1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘ভাষাই হলো সেতু’ – একটি অসাধারণ উদ্যোগ

ভাষা সমস্যা, সাংস্কৃতিক শক, একাকিত্ব৷ এই ধরনের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় জার্মানির বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের৷ এক্ষেত্রে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে একটি উদ্যোগ: ‘ভাষাই হলো সেতু’৷

ইভা আব্দুল্লা অনেকটা হালকা বোধ করছেন এখন৷ মনটাও প্রফুল্ল৷ অবশেষে ফ্রাইব্যার্গের টেকনিকাল ইউনিভার্সিটিতে তাঁর ডক্টরেটের থিসিস জমা দিতে পেরেছেন৷

কাজটি মোটেও সহজ ছিল না৷ সিরিয়া থেকে আসা ৩৮ বছর বয়সি এই গবেষক জার্মান ভাষায় তাঁর থিসিস লিখেছেন৷ ‘‘বেশ পরিশ্রমের কাজ'', বলেন ইভা৷ ভাষা সংশোধনের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন এক ‘টিউটর'৷ অবসরপ্রাপ্ত হানেলরে উলিশ৷ ফ্রাইব্যার্গের কাছে ছোট্ট এক গ্রামে বাস করেন তিনি৷ ‘‘তাঁর সাহায্য ছাড়া লেখাটা এত তাড়াতাড়ি শেষ করা যেত না'', বলেন ইভা৷

02 Studierende und ihre Tutoren (Foto: Kirsten Hutte / Lichtpunkt e.V.) Online-Artikel über das Projekt Sprache ist Brücke an der TU Freiberg. Das Copyright ist jeweils vermerkt, alle Fotos sind freigegeben. Sie wurden im sächsischen Freiberg aufgenommen (01 im November 2013, 02-04 im September 2012).

ফ্রাইব্যার্গে ‘ভাষাই হলো সেতু’ প্রকল্প

সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ‘টিউটররা'

‘‘দুই বছর আগে আমি থিসিসের প্রথম অংশটা মিসেস উলিশের কাছে সংশোধনের জন্য দিয়েছিলাম৷ সেই সময় আমি ছিলাম সন্তানসম্ভবা৷ মন মেজাজও ভালো থাকতো না৷ ডক্টরেটের থিসিসটা যে আদৌ শেষ হবে তা বিশ্বাসই হতো না৷ মিসেস উলিশ সাহস দিয়ে বলেছেন ‘ইভা তুমি পারবে এটা'৷ আর এজন্য আমি পেরেওছি৷''

টিউটর উলিখ বলেন, বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা মাঝে মাঝে বেশ জটিল বাক্য লেখেন৷ বাক্য পড়ার পর শেষমেষ বোঝা যায় না বিষয়টি কী ছিল৷ তবে সংশোধন করার পর সহজবোধ্য হয়ে ওঠে এটি৷ ইভা এজন্য কৃতজ্ঞ৷

এর আগে রাশিয়া ও চীন থেকে আসা দুই ছাত্রীকেও সাহায্য করেছেন হানেলরে উলিশ৷ আরো ৩০ জন টিউটরও আছেন এই কর্মসূচিতে৷

২০১০ সালে যাত্রা শুরু

ফ্রাইব্যার্গের টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি ‘আলোর বিন্দু' নামে একটি সমিতির সঙ্গে মিলে ২০১০ সালে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তা করার জন্য এই প্রকল্পটি চালু করেন৷ কেননা ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সের অনেক ছাত্রছাত্রীই ভাষা সমস্যায় হিমশিম খান৷ দৈনন্দিন জীবনেও ভাষার বাধাটা কম নয় তাদের৷

সম্প্রতি অসাধারণ কাজের জন্য প্রকল্পটি জার্মানির বিদেশ দপ্তরের বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে৷ বন শহরে ডিএএডি আয়োজিত এক সম্মেলনে ২০, ০০০ ইউরো অর্থমূল্যের পুরস্কারটি উদ্যোক্তাদের হাত তুলে দেওয়া হয়৷

বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি একটি বড় রকমের সাহায্য৷ এর ফলে তাদের লেখার গুণগত মান বৃদ্ধি পায়, বলেন টেকনিকাল ইউনিভার্সটির মানুয়েলা ইয়ুংহাউস৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০০ বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি৷ এর মধ্যে ২০০ জন এই ভাষা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন৷

নানা ধরনের তৎপরতাও চলে

এই কর্মসূচিতে শুধু ভাষা-সাহায্যই নয় নানা ধরনের কর্মকাণ্ডও চালানো হয়৷ বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা রূপকথার সন্ধ্যার আয়োজন করেন৷ পড়ে শোনান স্বদেশের গল্প কাহিনি৷ প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর তারা তাদের স্বদেশ ও সেখানকার শিক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কে টিউটরদের কাছে তুলে ধরেন৷ জানান জার্মানিতে কত বাধা বিপত্তি তাদের অতিক্রম করতে হচ্ছে৷

গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব

এই ভাষা-সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী ও টিউটরদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে৷ বলেন ‘আলোর বিন্দু' সমিতির কির্স্টিন হুটে৷ প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের একজন তিনি৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘প্রথম দিকে আমরা বিশেষ করে পেনশন নেওয়ার বয়সি কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁরা অবৈতনিক এই কাজটি করতে ইচ্ছুক কিনা৷ খুব শিগগিরই ২০ জন যোগাযোগ করেন আমাদের সঙ্গে৷''

ইভা আব্দুল্লাহ হানেলরে উলিশকে খুব পছন্দ করেন৷ শুধু টিউটরই নয় একজন কথা বলার সঙ্গী ও তাঁর তিন সন্তানের ‘পালক-নানি' হিসাবেও৷ ইভা জানান, ‘‘সিরিয়ায় সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে আমার মা-বাবা পরিবার পরিজনের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি৷ মিসেস উলিশ ও তাঁর স্বামী আমার মা-বাবার মতো৷ তাঁরা প্রয়োজন হলে আমার বাচ্চাদের দেখাশোনাও করেন, দাওয়াত দেন৷ এজন্য আমরা স্বদেশকে তেমন মিস করি না৷''

04 Treffen von Sprache ist Brücke (Foto: Kirsten Hutte / Lichtpunkt e.V.) Online-Artikel über das Projekt Sprache ist Brücke an der TU Freiberg. Das Copyright ist jeweils vermerkt, alle Fotos sind freigegeben. Sie wurden im sächsischen Freiberg aufgenommen (01 im November 2013, 02-04 im September 2012).

এই ভাষা-সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী ও টিউটরদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে

কথাগুলি হানেলরে উলিশকে আবেগাপ্লুত করে৷ একদিকে যেমন গর্ববোধ করেন, অন্যদিকে কিছুটা চিন্তামগ্নও হন তিনি৷ সিরিয়ার সমস্যাগুলি এখন আগের চেয়ে অনেক স্পষ্ট তাঁর কাছে৷ সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন, যদি সেখানে শান্তি ফিরে আসতো আর আব্দুল্লাহ পরিবার স্বদেশে ফিরে যেতে পারতেন৷ ‘‘তাদের অভাব অনুভব করলেও যত শিগগির সম্ভব সিরিয়ায় তাদের দেখতে যেতাম'', বলেন হানেলরে উলিশ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন