্কীর্ণতা৷ ইনেজ পোল-এর মতে এজন্য মিডিয়াও খানিকটা দায়ী৷

পরিসংখ্যান দেখলে ঘাবড়ে যেতে হয়৷ সারা বিশ্বে ক্রমেই আরো বেশি সাংবাদিক চাপের মুখে পড়ছেন, কাজে বাধা পাচ্ছেন, হুমকি শুনছেন, কারারুদ্ধ হচ্ছেন – এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন৷ আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সত্ত্বেও মিশর বা বুরুন্ডির মতো দেশের সরকার সাংবাদিকদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছেন৷

তুরস্কে গতবছর একটি সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাংবাদিকদের পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নিয়েছে৷ সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন৷ তুরস্কে ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিক আজ কারারুদ্ধ, তাদের মধ্যে জার্মান-তুর্কি সাংবাদিক ডেনিজ ইউচেলও আছেন৷ সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক ও ইয়েমেনে সাংবাদিকরা চতুর্দিক থেকে হুমকির মুখে৷ ঠিক এই সব দেশেই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর কাজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি – বিশেষ করে স্থানীয় মিডিয়ার সীমাবদ্ধতার আঙ্গিকে তারা যখন নিরপেক্ষ তথ্য প্রদান করতে পারে৷

Pohl Ines Kommentarbild App

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেজ পোল

মিডিয়াবিরোধী প্রচারণা

কিন্তু আরো একটি বিকাশধারা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে৷ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স সংগঠনের সর্বাশেষ বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রগুলিতেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্রমেই আরো বেশি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পোল্যান্ডের মতো দেশে মিডিয়া বিরোধী প্রচারণা ক্রমেই বেড়ে চলেছে, যার ফলে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রণয়নের পথ প্রশস্ত হচ্ছে, যাতে গুপ্তচর সংস্থাগুলির নজরদারির পরিধি বাড়ানো যায় এবং তথাকথিত হুইসলব্লোয়ারদের ভয় দেখানো যায়৷

এক্ষেত্রে সবার আগে নাম করতে হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের৷ নির্বাচনি প্রচারণার সময় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলির পেশাদারি রিপোর্টিংকে খেলো করে তুলতে সমর্থ হন৷ টুইটারের কল্যাণে তিনি দিনে কিংবা রাতে তাঁর অপ্রমাণিত মন্তব্যগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন৷ বহুক্ষেত্রে তিনি নিজে মিথ্যাপ্রচার করেন, অথবা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে ফেক নিউজ প্রচারের অভিযোগ করেন৷

দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের এই নীতি বেশ সফল হচ্ছে এবং তা শুধু ট্রাম্পের নিজের সমর্থকদের মধ্যেই নয়৷ অপরদিকে ট্রাম্পের সমালোচকরাও স্বীকার করবেন যে, মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বহুকাল ধরেই স্বাধীন বা নিরপেক্ষ নয়, তারা চলে কর্পোরেট কোম্পানিগুলির অর্থে ও স্বার্থে৷ প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলি সম্পর্কে অন্তত এটুকু বলা চলে যে, তারা সাধারণ মানুষদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার পরিবর্তে সমাজের শিক্ষিত, ওপরমহলের মানুষদের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায়৷

Symbolbild digitaler Populismus (picture alliance/dpa/P. Pleul)

টুইটারের কল্যাণে তিনি দিনে কিংবা রাতে তাঁর অপ্রমাণিত মন্তব্যগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন

বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস

এই বিকাশধারা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সীমিত নয়৷ ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, এমনকি জার্মানির মতো দেশেও আজ পেশাদারি সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি মলিন৷ এবং এই বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো ইন্টারনেটের যুগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াতে পারে৷

পেশাদারি সাংবাদিক, যারা নীতিমালা অনুসরণ করে চলেন, জনগণ যদি এই ধরনের সাংবাদিকদের আর বিশ্বাস না করে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্য মতবিনিময় ও বিতর্ককে কবজা করে ফেলতে বিশেষ বিশেষ স্বার্থের কোনো অসুবিধা হবে না৷ সেজন্য থাকবে ফেক নিউজ, ভুয়া যড়যন্ত্র নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এবং সাইবার চোখরাঙানির মতো অস্ত্র৷ প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া তখন জনমত গঠনে তাদের গুরুত্ব হারাবে৷

গণতন্ত্রের ঝুঁকি

গণতন্ত্রের পক্ষে এই পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক৷ মিডিয়ার পেশাদারি সাংবাদিকরাও এর জন্য অংশত দায়ী, বিশেষ করে তারা যখন ধরে নেন যে, তারাই সত্যের ইজারা নিয়েছেন – এভাবেই ট্রাম্পের মতো মানুষদের পালে হাওয়া লাগে৷

প্রতিষ্ঠিত, মেইনস্ট্রিম মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের পুরনো মর্যাদা ফিরে পেতে পারে, যদি তারা বাস্তবিক জনগণের কথা শুনতে শেখে – বিশেষ করে যারা ভিন্নমত পোষণ করেন, যারা নিজেদের উপেক্ষিত ও অবহেলিত বোধ করেন এবং শেষমেশ পপুলিস্টদের সহজিয়া সমাধানে আকৃষ্ট হন৷ সাংবাদিকদের ভালো-মন্দের ভেদাভেদ করা উচিৎ – বিচার নয়৷ জার্মানিতে অন্তত একটি আইনব্যবস্থা আছে, যা স্পষ্ট নির্ধারণ করে দেয়, কি বলা চলে আর কি বলা চলে না৷

ইনেজ পোল/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়