1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

Virtual Reality

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির জগৎ ঢুকে পড়লো সিনেমায়

ভিডিও গেম খেলার সময় ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি গগলস অনেকেই পরেন৷ ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি যদি ৩৬০ ডিগ্রি অল-অ্যারাউন্ড ভিউ আর থ্রিডি হয়? লন্ডনের হ্যাপি ফিনিশ কোম্পানি এই অভিজ্ঞতাকেই কাহিনিচিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের কাজে লাগাচ্ছে৷

ভবিষ্যতের সিনেমা কেমন দেখতে হবে? সব দর্শক কি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির চশমা পরে অন্য এক জগতে ডুবে থাকবেন?

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি কিন্তু ধীরে ধীরে সিনেমা হলে ঢুকে পড়ছে৷ লন্ডনের ‘হ্যাপি ফিনিশ' কোম্পানি ফিল্মে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির ক্ষেত্রে পথিকৃৎ বলা চলে৷

এখন পর্যন্ত ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির শুধু ছোট ছোট ভিডিও আছে৷ তবে তারা ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিকোণের আর সেই সঙ্গে ত্রিমাত্রিকও বটে৷হ্যাপি ফিনিশ-এর ভিআর-বিশেষজ্ঞ এড ও'ব্রায়েন জানান, ‘‘আমি যখন পর্দায় ছবিটা দেখছি, তখন আমায় এভাবে মাউস ব্যবহার করে ঘোরাফেরা করতে হচ্ছে৷ কিন্তু গগলস থাকলে আমি গগলসটা নাড়াচাড়া করলে সেটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার ভিউটা অ্যাডজাস্ট করে দেয়৷ কাজেই আমি এই এফেক্টটা পাই৷ বস্তুত যেন বাস্তবে চারদিক ঘুরে দেখছি৷''

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটিতে ফিল্ম তৈরি হলে দর্শক বিভিন্ন সিন ও প্রাকৃতিক দৃশ্যে অংশ নিতে পারবেন৷ কিন্তু কাহিনির কি হবে? হ্যাপি ফিনিশ কোম্পানিতে একটি পুরোপুরি ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ভিডিওতে কাহিনিচিত্রের উপাদান ঢোকানো নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে৷ দুই থেকে ১৬টি ক্যামেরা যুগপৎ ছবি তুলছে৷

আওয়াজ কিংবা আলোর এফেক্টের ফলে দর্শক হয়ত যেখানে অ্যাকশন চলছে, সেদিকে তাকাচ্ছেন না৷ ফলে কাহিনিটা দর্শকের কাছে পুরোপুরি বোধগম্য হচ্ছে না৷ হ্যাপি ফিনিশ-এর অন্য এক ভিআর-বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল চিথাম বললেন, ‘‘স্পষ্টতই এই ঘরের দু'টি মুখ্য চরিত্র এই জানলাটার কাছে, আমি তাদের দিকে দেখছি৷ কিন্তু ঘরের চারদিকে দেখতে পারি বলে আমি আরো বেশি তথ্য পেতে পারি, পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারি৷ আমি বাস্তবিক এখানে, আমি এই পরিবেশের অঙ্গ, এই অভিজ্ঞতায় আমিও উপস্থিত৷ আবার অপ্রত্যাশিত অনেক কিছু থাকতে পারে, যা আপনি দেখতে পারেন যদিও গল্পের কাহিনিতে তার কোনো ভূমিকা নেই, কিন্তু তারা প্রসঙ্গটা বুঝতে সাহায্য করে৷''

বার্লিনের এই পপ-আপ ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি সিনেমা হলে দর্শক বিভিন্ন ধরনের শর্ট ফিল্ম দেখতে পান৷ তার মধ্যে একটি ভিডিও ফিল্মে জর্ডানের একটি উদ্বাস্তু শিবিরও পরিদর্শন করা যায়৷ একটি অ্যাপ থাকলে সেল ফোন দিয়ে পুরো ভিডিওটা ৩৬০ ডিগ্রি অপটিকে দেখতে পাওয়া যায়, তবে শুধু দিমাত্রিক ভাবে৷ থ্রিডি চশমা পরে থাকলে গোটা অল-অ্যারাউন্ড ভিউটাই থ্রিডি-তে পাওয়া যায়৷

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটিতে তৈরি ফিল্ম সংবাদপ্রদান বা তথ্যচিত্রের ফরম্যাটে বিরাট উন্নতি ঘটাতে পারে৷ ফিল্মে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির সীমাটা যে ঠিক কোথায়, তা এখনও পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়৷ আগামী কয়েক বছরে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে৷

ভিআর-বিশেষজ্ঞ এড ও'ব্রায়েনের কথায়, ‘‘আপনি আরো অনেক বেশি তথ্য পাচ্ছেন ও সেটা আপনার ইন্দ্রিয়গত অনুভূতির সাথে এমনভাবে জড়িত যে, সিনেমায় তা হওয়া সম্ভব নয়৷ ভিআর-এ আমরা দৃশ্যপটের অনুকরণ, শব্দের অনুকরণ, আমাদের হাতগুলো কীভাবে অন্যান্যদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করছে, সেটা দেখা – ভার্চুয়াল রিয়্যালিটিতে এ সব বাড়তি উপাদান আছে, যা সিনেমায় নেই৷ সিনেমাকে এর পাশে বেশ প্রাথমিক বলে মনে হবে৷''

সিনেমা হলে কিংবা বাড়িতে ভিআর গগলস পরে বসে কি মানুষের ভালো লাগবে? দর্শকরা ভার্চুয়াল জগতে যা দেখছেন, বাস্তব জগতের কোনো মানুষের সঙ্গে তা ভাগ করে নিতে পারলে তারা আপাতত আরো খুশি হন বলেই মনে করা হচ্ছে৷

ইয়ানা ও্যর্টেল/এসি

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়