1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বিটিং দ্য রিট্রিট' অনুষ্ঠান

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেকপোস্টে ২রা অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ভারত-পাকিস্তানের ওয়াগা সীমান্তের ধাঁচে ‘বিটিং দ্য রিট্রিট' অনুষ্ঠান৷ ওয়াগা সীমান্তের মতো এ অনুষ্ঠানের প্রকাশভঙ্গি লড়াকু নয়, বরং মিত্রতার৷

২০১১ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ডিরেক্টর-জেনারেল স্তরের সমন্বয় কমিটির এক বৈঠকে স্থির হয়েছিল যে, দু'দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেকপোস্টে ‘বিটিং দ্য রিট্রিট' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে৷ অনুষ্ঠানটিকে দর্শনীয় এবং আকর্ষণীয় করার জন্য এর মূল সুরভি হবে উভয় দেশের সাংস্কৃতিক নৈকট্য৷ ৩০ মিনিটের এই অনুষ্ঠানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হবে দু'দেশের জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহামিলনের ঐক্যতানে৷ যাঁরা দেখতে আসবেন,স্মৃতি-মেদুরতায় তাঁদের যেন মনে পড়ে যাবে দু'দেশের অভিন্ন ইতিহাসের কথা৷

আস্থাবর্ধক বার্তা ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী বন্ধনই এর মূল থিম৷ এই অনুষ্ঠান হবে শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত, প্রতি সপ্তাহান্তে মাসে একবার কিংবা দুবার৷ ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিএসএফ এ জন্য নিয়েছেন কন্ঠশিল্পী নির্মাল্য রায়কে৷ কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন অলকানন্দা রায়৷ অনুষ্ঠানের সময় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও যোগ দিতে পারবে৷ এতে কুচকাওয়াজ প্যারেড ছাড়াও থাকছে নাচ-গান৷

প্রথম অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে ভারতের দিকে পেট্রাপোল ও বাংলাদেশের দিকে বেনাপোল চেকপোস্টে ২রা অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীর দিনে৷ পরে তা বাড়ানো হবে চ্যাংড়াবান্ধা-বুড়িমারি, ত্রিপুরার আখৌড়া-ফুলবাড়ি সীমান্ত চেকপোস্টে৷

যুদ্ধক্ষেত্রে দিনাবসানে নিজ নিজ পতাকা নামিয়ে সেনাদের শিবিরে ফিরে যাওয়াকে ঘিরে যে অনুষ্ঠান, তারই নাম ‘বিটিং দ্য রিট্রিট'৷ বিএসএফ-এর দক্ষিণ বাংলা শাখার ডিআইজি এস.পি তেওয়ারি বলেন, ‘ফ্ল্যাগ অফ' অনুষ্ঠান হবে সূর্যাস্তের আগেই৷ দু'দেশের ২০ জন করে জওয়ান ১৫০ গজ দূর থেকে মার্চ করে জিরো লাইনের গেট পর্যন্ত গিয়ে নিজেদের দিকের গেট খুলবেন৷ আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ শেষে দু'দেশের প্রতিনিধি অফিসারদের করমর্দন এবং তারপর আবার নিজ নিজ স্থানে ফিরে যাওয়া৷

ভারত- পাকিস্তানের মধ্যে ওয়াগা হলো একমাত্র আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেকপোস্ট যেখানে এটা অনেকদিন ধরেই এটা চলে আসছে৷ তবে বিকেলে পতাকা নামানোর ঐ অনুষ্ঠানের সময় পাকিস্তানি রেঞ্জার এবং বিএসএফ জওয়ানদের দেহের অঙ্গভঙ্গির মধ্যে সাধারণত ফুটে ওঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটা লড়াকু মানসিকতা৷ ভারত-বাংলাদেশের ঐ অনুষ্ঠান হবে ঠিক তার বিপরীত৷ থাকবে মৈত্রীর আবহে সুরধ্বনির মূর্ছনা৷

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় বিতর্কিত রাডক্লিফ কমিশন অবিভক্ত পাঞ্জাবের বিভাজন রেখা টানে পাঞ্জাবের ওয়াগা গ্রামের মধ্য দিয়ে৷ ওয়াগা গ্রামের পূর্ব দিকটা পড়ে ভারতে আর পশ্চিম দিকটা চলে যায় পাকিস্তানের দিকে৷ ওয়াগা লাহোর থেকে ২২ কিলোমিটার এবং অমৃতসর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত৷ এটাই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র স্থলসীমা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়