1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভাষার ভিত্তিতে পড়ে গেল সরকার, রাজনৈতিক সংকটে বেলজিয়াম

ভাষা নিয়ে বিবাদে সরকার পড়ে গেল বেলজিয়ামে৷ বেশ জটিল রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই বেলজিয়ামকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নিতে হবে ঠিক দুইমাসের মাথায়৷

default

পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী ইভস লেটারমে

বেলজিয়াম কী শেষ পর্যন্ত দুইভাগে ভাগ হয়ে যাবে? এমনিতেই অত্যন্ত ছোট্ট তার আয়তন৷ তার মধ্যে আবার ফরাসি আর ডাচ ভাষা নিয়ে বিরোধ সেখানে সর্বদাই দেখা যায়৷ এই ভাষা বিরোধকে ঘিরেই সরকারও পড়ে গেল সেদেশে সোমবার৷ প্রধানমন্ত্রী ইভস লেটারমে সমস্যা সমাধান করতে না পেরে গত বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্টের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর পদত্যাগপত্র৷ রাজা অ্যালবার্ট সোমবার সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর সংকট বেশ ঘনীভূতই হল৷ কারণ, আর মাত্র দুইমাসের ভিতর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নিতে হবে বেলজিয়ামকে৷ তার আগে অন্তর্বর্তী নির্বাচন, সরকার গঠন ইত্যাদি সেরে ফেলাটা জরুরি৷

কিন্তু অন্তর্বর্তী নির্বাচনের পথে যদি বেলজিয়াম যায়, সেক্ষেত্রে ভাষার ভিত্তিতে দেশের মধ্যে বড়মাপের ফাটল ধরার আশঙ্কা করছেন খোদ ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডিডিয়ের রেইনডারস৷ গত তিনদিন ধরে রাজা অ্যালবার্টের হয়ে সরকার বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তিনি৷ উত্তর আর দক্ষিণ বেলজিয়ামের যথাক্রমে ফ্লেমিশ আর ওয়ালুন ভাষার বাসিন্দাদের পারস্পরিক বিবাদ শেষে পুরো দেশটাকেই না দুইভাগে ভাগ করে দেয়, রেইন্ডার্সের আশঙ্কা এই নিয়েই৷ রাজা অ্যালবার্টের প্রাসাদ সূত্রে সোমবার ছোট্ট একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন৷ যার অর্থ, নির্বাচন ছাড়া আর অন্য কোন বিকল্প পথ খোলা নেই৷ প্রসঙ্গত, পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী লেটারমে এই ভাষাঘটিত বিবাদ না সামলাতে পেরে এর আগেও দুইবার রাজার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন৷ সে সময় বিভিন্ন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সরকার টিঁকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল৷ কিন্তু, এখন সরকার চালানো একেবারেই অসম্ভব আর তার কারণ হল গোঁড়া ফ্লেমিশরা ভাষার দাবি পূরণ না হলে কোনভাবেই আর জোটে থাকতে রাজি নয়৷ প্রধানমন্ত্রী লেটারমে তাঁর বিদায়ী বিবৃতিতে পুরো পরিস্থিতিটাকে সেভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন৷ বলেছেন, বেলজিয়ামের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে গিয়ে পৌঁছেছে, তাতে আর কোনরকম দ্বিপাক্ষিক আলোচনার রাস্তাটুকুও খোলা নেই৷

বেলজিয়ামের মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই দেশভাগ ভিত্তিক আলোচনা বেশ জোরদার ভাবেই শুরু হয়ে গেছে৷ বেশ কিছু সংবাদপত্রের শিরোনাম দেখা যাচ্ছে ‘বাই বাই বেলজিয়াম'৷ বস্তুতপক্ষে আকারে বিপুল বেড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষেও বিষয়টা হয়ে উঠবে মোটামাপের মাথাব্যথার কারণ৷ আগামী পয়লা জুন যে দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা, তার নিজেরই যদি কোন সরকার না থাকে, ইইউ-র কাজ তাহলে চলবে কী করে ? অতএব সব মহলেরই উদ্বেগের নাম এখন ব্রাসেলস৷ ঘটনাচক্রে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজধানীও ওই একই শহরে৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়