1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধানে নতুন অভিযান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ অদূর ভবিষ্যতে অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধানে একাধিক উদ্যোগ নিতে চলেছে৷

default

অন্য গ্রহের ‘মানুষ’ কি এরকম দেখতে হবে?

অন্য গ্রহে প্রাণ আছে কি না, এই প্রশ্নের জবাব পেতে কে না চায়? আমাদেরই জীবদ্দশায় এই প্রশ্নের জবাব পেলে কেমন লাগবে? কিন্তু অন্যদিকে আবার বিপদেরও আশঙ্কা করছে কেউ কেউ৷ যেমন কিছুদিন আগেই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ভিনগ্রহে মানুষের মতো মেধাসম্পন্ন প্রাণীর অস্তিত্ব থাকলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ৷

মার্কিন উদ্যোগ

এই সব পরস্পরবিরোধি মতামত সত্ত্বেও অন্য গ্রহে প্রাণ খোঁজার প্রচেষ্টা কিন্তু থেমে নেই৷ মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা অদূর ভবিষ্যতে মহাবিশ্বে প্রাণের খোঁজে ২৮টি অভিযান শুরু করতে চলেছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্টিভ স্কুইর্স সম্প্রতি এবিষয়ে একটা সার্বিক ধারণা দিয়েছেন৷ তাঁর মতে, ‘অ্যাস্ট্রো-বায়োলজি' এবং প্রাণের সন্ধানের কাজকেই ভবিষ্যতের মহাকাশ কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷ এমনই কয়েকটি পরিকল্পিত অভিযানের উদাহরণ তুলে ধরেছেন তিনি৷

USA Raumfahrt NASA-Sonde Phoenix fliegt im August zum Mars

মঙ্গলগ্রহে প্রাণের চিহ্ন পাওয়ার আশা আজও ছাড়েন নি বিজ্ঞানীরা

মঙ্গলগ্রহ

অতীতের মত এখনো মঙ্গলগ্রহকে ঘিরে আগ্রহ কাটে নি৷ তাই সেখান থেকে মাটির নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে এসে সেই গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনার বিষয়ে পরীক্ষা চালানো হবে৷ অতীতে মঙ্গলগ্রহে প্রাণ ছিল কি না, আজ আছে কি না অথবা ভবিষ্যতে এমন সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে৷ তবে শুধু মাটি নয়, মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাস কোথা থেকে এল, সেই মিথেন অর্গ্যানিক বা জৈব কি না – সেই সব প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে৷

বৃহস্পতি ও শনিগ্রহ

Jupitersystem mit Galileischen Monden

বৃহস্পতির অনেক উপগ্রহের মধ্যে ইউরোপার পরিবেশ প্রাণের অনুকূল হতে পারে

আমাদের সৌরজগতে অন্য যেখানে প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সেটি হল বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা৷ বরফের স্তরে ঢাকা ঐ চাঁদের গভীরে জলের মহাসাগর থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ সেখানে এমন এক মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্য থেকে রোবোট বেরিয়ে রাডার'এর মাধ্যমে বরফের স্তরের নিচের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে৷ সেই রোবোট যদি সত্যি এমন মহাসাগর খুঁজে পায়, তখন পরের কাজ হবে ইউরোপা'র বুকে এমন সব জায়গা চিহ্নিত করা, যেখানে গেলে এই মহাসাগর সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে৷ শনিগ্রহের আরেক উপগ্রহ টাইটান'এর দিকেও বিজ্ঞানীদের নজর রয়েছে৷ তাঁরা জানেন, ঐ উপগ্রহে অনেক জৈবিক উপাদান রয়েছে৷ তাই এবার সেখানে বেশ বিস্তারিত এক অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন৷ এমন প্রকল্পের আওতায় টাইটান'এর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করার জন্য একটি যানের প্রয়োজন৷ সেইসঙ্গে বায়ুমণ্ডলে বেলুন পাঠাতে হবে৷ আরেকটি যান টাইটান'এর বুকে তরল মিথেনের কোনো হ্রদের উপর নামবে৷

Huygens Titan Saturn ESA

শনিগ্রহের উপগ্রহ টাইটান’এ জল পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা

ধূমকেতু

প্রাণের চিহ্নের সন্ধানের এই বিশাল উদ্যোগের আওতা থেকে ধূমকেতুকেও বাদ দেওয়া হচ্ছে না৷ কারণ যেকোনো ধূমকেতুর মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জৈবিক উপাদান রয়েছে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ বাহক হিসেবে তাই ধূমকেতুর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে৷ এমনকি পৃথিবীর বুকে প্রাণের আবির্ভাবের পেছনেও ধূমকেতুর অবদান ছিল বলে মনে করা হয়৷ তাই মহাকাশযান পাঠিয়ে কোনো ধূমকেতুর মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য তা আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷

Komet Ikeya-Zhang

প্রাণের বাহক ধূমকেতু

পৃথিবীর বুকে টেলিস্কোপ

মহাকাশে অভিযানের পাশাপাশি পৃথিবীর বুকে বসেই মহাবিশ্বে প্রাণের অনুসন্ধানের এক বিশাল প্রকল্প শুরু করতে চলেছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা৷ চিলির আতাকামা মরুভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপ৷ এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য গ্রহের উৎপত্তি ও প্রাণের সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা৷ প্রায় ৪২ মিটার ব্যাসের এই যন্ত্রচক্ষু মহাকাশের গভীরের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করবে৷ ৩,০৬০ মিটার উচ্চ এক পাহাড়ের চূড়ায় বসানো হচ্ছে এই বিশাল টেলিস্কোপ৷ পৃথিবীর বুকে এত শুষ্ক মরু অঞ্চল আর নেই৷ তাই মহাকাশে নজরদারি চালানোর পথে বায়ুমণ্ডলের বাষ্প সেখানে তেমন একটা বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না৷ আপাতত শুধু কাগজে-কলমে প্রস্তুতি চলছে৷ ২০১১ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হবে৷ সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ২০১৮ সালে দানবীয় এই টেলিস্কোপ কাজ শুরু করে দিতে পারবে৷ এর নাম রাখা হয়েছে ‘ইউরোপিয়ান এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ' – সংক্ষেপে ই-এএলটি৷

Alma-Projekt in der Atacama Wüste in Chile

চিলির আতাকামা মরুভূমি মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত

বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত এই টেলিস্কোপকে প্রায় ৪০০ বছর আগে গ্যালিলিও'র টেলিস্কোপের সঙ্গে তুলনা করছেন৷ তাঁদের মতে, ৪ শতাব্দী আগে গ্যালিলিও যেভাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে ধারণা আমূল বদলে দিয়েছিলেন, চিলির এই টেলিস্কোপের মাধ্যমেও তেমনটা ঘটতে পারে৷

অতএব আর একটু ধৈর্য ধরতে হবে৷ কে জানে, একদিন সকালে উঠে চায়ের পেয়ালা হাতে নিয়ে খবরের কাগজে চোখ বোলালেই পড়বেন শিরোনাম – ‘‘আমরা একা নই৷''

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়