1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার কী সুপ্ত ক্ষুধা দূর করতে পারে?

বিশ্বে আনুমানিক প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে৷ আফ্রিকা হোক অথবা দক্ষিণ এশিয়া – গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের অভাবে অপুষ্টিজনিত অসুখ-বিসুখে ভুগছে তারা৷ ভিটামিন ও খাদ্যের পরিপূরক কী এই অভাব পূরণ করতে পারে?

সুখবর হলো, বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও ক্ষুধার্ত মানুষের সামগ্রিক সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষ ছিলেন ক্ষুধার শিকার৷ আজ এই সংখ্যাটা ৮৪২ মিলিয়ন৷

তবে বিশ্বের দুই বিলিয়ন মানুষ তথাকথিত ‘সুপ্ত ক্ষুধায়' ভুগছে৷ ফলে তাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ছে৷ ভিটামিনের অভাবজনিত অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে৷ বরণ করতে হচ্ছে অন্ধত্ব৷

Welthungerhilfe Wolfgang Jamann

বিশ্বখাদ্যসংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বোর্ডের চেয়ারম্যান ভল্ফগাং ইয়ামান

ভিটামিনের ঘাটতিতে ভুগছে বহু মানুষ

বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, আফ্রিকার বিস্তৃত অঞ্চল এর আওতায় পড়ে৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনাহারের মতো পুষ্টিহীন খাবারের ওপর নির্ভরশীলতাও মানুষের এক বড় সমস্যা৷ ‘‘যেমন পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বহু মানুষ শুধু ভুট্টার জাউ খেয়ে জীবনধারণ করে৷'' বলেন বিশ্বখাদ্যসংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বোর্ডের চেয়ারম্যান ভল্ফগাং ইয়ামান৷

পেট ভরলেও একপেশে খাবার খেয়ে ভিটামিনের ঘাটতিতে ভুগছে সেখানকার মানুষ৷ একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় সে সব অঞ্চলে, যেখানে ভাতই প্রধান খাদ্য৷ খোসা ছাড়ানো সাদা চালের ভাতে ভিটামিনও তেমন থাকে না৷ এরফলে বিশেষ করে ভিটামিন এ-র অভাবজনিত রোগব্যাধি দেখা দেয়৷ একারণে ৩০০,০০০ থেকে ৭০০,০০০ শিশু মারা যায়৷ চোখের দৃষ্টি হারায় ৩০০,০০০ শিশু৷ আয়োডিন, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের অভাবে ভোগেন গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েরা৷ জন্ম হতে পারে বিকলাঙ্গ ও মানসিক প্রতিবন্ধী বাচ্চার৷ মৃত্যুও হতে পারে বাচ্চার৷

প্রয়োজন খাদ্যপ্রাণ

ভাত ও রুটির মতো প্রধান খাদ্যের পাশাপাশি আমাদের প্রয়োজন ফলমূল, তরিতরকারি এবং ডিম, দুধ, মাছ মাংস৷ এ সব কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই৷ এই সমস্যার একটা সমাধান হতে পারে, যদি প্রধান খাদ্যে এইসব ভিটামিন মেশানো যায়, বলেন ইয়ামান৷

বিশ্বের ৮০টি দেশে এই প্রক্রিয়াটি আইনত বাধ্যতামূলক৷ যেমন জাম্বিয়ায় ভুট্টায় ভিটামিন-এ এবং ডি মেশাতে হয়৷

এছাড়া বাড়িতেও খাদ্যদ্রব্যের সাথে ভিটামিন মেশানো করা যায়৷ যেমন, খাবারের ওপর মাল্টিভিটামিনের পাউডার ছড়িয়ে৷

আরেকটি পদ্ধতি হলো, নতুন প্রজাতির ফসল ও শস্য উৎপাদন করা, যা আপনা আপনি বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ হবে৷

এক্ষেত্রে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মিষ্টি আলু, বিন ও ভুট্টার পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলছে৷ ভারত ও পাকিস্তানে গম, জব ও চাল নিয়ে গবেষণা চলছে৷ এছাড়া এক ধরনের সবজি-কলাও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিশেষজ্ঞদের, যা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ তৈরি করতে পারে৷

আশার আলো নতুন প্রজাতির শস্য

তবে নতুন প্রজাতির শস্য ভোক্তাদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা দেখার বিষয়৷ ‘‘অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাফল্য এখন পর্যন্ত গবেষণাগারেই অর্জিত হয়েছে৷ মানুষ তা কীভাবে নেবে সেব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷''

ফিলিপাইন্সে কৃষিখেতে জিন পরিবর্তন করা ভিটামিন-এ যুক্ত সোনালি ধান চাষ করেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়নি৷ এছাড়া খাদ্যপ্রাণযুক্ত নতুন ধরনের প্রজাতির ফসল উৎপাদন করতে হলে এসব বীজের মূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে চাষিদের৷

নতুন প্রজাতির ফসলের দাম আকাশচুম্বী হলে মূল লক্ষ্য থেকেই বিচ্যুত হতে হবে৷ কেননা ‘সুপ্ত ক্ষুধার' সমস্যা মূলত এক দারিদ্র্যজনিত সমস্যা৷ ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবারের দাম চড়া হলে ভুক্তভোগীরা তা কিনতে পারবেন না, শেষ পর্যন্ত অপুষ্টির সমস্যাটা থেকেই যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন