1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারত, পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে জড়িয়ে আছে নানা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ইস্যু৷ তবু চলমান সময়ের প্রয়োজনে ও দুদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য থেমে থাকতে পারে না৷ কিন্তু এখনো সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি কেন?

স্বাধীনতার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটার পর একটা বাধা এসেছে৷ কাশ্মীর বিরোধ, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯৯ সালের কার্গিল সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ রেখায় সঙ্ঘর্ষ এবং সর্বোপরি সন্ত্রাস৷ বহুবার উভয় দেশ আলোচনায় বসেছে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের লক্ষ্যে৷ যেমন সিমলা চুক্তি, আগ্রা শীর্ষ সম্মেলন, লাহোর শীর্ষ সম্মেলন৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে৷ তাতে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুদেশের ব্যবসা বাণিজ্য৷

রাজনৈতিক ও সীমান্ত বিরোধ সত্ত্বেও উভয় দেশ বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আশাবাদী৷ পাক কূটনৈতিক মহল বলছে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পাকিস্তান কৃতসংকল্প৷ তার রোডম্যাপও তৈরি৷ তবু কেন হচ্ছে না, সেটাই প্রশ্ন৷

২০১২ সালের শেষাশেষি ভারতকে সবথেকে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদা অর্থাৎ এমএফএন স্ট্যাটাস দেবার কথা বলেছিল ইসলামাবাদ৷

Grenze zwischen Indien und Pakistan Grenzübergang Wagah

সড়ক পথে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য আটারি-ওয়াগা সীমান্তে সুসংহত চেক-পোস্ট খোলা হয়েছে

কিন্তু তা এখনও দেয়া হয়নি৷ পাকিস্তানের আসন্ন নির্বাচনের পর নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত তার আশা নেই৷ এমএফএন স্ট্যাটাস অনুসারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলি একে অপরকে সমানভাবে মাশুল ও শুল্ক সুবিধা দেবে৷ ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য৷

ভারতকে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদা না দেবার কারণ কী? অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মনে করেন, এক, পাকিস্তানের কৃষিজীবী লবি৷ তাঁদের মতে, ভারতে কৃষকরা যে পরিমাণ ভরতুকি পায়, পাকিস্তানি কৃষকরা তা পায় না৷ সেটা না পেলে ভারতের কৃষিজাত পণ্য আমদানির বিরোধী তাঁরা৷ পাকিস্তানের বাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এঁটে ওঠা যাবে না৷ একই আশঙ্কা ঔষধ কোম্পানি, অটো পার্টস, সিন্থেটিক কাপড় ব্যবসায়ীদের৷ ২০০৬ সালে চীনের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তির অভিজ্ঞতা তাই বলছে৷ দুই, ভারতীয় পণ্য আমদানির নেগেটিভ তালিকায় আছে ১,২০০ পণ্য যা ভারত রপ্তানি করতে পারবে না৷ ভারতেরও আছে, তবে অনেক কম৷

বর্তমানে ভারত-পাক বাণিজ্য হয় তৃতীয় দেশের মাধ্যমে৷ তাতে সময় এবং খরচ হয় বেশি৷ সড়ক পথে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য আটারি-ওয়াগা সীমান্তে সুসংহত চেক-পোস্ট খোলা হয়েছে৷ চালু করা হচ্ছে রেলপথে কন্টেনার সার্ভিস৷ এতে সড়কপথে মাল পাঠানোর চেয়ে খরচ পড়ে কম৷ পাশাপাশি, দুদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য শিথিল করা হয়েছে ভিসা নিয়ম৷

বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ায় ২০১১-১২ সালে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের মত৷ গত বছর ভারতে পাকিস্তানের রপ্তানি ৫০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৮ কোটি ডলার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়