1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

ভিডিওতে সমস্যার কথা জানাচ্ছে বাংলাদেশের শিশুরা

বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রান্তিক শিশুদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে সম্প্রতি চালু হয়েছে একটি ভিডিও নিউজ সার্ভিস, যেখানে শিশু সাংবাদিকদের তৈরি ভিডিও প্রকাশ করা হয়৷

দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির শিশুদের সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ-এর যৌথ উদ্যোগে একটি ভিডিও নিউজ সার্ভিস চালু করেছে যেটির কন্টেন্ট তৈরি করে শিশুরা৷ বিশ্বে এটাই প্রথম শিশুদের পরিচালিত ভিডিও নিউজ সার্ভিস৷

অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির নাম ‘প্রিজম', যেটি তৈরির উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের অধিকারের বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে সামনে তুলে ধরা৷ প্ল্যাটফর্মটিতে শিশুদের তৈরি বিভিন্ন ভিডিও প্রতিবেদন এবং ফিচার প্রদর্শন করা হয়, বিশেষ করে সেসব ইস্যু নিয়ে প্রতিবেদন করা হয় যেগুলো শিশুদের মঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু মূলধারার গণমাধ্যমে তেমন গুরুত্ব পায় না৷ এ সব ভিডিওতে শিশুরা তাদের সমস্যার কথা আলাপ করে এবং তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে৷

ভিডিও নিউজ সার্ভিসে কাজ করতে ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে৷ ভিডিও প্রতিবেদনগুলো মূলত একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ হলেও বাংলাদেশের কিছু টিভি চ্যানেল সেগুলো প্রচারও করে৷ ফলে শিশুদের আলোচিত ইস্যুগুলো সহজে নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে যায় এবং তারা সেসবের সমাধানে আরো দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেন৷

প্রিজম-এর সাংবাদিক অনিন্দ্য পাল চৌধুরী আশা করেন, ভিডিও প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশের শিশুদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে যা সেসব সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে৷

‘‘বাংলাদেশে অনেক শিশু নির্যাতনের শিকার হয়'', বলেন ১৫ বছর বয়সি শিশু সাংবাদিক চৌধুরী৷ পাশাপাশি শিশুরা প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করা বিভিন্ন সমস্যার এক তালিকাও প্রকাশ করেন তিনি৷ তাংর কথায়, ‘‘শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, শিক্ষা ব্যবস্থার অসহনীয় চাপ এবং শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব হচ্ছে শিশুদের সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম৷''

ভিডিও নিউজ সার্ভিসের আরেক শিশু সাংবাদিক আর্জু মনি দৃষ্টি তাঁর সতীর্থ চৌধুরীর মতো একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন৷ শিশুশ্রম বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত আইন থাকলেও সে আইনের প্রয়োগ উপযুক্তভাবে হচ্ছে না, ফলে শিশুরা অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে৷

‘‘শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ এবং আপত্তিকর কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি, শিক্ষার অধিকার ছেলেমেয়ে সবার জন্য সমান হলেও মেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে'', বলেন তিনি৷

দক্ষতা এবং নৈতিকতা

দুর্নীতিপ্রবণ বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক বিপজ্জনক পেশা৷ বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দূর্নীতির সূচকে ২০১৫ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ১৩তম, আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দুর্নীতির দিক থেকে আফগানিস্তানের পরই দেশটির অবস্থান৷

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বিশ্বাস করেন, শিশু প্রতিবেদকদের সাংবাদিকতার পাশাপাশি নীতিশাস্ত্রও শিক্ষা দেয়া জরুরি৷ তাঁর অনলাইন পত্রিকা প্রিজম-এর জন্য সাংবাদিকদের বাছাই ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে৷

‘‘আমরা তাদের সাংবাদিকতা সম্পৃক্ত নীতি, নৈতিকতা এবং প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন দিক প্রশিক্ষণ দেই৷ শিশু সাংবাদিকদের জন্য আমাদের একটি ‘হ্যান্ডবুক' রয়েছে, যের মাধ্যমে সাংবাদিকতা কী এবং কী কী বিষয় নিউজ তৈরি করে সেগুলো সম্পর্কে ধারণা পায় শিশু সাংবাদিকরা'', জানান খালিদী৷

‘‘শিশুরা অনেকদিক থেকে আমাদের চেয়ে ভালো৷ তারা আমাদের চেয়ে দ্রুত শেখে৷ এবং তারা আরো বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ'', খালিদী যোগ করেন৷

বাচ্চাদের টেলিভিশন চ্যানেলের চাহিদা

বাংলাদেশে বিশটির বেশি টেলিভিশন চ্যানেল থাকলেও শিশুদের জন্য একটি চ্যানেলও নেই৷ অথচ শিশুদের জন্য, শিশুদের দ্বারা পরিচালিত একটি চ্যানেলের চাহিদার কথা শোনা যাচ্ছে দীর্ঘসময় ধরেই৷

যে কারণে শিশু সাংবাদিক চৌধুরী মনে করেন, বাংলাদেশে প্রিজম-এর সত্যিই দরকার ছিল, কেননা দেশটির ৩০ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠীর বয়স ১৪ বছরের নীচে৷ তিনি বলেন, ‘‘শিশুদের জন্য একটি টিভি চ্যানেল আমাদের অনেক কিছু শেখাতে পারে৷ এটা শিশুদের শিশুতোষ ব্যবহার, দায়িত্ব কর্তব্য এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে সহায়তা করবে৷''

দৃষ্টিও মনে করেন, শিশুদের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের দরকার আছে৷ তবে খালিদী, যিনি জানিয়েছেন তাঁর প্রতিষ্ঠানের ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির' অংশ হিসেবে প্রিজম চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন, জানেন যে শিশুদের টিভি চ্যানেল করতে গেলে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন৷

‘‘আমরা শিশুদের জন্য একটা আউটলেট তৈরির জন্য কাজ করছি৷ সমস্যা হচ্ছে, আমরা বর্তমা প্রকল্পগুলো ভর্তুকি দিয়ে চালাচ্ছি৷ তবে আমরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আমরা আরো ভালো করবো এবং এমনকি শিশুদের জন্য একটি অনলাইন টেলিভিশনও চালু হতে পারে৷''

আপনি কি তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে একমত? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়