1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ভারী শিল্প থেকে হাইটেক: সাফল্যের কাহিনি

অনেকের কাছেই ‘মেড ইন জার্মানি' মানেই উচ্চ মানের পণ্য৷ তবে অতীতের ভারী শিল্পের জায়গায় আজ সমাদর পাচ্ছে হাইটেক যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ৷ তবে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের পাট চুকিয়ে আধুনিক যুগের পথে পাড়ি দেবার প্রক্রিয়া ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা৷

ছিল ইস্পাত কারখানা৷ প্রথমে বন্ধ হলো৷ তারপর খুলে ফেলা হলো৷ সবশেষে জাহাজে করে চীনে পাঠিয়ে দেওয়া হলো৷ ডর্টমুন্ড শহরের ইস্পাত শিল্প শেষ হয়ে গেল৷ ১৪ বছর পর একই জায়গায় শোভা পাচ্ছে ফ্যোনিক্স লেক৷ গোটা এলাকার বিবর্তনের প্রতীক এটি৷ পারিবারিক কোম্পানির প্রধান ক্রিস্টিয়ান ফ্রয়েন্ডলিব বলেন, ‘‘আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে৷ ২০০১ সালের ২৬শে এপ্রিল ছিল কারখানার শেষ দিন৷ সন্ধ্যাবেলায় আমার জন্মদিনের পার্টি ছিল, রাত বারোটার সময় যাতে জন্মদিনকে স্বাগত জানানো যায়৷ বাবা হঠাৎ বললেন, আমাকে এখনই যেতে হবে৷ আমি প্রশ্ন করলাম, কোথায় যেতে চাও? বললেন, ইস্পাত কারখানায় শেষ কাজ আমাকে দেখতেই হবে৷ তাঁর চাকরি জীবনে এই কাজের অসীম গুরুত্ব ছিল৷''

রাতারাতি এই পারিবারিক কোম্পানির ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ এক শাখা গায়েব হয়ে গেল৷ আগে তারা ব্লাস্ট ফার্নেস-এর প্রাচীর তৈরি করতো৷ যখন ইস্পাত কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, তখন কোম্পানির ১০০ বছর পূর্তি উৎসব পালিত হচ্ছিল৷ ফলে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও সামনে এসে পড়লো৷ আগে যেখানে ইস্পাতের কারখানা ছিল, এখন সেখানে আবার নির্মাণের কাজ চলছে৷ মিশায়েল ফ্রয়েন্ডলিব নির্মাতাদের একজন৷ এখানে তিনি প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গ মিটার এলাকার অফিস ভবন তৈরি করাচ্ছেন৷ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন, কারণ মালিক জুন মাসেই ভবনে ঢুকতে চান৷ প্রায় ৭৫ জন কর্মী সেখানে কাজ করবেন৷

কোম্পানির নতুন দপ্তর৷ একেবারে ফ্যোনিক্স লেকের তীরে৷ বেশ দামি নতুন ভবন৷ এমন সুন্দর দৃশ্যের জন্যও বাড়তি দাম দিতে হয় বৈকি৷ মাইক্রোসনিক কোম্পানির প্রধান ইয়োহানেস শুলটে বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমরা অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছি৷ তবে এর মাধ্যমে আমাদের কর্মীদের জন্য সুন্দর কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে৷ বিশেষ করে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ হাই-টেক কর্মীদের জন্য এমন আকর্ষণীয় কাজের জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ৷''

ডর্টমুন্ড শহর কর্তৃপক্ষও এমনটা আশা করছে৷ লেক ও তার পাশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার জন্য ৭ কোটি ইউরো ব্যয় করা হয়েছে৷ তবে অনেক সাইট এখনো খালি পড়ে রয়েছে৷ ইয়োহানেস শুল্টে-র জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের পত্তন ভবিষ্যতের দিশায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি৷ এতে তাঁর নিজেরও সুবিধা হয়েছে৷

১৯৯০ সালে তিনি এখানে নিজের কোম্পানি শুরু করেন৷ প্রিন্টার সহ অন্যান্য যন্ত্রের জন্য আলট্রাসাউন্ড সেন্সর-এর ক্ষেত্রে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ৷ তাঁর সহকর্মীরা খুবই ছোট জায়গায় কাজ করেন৷ তাই তিনি উৎপাদন ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ফ্যোনিক্স লেকের সাইটে নিয়ে যেতে চান৷ ইয়োহানেস শুলটে বলেন, ‘‘এটা অবশ্যই কাঠামোগত পরিবর্তন৷ ভারী শিল্পের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই৷ আমাদের গ্রাহকরাও ডর্টমুন্ডের নয় – জার্মানি, ইউরোপ সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে৷ সারা বিশ্বে আমরা আমাদের সেন্সর রপ্তানি করি৷ পুরানো কাঠামোর সঙ্গে এমন হাইটেক পণ্যের কোনো সম্পর্ক নেই৷ তা সত্ত্বেও এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যেই আমাদের শিকড়৷

ফ্যোনিক্স লেক এখনো কিছুটা হলেও ইস্পাত শিল্পের কথা মনে করিয়ে দেয় – এবং তার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৮,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা৷ আজ সেখানে আধুনিক ভবন শোভা পাচ্ছে৷ প্রায় সব জমি বিক্রি হয়ে গেছে৷ ইস্পাত কারখানার প্রাক্তন শ্রমিকের লেকের ধারে ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য নেই৷ ডর্টমুন্ডে শিল্পজগতের কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে যাদের লাভ হয়েছে, তারাই এখানে থাকেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক