1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ভাস্কর্য যখন পাপেটের মতো নড়াচড়া করে

জড় বস্তু যদি হঠাৎ সজীব হয়ে ওঠে, নড়াচড়া করে তাহলে তো ভাল লাগারই কথা, তাই না? এমনই এক মনকাড়া প্রদর্শনী সম্প্রতি হয়ে গেল বার্লিনের মেড গ্যালারিতে৷ এর পেছনের কারিগরের নাম ইওয়াখিম সাউটার৷

তিনি ‘আর্ট প্লাস কম' নামক একটি সংস্থার চেয়ারম্যান এবং সেইসঙ্গে সেখানকার প্রধান ডিজাইনার৷ তাদের অনেক প্রদর্শনীর একটির নাম ‘সিম্ফনি সিনেটিক' বা গতির কাব্য৷

ছয় মিনিটের এই প্রদর্শনীতে সোনালি রংয়ের তিন কোণার কিছু কাঠামোকে ওজনহীন অবস্থায় শূন্যে ভাসতে দেখা গেছে৷ এছাড়া রূপালি রংয়ের অ্যালুমিনিয়ামের বাঁকানো কয়েকটি পাত দেয়ালে আলো-আঁধারির খেলায় মেতে ওঠে৷ দর্শকদের কাছে মনে হয়েছে যেন ভাস্কর্যগুলো পাপেটের মতো নড়াচড়া করছে৷

তাই তাদের কেউ বলেছেন, ‘‘আমার ভাল লাগছে৷ আলোর সঙ্গে সংগীতের খেলা আমাকে আন্দোলিত করেছে৷'' আবার কারও মন্তব্য, ‘‘তিন-চার মিনিট ধরে এই ভাস্কর্যগুলোর নাচ সত্যিই দারুণ''৷ আরেকজন বলেন, ‘‘আমার কাছে অবিশ্বাস্য লেগেছে৷ জড় বস্তুগুলো এভাবে প্রাণীর মতো নড়চড় করতে পারে! অসাধারণ৷''

ইওয়াখিম সাউটার বলেন, ‘‘প্রদর্শনীতে যা দেখানো হচ্ছে তা সবই এমন সব ইনস্টলেশনের প্রোটোটাইপ, যেগুলি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে৷ কারণ আকারে বড় হওয়ায় এগুলো সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় না৷ তাই আমরা একই জায়গায় প্রোটোটাইপ-গুলি একত্র করেছি৷''

প্রদর্শনীতে ইওয়াখিম সাউটার প্রথমবারের মতো একজন কম্পোজারের সঙ্গে কাজ করেন৷ আইসল্যান্ডের উলাভুর আর্ডনাল্টস কাঠামোগুলোর গতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সিম্ফনি তৈরি করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘একটি রচনা পিয়ানো, আর আরেকটি হতে পারে তারের ঝংকার৷ এককভাবেও যেমন এই সৃষ্টির আবেদন রয়েছে, তেমন একসঙ্গে হলে নাচের ছন্দে তাদের সিম্ফনি তৈরি হয়৷''

বার্লিনের প্রদর্শনীটা ছিল আর্ট প্লাস কম-এর ২৫ বছর পূর্তিতে এক ধরণের উপহারের মতো৷ ইন্টারনেট আসার পর সংস্থাটি ভার্চুয়াল জগতে অনেক কাজ করেছে৷ এখন আবার বাস্তবে ফিরে আসছে৷ সাউটার এর মতে, ‘‘আমরা যতই ভার্চুয়াল জগতে থাকি, ততই আমাদের বাস্তবে ফিরে মিলেমিশে থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়৷ যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায় মিউজিয়ামে যাওয়া এবং তারপর তথ্য কিংবা আনন্দের অভিজ্ঞতা নেয়া৷''

কয়েকটি কাজের জন্য পুরস্কারও জিতেছেন সাউটার৷ যেমন বিএমডাব্লিউর জন্য করা এই কাজটির কারণে ২০১০ সালে জার্মান সরকারের ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল আর্ট প্লাস কম৷

২০১২ সালে সাউটার নতুন একটা পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হন৷ সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে ১২শো তামার ফোঁটা দিয়ে একটি বিমানের মডেল নির্মাণ করেন৷

ইওয়াখিম সাউটার এবার ওয়াশিংটনে তাঁর পরবর্তী প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করছেন৷ প্রায় ৫০ জনের মতো কর্মী এই সব প্রকল্পের জন্য কাজ করছেন৷ যেমনটা করেছিলেন ২০১০ সালে শাংহাইয়ের ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো'-তে প্রদর্শিত এই ‘আয়না দেয়াল' প্রকল্পের জন্য৷

ইন্টারনেট লিংক