1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে সেল্ফি তুলতে গিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনা

স্মার্টফোনের এই যুগে সেল্ফি তোলাটা যেন একটা আসক্তি৷ আর এই আসক্তি হতে পারে বিপজ্জনক৷ ভারতে গত কয়েক বছরে সেল্ফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে৷

গত সপ্তাহে ভারতের রাজস্থানে বিশাল এক সাপের সঙ্গে সেল্ফি তোলার শখ হয়েছিল এক ব্যক্তির৷ সেল্ফি তোলার সময় সাপটা ঐ ব্যক্তির কাঁধে ছোবল মারে৷ ঐ ব্যক্তির ভাগ্য ভালো থাকায় বেঁচে যান৷ কিন্তু সবার ভাগ্য কি এত সুপ্রসন্ন হয়! ভারত জুড়ে এমন মৃত্যুর বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে৷ তবে কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সেল্ফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে৷

সেল্ফি যাতে খুব সুন্দর হয় সেজন্য অনেক মানুষ বিপদকে উপেক্ষা করে অনেক জায়গায় বা পরিস্থিতে চলে যায়৷ যেমন রেল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সেল্ফি অথবা সমুদ্রের একেবারে গভীরে গিয়ে সেল্ফি বা পর্বতের চূড়ায় উঠে সেল্ফি৷ চলতি বছরের মে মাসে পাঞ্জাবে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সেল্ফি তুলতে গিয়ে এক কিশোর ছবির বোতাম টিপতে গিয়ে ভুল করে ট্রিগার টিপে দেয়৷ ফলাফল মৃত্যু৷

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একজন সেল্ফিভক্ত

জুলাই মাসে এক ব্যক্তি গঙ্গা নদীতে সেল্ফি তুলতে গিয়ে ডুবে যায়, আর তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে সাত বন্ধু নদীতে ডুবে প্রাণ হারায়৷ সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তেলেঙ্গানায় একটি পাথরের উপর দাঁড়িয়ে সেল্ফি তোলার চেষ্টা করছিল ছয় ছাত্রী৷ এক ছাত্রী সেখান থেকে লেকে পড়ে যায়, বাকিরা তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যায়৷

নতুন দিল্লির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সঞ্জয় শ্রীবাস্তব ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ভারতে সেল্ফি তোলার যেন হিড়িক পড়েছে৷ তরুণ প্রজন্ম একে অপরকে ‘ইমপ্রেস', মানে মুগ্ধ করতে সেল্ফি তোলে৷ এমনকি বিপদেরও পরোয়া করে না তারা৷'

সবাই বিখ্যাত হতে চায়

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের মধ্যে সেল্ফি তোলার প্রবণতা বেশি৷ মানুষের আচার-আচরণ নিয়ে কাজ করেন কুলদ্বীপ সিং৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে৷ বড় বড় শহরগুলোতে তরুণ প্রজন্ম মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে আগ্রহী৷ তারা প্রত্যেকেই বিখ্যাত হতে চায়৷ আর সে কারণেই সেল্ফি তোলে৷''

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা নিউজগ্রাম বলছে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বিপজ্জনক স্থানে সেল্ফি তোলার হিড়িক বাড়ছে৷ তাই কেবল বিপজ্জনক স্থানে বা পরিস্থিতিতেই নয়, বিষধর সাপ এমনকি প্রাণীর সঙ্গে সেল্ফি তুলতে আগ্রহী তারা৷

সংস্থাটি বলছে, ‘এর ফলে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে, আহতও হচ্ছে অনেকে৷ সবচেয়ে দুঃখজনক হলো এই ধরনের সেল্ফি মৃত্যু ডেকে আনছে৷'

নিরাপদ সেল্ফি

ভারতে, সেল্ফি তোলার জন্য স্মার্টফোনের বিক্রি হু হু করে বেড়েই চলেছে৷ আগামী বছরে এই বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্মার্টফোনের বিক্রিকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ২২ কোটিরও বেশি৷ তাই সরকার জনসাধারণকে স্মার্টফোন ব্যবহারে সচেতন করে তুলতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে৷ বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহারে বিশেষ বিশেষ দিক নির্দেশনা দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার৷

বন্ধু, আপনিও কি ‘সেল্ফি’ তুলতে ভালোবাসেন? কত ঘনঘন তোলেন আপনি সেল্ফি? লিখুন নীচে৷

মুরালি কৃষ্ণন/এপিবি

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন