1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অন্যদেরকে জাগ্রত করি'

‘আসুন আমাদের মাতৃভাষাকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করি৷ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অন্যদেরকে জাগ্রত করি৷ ভাষাকে মনের গভীরে ধারন করি৷'-ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় এই মন্তব্য করেছেন এক পাঠক৷

ডয়চে ভেলের পাঠক শাহরিয়ার সুজন লিখেছেন, ‘‘ভালবাসি মা ও মাতৃভাষা, আমরা বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দাবি তুলি,অথচ নিজেদের কাজেই বাংলা কথাটা ব্যবহার করি, কিন্তু কিভাবে করি তা নিয়ে ভাবি না৷''  নিশাত সুলতানা কথা দিয়ে তাঁর মনের কথা প্রকাশ করেছেন, ‘‘এল ফেব্রুয়ারি মাস৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঢুকলেই চোখে পড়ে বিভিন্ন দিবস সম্পর্কিত কত কিছু৷ আমি বুঝি না, কোনটা চকলেট, কোনটা হাগ, কোনটা কিস, কোনটা ভালবাসা ইত্যাদি ইত্যাদি৷ বিশেষত এই দিনগুলি নিয়েই মাসের শুরু থেকে এত মাতামাতি৷ যেখানে জনাকতক লোককে চোখে পড়ে, যারা মাতৃভাষা ‘বাংলা' নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন করে এবং লিখে৷ আমি তাদের সাধুবাদ জানাই৷ তারা স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের সেই পুর্বপুরুষদের কথা, যাঁরা বাংলা ভাষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল৷'' 

‘‘সত্যিই বিস্মিত হতে হয়, মাঝে মাঝে তো গা শিউরে উঠে এই ভেবে যে, কতটা দেশপ্রেমী হলে একজন মানুষ বন্দুকের মুখের সামনে অগ্রসর হওয়ার তাগিদ প্রাণে অনুভব করেন৷ সত্যিই তাঁরা অসাধ্য সাধন করেছিল৷ ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার বিনিময়ে নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল৷ গভীর ধ্যানে থাকলে এটা বুঝতে পারি যে, তাঁরা অসলে মা ও মাতৃভাষাকে সম্পূর্ণভাবে মনে ধারন করতে পেরেছিল৷ আজকের সুশীল সমাজ, আপনাকে বলছি, এই মনে ধারণ করা বলতে শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলাটাকেই বোঝায় না, বরং বাংলাকে প্রাণের ভাষা হিসেবে অন্তরে ধারণ করাটাই বোঝায়৷ কিন্তু আজ এ সুশীল সমাজে ভাষাপ্রেমী ও অনুশীলনকারীর সংখ্যা খুবই কম... প্রায় নেই বললেই চলে৷ ''

তাঁর মতে, ‘‘বিভিন্ন স্তরে বাংলার পাশাপাশি বিদেশি ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্যনীয়৷ প্রয়োজনের তাগিদে, দেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে, অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে বিদেশি ভাষার ব্যবহার করা হোক, এতে ক্ষতির কিছুই নেই৷ তবে বাংলাকে বাদ দিয়ে সেই বিদেশি ভাষা যদি এই বঙ্গতে মুখ্য হয়ে ওঠে, যদি বাংলা ভাষাকে অবমাননা করা হয়, তবে সালাম, বরকত, জব্বার ও অন্যান্য ভাষাশহীদেরা আপনাকে ক্ষমা করবেনা৷ সত্যি বলছি, তাঁরা আবার তাঁদের প্রাণের ভাষাকে রক্ষার্থে এ দেশের বুকে আবির্ভূত হবে৷ ভাষা রক্ষায় করবে বিভিন্ন প্রতিবাদ ও সংগ্রাম৷ ঠিক যেমনটা করেছিল একুশ ১৯৫২ তে৷''

 শেষে নিশাত সুলতানার আহ্বান, ‘‘আসুন আজকে আমাদের এই ভাষাকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করি৷ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অন্যদেরকে জাগ্রত করি৷ ভাষাকে মনের গভীরে ধারন করি৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন