1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে উদ্দীপ্ত দুদেশের জাতীয়তাবোধ

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনাল ম্যাচের নেপথ্যে চলেছে ক্রিকেট কূটনীতি৷ প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর আমন্ত্রণে খেলা দেখতে এসেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি৷

default

মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উত্তেজিত দর্শক

মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখন চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, স্নায়ুযুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন নেপথ্যে ক্রিকেট কূটনীতির হাত ধরে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দর্শক হিসেবে আসা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মধ্যে চলেছে আলোচনা – যার উদ্দেশ্য কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলানো যায়৷ আজ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজে মিলিত হন দুদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ প্রধানমন্ত্রী গিলানির সঙ্গে এসেছেন এক বড় শুভেচ্ছা প্রতিনিধিদল যার মধ্যে আছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক৷ উঠেছেন তাঁরা চন্ডীগড়ের তাজ হোটেলে৷ প্রধানমন্ত্রী ড.মনমোহন সিং-এর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন৷ কংগ্রেস পার্টির তরফে নৈশভোজে যোগ দেন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী৷ উভয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে তাঁরা আন্তরিক৷ বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবার এটা একটা সুযোগ৷

Indien Cricket WM 2011 Halbfinale Indien Pakistan

মোহালিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখন চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, অন্যদিকে ক্রিকেট কূটনীতিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ক্রিকেট কূটনীতির সাফল্য সম্পর্কে কিন্তু সন্দিহান৷ তাঁরা মনে করেন, অতীতে একাধিকবার ক্রিকেট কূটনীতির হাত ধরে এসেছিলেন পাকিস্তানের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক, পারভেজ মুশাররফ৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার কোন স্থায়ী প্রভাব পড়েনি৷

ডয়চে ভেলেকে একই কথা বললেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. অমল মুখোপাধ্যায়৷ বললেন, ক্রিকেট কূটনীতি নিছক একটা সৌজন্যমাত্র৷ এর মানে এই নয় একটা বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে৷ ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি যে হচ্ছেনা, তার আসল কারণটা হচ্ছে যে পাকিস্তানে একটা পোক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি৷ দুর্বল গণতন্ত্রে আসল কলকাঠি সেনাবাহিনীর হাতে৷ গণতান্ত্রিক কর্তৃপক্ষ বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে পারছেনা৷ পাকিস্তানের সেনাশাসকরা তাদের কর্তৃত্বকে বৈধতা দিতে ভারত বিদ্বেষের জিগির জিইয়ে রাখে৷ পাকিস্তানে যতদিন না একটা স্বয়ম্ভর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে,ততদিন সমস্যার সমাধান হবেনা৷ আলোচনা হয়ত চলবে৷ মনে রাখা দরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির সৌহার্দমূলক পাকিস্তান সফরের পরই হয়েছিল কার্গিল আগ্রাসন৷ ড. মুখোপাধ্যায়ের মতে, আজকের বাংলাদেশের মত পাকিস্তানে একটা সুস্থ ও বলিষ্ঠ সুশীল সমাজ গড়ে উঠলে সেই সুশীল সমাজের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে উঠলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হতে পারে৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন